Published : 30 Nov 2025, 08:27 AM
শেখ মেহেদি হাসান যখন ব্যাট হাতে নামছেন, ম্যাচ তখন দুলছে উত্তেজনার দোলাচলে। বাংলাদেশের সামনে কিছুটা হলেও পরাজয়ের চোখরাঙানি, আইরিশরা বেশ উজ্জীবিত। তবে মেহেদির মনে জমা হয়নি দুর্ভাবনার মেঘ। তার কেবল ভাবনায় ছিল, একটি বাউন্ডারিই যথেষ্ট শঙ্কার আঁধার সরিয়ে দিতে।
আয়ারল্যান্ডের ১৭০ রান তাড়ায় একসময় বড় জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে ৩১ বলে ৩৩ রান প্রয়োজন ছিল, উইকেট বাকি তখনও ৮টি। ৩৬ বলে ৫৭ রান নিয়ে তখন খেলছিলেন লিটন কুমার দাস।
মেহেদির ব্যাটিং অর্ডার বেশ নিচে। তাকেও ব্যাটিংয়ে নামতে হবে, এটা তখন তার ভাবনাতেও থাকার কথা নয়। যদিও ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিশ্চিত কিছুই তারা ধরে রাখেন না।
“এটা তো আসলে প্রত্যাশা করার ব্যাপার নয়। টি-টোয়েন্টি খেলায় যে কোনো সময় মোমেন্টাম বদলে যেতে পারে। ওদের যেমন ৬ ওভারে ৮০ রান (৭৫) ছিল, পরে আর অত রান করতে পারেনি। কিন্তু ক্রিকেট এমন যে, হতে পারে যে কোনো কিছুই। এজন্য সবসময় প্রস্তুত থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে মনে হয়।”
পঞ্চদশ ওভারের শেষ বলে লিটন যখন বিদায় নিলেন, তখনও বিপদের ঘণ্টা বাজেনি। তবে পরের ওভারেই বিদায় নেন সাইফ হাসান। এরপর তাওহিদ হৃদয় (৯ বলে ৬) ও নুরুল হাসান সোহানের (৭ বলে ৫) অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ে দলের সম্ভাবনার শ্বাসরোধ হতে থাকে।
লিটনের বিদায়ের পর ১৬ বলে রান আসে কেবল ১১। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন যখন ক্রিজে যান, ১৪ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন তখন ২২ রান।
সাইফ উদ্দিন ক্রিজে গিয়ে প্রথম বলেই বাউন্ডারি পেয়ে যান, পরের বলে আসে দুই রান। তবে বিপদের শেষ হয়নি তখনও। পরের ওভারে সোহানের বিদায়ে মেহেদি যখন ক্রিজে যান, তখনও প্রয়োজন ১০ বলে ১৪ রান। হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ারই পরিস্থিতি।
তবে মেহেদি বললেন, তার মনে কোনো ভয় উঁকি দেয়নি। সাইফ উদ্দিনের সঙ্গে এরকম কোনো আলোচনা হয়নি বলেও দাবি তার।
“না না… এমন কোন কথা হচ্ছিল না। যেহেতু বল টু বল খেললেই হতো, জানতাম আমরা একটা বাউন্ডারি হলেই জিতে যাব। এমন কোনো আলোচনা হয়নি যে জটিল পরিস্থিতি… নরমাল… একটা বাউন্ডারির খেলা ছিল।”
শেষ পর্যন্ত অবশ্য হয়েছে তেমনটিই। তিন বলের মধ্যে একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে দেন সাইফ উদ্দিন। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে স্রেফ তিন রানের। জশ লিটলের করা ওভারে প্রথম দিন বলে দুই রান এলেও চতুর্থ বলে বাউন্ডারি খেলা শেষ করে দেন মেহেদি।
ম্যাচের প্রথম ভাগে বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ের ভিতও গড়ে দেন এই অফ স্পিনারই।