Published : 26 Feb 2026, 07:00 PM
ঘরোয়া ক্রিকেটে মোটামুটি নিয়মিতই রান করেন আবু হায়দার রনি। তবু ছয় নম্বরে তাকে পাঠানোয় একটু ছড়াল বটে। ইরফান শুক্কুর, মোসাদ্দেক হোসেনের মতো ব্যাটসম্যানরা যে তখনও অপেক্ষায়! সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন তিনি ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে। আরেক প্রান্তে দারুণ ইনিংস উপহার দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দুজনের ব্যাটে সহজেই জিতে গেল মধ্যাঞ্চল।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের একদিনের ম্যাচের আসরের দ্বিতীয় রাউন্ডে পূর্বাঞ্চলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল মধ্যাঞ্চল। প্রথম রাউন্ডের হেরেছিল দুই দলই।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলের প্রথম ৭ ব্যাটসম্যানের ৬ জনই ২৫ ছাড়িয়ে যান। কিন্তু ফিফটি করতে পারেননি কেউ। দলের রান তাই আটকে যায় ২৩৭ রানে।
মধ্যাঞ্চল রান তাড়ায় জিতে যায় ২৭ বল বাকি রেখে। প্রথম ম্যচে ৬৯ রান করা নাঈম শেখ এবার করেন ৯৮ বলে ৮৩। আবু হায়দার অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৬ রান করে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পূর্বাঞ্চলের শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৭ ওভারে ৪২ রান তোলেন পারভেজ হোসেন ইমন ও জাকির হাসান।
তাসকিন আহমেদের শর্ট বলে ক্রস ব্যাটে খেলে পারভেজ আউট হন ২২ বলে ২৭ রান করে।
দ্বিতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন জাকির হাসান ও অমিত হাসান। এই দুজন আউট হন তিন বলের মধ্যে। বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসানে বল কাট করে স্টাম্পে টেনে আনেন অমিত (২৬)। পরের ওভারে আব হায়দারের বাড়তি লাফানো বল জাকিরের ব্যাটে ছোবল দিয়ে চলে যায় পয়েন্টে।
৫১ বলে ৪৫ রান করে আউট হন জাকির। এটিই জয়ে থাকে দলের সর্বোচ্চ ইনিংস।
এরপর আরেকটি জুটি গড়েন ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মুমিনুল হক। কিন্তু এই দুজনও থিতু হয়ে পারেননি ইনিংস বড় করতে।
সাইফ হাসানের লো আর্ম ডেলিভারিতে ছক্কার চেষ্টায় আউট হন ইয়াসির (৫৬ বলে ৩৭)। সীমানায় দারুণ ক্যাচ নেন রকিবুল।

নতুন ব্যাটসম্যান শামীম হোসেনকে প্রথম বলেই বিদায় করেন রকিবুল। একটু পর রিপন মন্ডলের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ধরা পড়েন মুমিনুল (৪৮ বলে ৩৪)।
আগের ম্যাচে ফিফটি ফিফটি করা নাঈম হাসান এক প্রান্তে ক্রিজে পড়ে থেকে ৪৭ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন। দশে নেমে সৈয়দ খালেদ আহমেদ মারেন একটি ছক্কা ও একটি চার।
রান তাড়ায় তৃতীয় ওভারে সাইফ হাসানকে হারায় মধ্যাঞ্চল। আরেক ওপেনার নাঈম শেখ এগিয়ে নেন দলকে। অনেকক্ষণ টিকেও ইনিংস বড় করতে পারেননি মাহফিজুল ইসলাম রবিন (৪৭ বলে ২৯)। অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (২৬ বলে ১২) টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ।
চতুর্থ উইকেটে আরিফুল ইসলাম ও নাঈম শেখ যোগ করেন ৫৯ রান।
মুশফিক হাসানের বাড়তি লাফানো ডেলিভারিতে আরিফুল যখন আউট হন, পূর্বাঞ্চল তখনও ছিল লড়াইয়ে। তবে নাঈম শেখ ও আবু হায়দারের জুটি নিশ্চিত করে দেয় মধ্যাঞ্চলের জয়।
ক্রিজে গিয়ে পাল্টা আক্রমণে ছুটতে থাকেন আবু হায়দার। নাঈমকে ছক্কা মেরে ২৯ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি।
ওই ওভারেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কার চেষ্টায় লং অফে ধরা পড়েন নাঈম শেখ। ৫ চার ও ২ ছককায় ৮৩ রানে থামে তার ইনিংস।
আবু হায়দার ও মোসাদ্দেক হোসেন এরপর দ্রুতই শেষ করে দেন কাজ।
১১ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন আবু হায়দার। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ৫৪।
ম্যাচ জেতানো ইনিংসের সঙ্গে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা আবু হায়দার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পূর্বাঞ্চল: ৫০ ওভারে ২৩৭/৯ (পারভেজ ২৭, জাকির ৪৫, অমিত ২৬, ইয়াসির ৩৭, মুমিনুল ৩৪, শামীম ০, নাঈম ২৬*, নাসুম ০, হাসান ৯, খালেদ ১৩, মুশফিক ১১*; তাসকিন ১০-০-৪৬-২, আবু হায়দার ৯-০-৪৯-১, রিপন ১০-০-৫২-২, মোসাদ্দেক ৭-০-৩৭-০, রকিবুল ১০-০-২৭-৩, সাইফ ৪-০-২২-১)।
মধ্যাঞ্চল: ৪৫.৩ ওভারে ২৪০/৫ (নাঈম শেখ ৮৩, সাইফ ৬, মাহফিজুল ২৯, মাহিদুল ১২, আরিফুল ২১, আবু হায়দার ৬৬*, মোসাদ্দেক ২০*; নাসুম ১০-১-৪০-১, হাসান ৮-০-৪০-০, নাঈম ১০-০-৪১-২, খালেদ ৭-০-৫৪-০, মুশফিক ৭.৪-০-৪৭-১, শামীম ২-০-১০-১, মুমিনুল ১-০-৭-০)
ফল: মধ্যাঞ্চল ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আবু হায়দার রনি।