বিগ ব্যাশ
Published : 03 Jan 2026, 05:14 PM
বল হাতে শুরুটা ভালোই করলেন রিশাদ হোসেন। নিজের প্রথম ওভারেই ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করলেন তিনি। কিন্তু ফিল্ডারের ব্যর্থতায় হতাশ হতে হলো তাকে। আঁটসাঁট বোলিং করলেও, ম্যাচে শেষ পর্যন্ত আর শিকার ধরতে পারলেন না হোবার্ট হারিকেন্সের বাংলাদেশি লেগ স্পিনার।
২৬ রানে জীবন পাওয়া ওয়ার্নার পরে ব্যাট হাতে তোলেন ঝড়। ইনিংস শুরু করতে নেমে শেষ পর্যন্ত খেলে করেন ১৩০ রান। ৯ ছক্কা ও ১১ চারে ৬৫ বলের অপরাজিত ইনিংসটি সাজান সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক।
বিগ ব্যাশে শনিবার ঝড়ো ইনিংসটি খেলেন ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১১-১২ মৌসুমে নিজের অভিষেক আসরে করেছিলেন প্রথমটি।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এনিয়ে নবমবার শতক স্পর্শ করলেন অস্ট্রেলিয়ার এই তারকা ওপেনার। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় ভারতীয় গ্রেট ভিরাট কোহলি ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলো রুশোর সঙ্গে তৃতীয় স্থানে তিনি।
৪৬৩ ম্যাচে ২২ সেঞ্চুরি করে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট ক্রিস গেইল। ১১ সেঞ্চুরি করে দুইয়ে পাকিস্তানের বাবর আজম।
সিডনিতে ওয়ার্নারের কীর্তি গড়ার দিনে ৪ ওভারে ২৯ রান দেন রিশাদ। ২৪ বলের মধ্যে ১২টি ডট খেলান তিনি। ৩টি চারের সঙ্গে হজম করেন একটি ছক্কা।
আগের ম্যাচে পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেট পাননি রিশাদ। টুর্নামেন্টে নিজের অভিষেক আসরে এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচ খেলে তৃতীয়বার শিকার ধরতে পারলেন না তিনি। আসরে তার মোট প্রাপ্তি ৮ উইকেট, সেরা বোলিং পার্থের বিপক্ষে প্রথম দেখায় ৩৩ রানে ৩ উইকেট।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দুর্দান্ত করে হোবার্ট। ম্যাচের প্রথম দুই বলেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে হানা দেয় তারা। শূন্য রানে ২ উইকেট হারানো সিডনিকে পরে টানেন ওয়ার্নার।
দ্বিতীয় ওভারের শেষ দুই বলে রাইলি মেরেডিথকে চার মারেন ওয়ার্নার। পরের ওভারে তিনি হাঁকান দুই ছক্কা। স্যাম বিলিংস ও ওয়ার্নারের জুটি ভাঙতে ষষ্ঠ ওভারে রিশাদকে আক্রমণে আনে হোবার্ট।
রিশাদের প্রথম দুই বলে লেগ বাই থেকে আসে দুই রান। তৃতীয় বলে ডট খেলা ওয়ার্নার পরেরটি করেন স্লগ সুইপ। ডিপ মিডউইকেটে থাকা ফিল্ডার বল মুঠোয় জমাতে পারেননি। ওই ওভার থেকে আসে ৫ রান।
অষ্টম ওভারে ফের বোলিংয়ে আসা রিশাদকে প্রথম বলে চার মেরে স্বাগত জানান বিলিংস। তৃতীয় ও চতুর্থ ডেলিভারিতে বাউন্ডারিতে পাঠান ওয়ার্নার। একটি লেগ বাইসহ ১৪ রান দিয়ে ওভার শেষ করেন রিশাদ।
রেহান আহমেদকে ছক্কায় ২৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন ওয়ার্নার। পরের বলেই মারেন চার। পরের ওভারে মেরেডিথকে ওড়ান ছক্কায়।
নিজের তৃতীয় ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের স্রেফ ৫ রান দেন রিশাদ। কোটার শেষ ওভারের শুরুটাও তার ভালো হয়। প্রথম পাঁচ বল থেকে আসে তিন রান। কিন্তু শেষ ডেলিভারিতে তাকে ছক্কায় উড়িয়ে ৯৫ রানে পৌঁছে যান ওয়ার্নার।
পরের ওভারেই ৫৮ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন ওয়ার্নার। আসরে আগের চার ম্যাচে স্রেফ ৪৪ রান করতে পারেন তিনি।
ইনিংসের শেষ ওভারে ন্যাথান এলিসের ওপর ঝড় বইয়ে দেন ওয়ার্নার। প্রথম বলে ছক্কার পর, শেষ চার বলে হাঁকান দুটি করে চার ও ছক্কা।
ওয়ার্নারের সৌজন্যে ৪ উইকেটে ২০৫ রান তোলে সিডনি। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিততে পারেনি তারা। ১৩ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় হোবার্ট।
হোবার্টের হয়ে ৩ ছক্কা ও ১০ চারে ৪৯ বলে ৯০ রান করেন ওপেনার টিম ওয়ার্ড। আরেক ওপেনার মিচেল ওয়েন ১৮ বলে ৪৫ রান করতে মারেন পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চার। পাঁচে নেমে নিখিল চৌধুরি ২ ছক্কা ও ৩ চারে ১৪ বলে করেন অপরাজিত ২৯ রান।