২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অমিতের আরেকটি সেঞ্চুরি, শরিফের ৫ উইকেট

বিদায়ী ম্যাচের দুই ইনিংসে ১৬ ও ১ রান করেছেন ইমরুল কায়েস।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2024, 06:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:56 AM

চতুর্থ রাউন্ডে ডাবল সেঞ্চুরির পরই নির্বাচক হান্নান সরকার বলেছিলেন, জাতীয় দলের খুব কাছে অমিত হাসান। সেই অল্প দূরত্বটুকু দ্রুতই শেষ করার অভিযানে পঞ্চম রাউন্ডে তিনি করেছেন আরেকটি সেঞ্চুরি। 

জাতীয় ক্রিকেট লিগে অমিতের শতক ছোঁয়ার দিনে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন আহমেদ শরিফ, এনামুল হকরা। আর বিদায়ী ম্যাচের দুই ইনিংসেই রান করতে ব্যর্থ হয়েছেন ইমরুল কায়েস। 

অমিতের সেঞ্চুরিতে সিলেটের বড় জয়ের সুবাস

খুলনার শেখ আবু নাসের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইনিংস জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছে সিলেট। ঢাকা মেট্রোর বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ২৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষে ১৯৭ রানে এগিয়ে তারা।

মেট্রোকে প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানে গুটিয়ে দিয়ে অমিতের সেঞ্চুরির সৌজন্যে ৩৭৬ রান করে সিলেট। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে মেট্রো। 

রোববার সকালে অল্পের জন্য পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি মুবিন আহমেদ। তার বিদায়ে ভাঙে অমিতের সঙ্গে ১০৬ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি। এরপর নাসুম আহমেদ নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। 

পরে আসাদুল্লা আল গালিবকে নিয়ে ৭০ রানের জুটি গড়ে তোলেন অমিত। ১৯৮ বলে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের নবম সেঞ্চুরি করেন সিলেট অধিনায়ক। এই ইনিংসের সৌজন্যে চলতি লিগে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে পাঁচশ রান পেরিয়ে যান তিনি। 

তিন অঙ্ক ছুঁয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অমিত। আরিফ আহমেদের বোল্ড হয়ে থামে তার ১৩ চারে ২০৪ বলে ১০১ রানের ইনিংস। আগের রাউন্ডে সেঞ্চুরি করা গালিবের ব্যাট থেকে আসে ৮ চারে ১০৮ বলে ৫৬ রান।

শেষ দিকে তোফায়েল আহমেদ ১ চার ও ৬ ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে সাড়ে তিনশ পার করান।

মেট্রোর পক্ষে ৪ উইকেট নেন আরিফ। আবু হায়দার ধরেন ৩ শিকার।

শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের পেস তোপে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মেট্রোর টপ-অর্ডার। ২টি করে উইকেট নেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ ও রেজাউর রহমান রাজা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

ঢাকা মেট্রো ১ম ইনিংস: ১৩০

সিলেট ১ম ইনিংস: ৯৬.৩ ওভারে ৩৭৬ (আগের দিন ১৩৭/২) (মুবিন ৪৩, অমিত ১০১, নাসুম ১১, গালিব ৫৬, তাওহিদ ৪, রাজা ১৫, তোফায়েল ৪৭*, খালেদ ১৫, নাঈম ৯; আবু হায়দার ২১-৩-১০৩-৩, রকিবুল ৩২.৩-৭-৯৬-১, আরিফ ২৩-৯-৭৭-৪, ফাহিম ১১-১-৬২-২, আমিনুল ৬-১-২০-০, আইচ ৩-১-৮-০)

ঢাকা মেট্রো ২য় ইনিংস: ২০ ওভারে ৪৯/৪ (নাঈম ৮, মাহফিজুল ৭, আইচ ৬, তাহজিবুল ৩, আমিনুল ১৩*, মার্শাল ৭*; খালেদ ৬-১-২৩-২, নাসুম ৬-৩-৬-০, তোফায়েল ৩-২-১০-০, রাজা ৩-০-৫-২, নাঈম ২-০-৫-০)

শামীমের লড়াইয়ের পর শরিফের ৫ উইকেট

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে দুই দিন শেষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২ উইকেট বাকি রেখে মাত্র ৬২ রানে এগিয়ে রাজশাহী।

শামীম হোসেনের অপরাজিত ফিফটির সৌজন্যে রাজশাহীর ১১২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৫২ রান করে চট্টগ্রাম। ১৪০ রানে পিছিয়ে থেকে খেলতে নেমে দিন শেষে রাজশাহীর সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০২ রান।

নবম উইকেটে আশরাফুল হাসানকে নিয়ে দলকে দুইশ পার করান শামীম। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ৬৭ রানের জুটি। যেখানে আশরাফুলের অবদান ১০ রান। পরে ফাহাদ হোসেনকে নিয়ে দলের আড়াইশ পূর্ণ করেন শামীম।

শেষ পর্যন্ত ২ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরে ১২৮ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকেন শামীম। রাজশাহীর পক্ষে ৩টি করে উইকেট নেন ওয়াসি সিদ্দিকি ও সাব্বির হোসেন।

পরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই রহমতউল্লাহর উইকেট হারায় রাজশাহী। পরে সাব্বিরের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান। আহমেদ শরিফুলের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন ৪০ রান করা তানজিদ।

একই ওভারে এসএম মেহেরব হাসানকেও ফেরান শরিফ। চতুর্থ উইকেটে প্রিতম কুমারের সঙ্গে ৫১ রান যোগ করেন সাব্বির। ৫ চারের সঙ্গে ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৫৪ রান করেন তিনি। প্রিতমের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। 

পরে পরপর দুই ওভারে সানজামুল ইসলাম ও ওয়াসি সিদ্দিকিকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পূর্ণ করেন প্রথম ৪ ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট পাওয়া শরিফ। 

দিনের শেষ দিকে ৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন শাকির হোসেন ও মোহাম্মদ আলি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪২ রানে অপরাজিত শাকির।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১১২

চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ৬৮.৪ ওভারে ২৫২ (আগের দিন ১৭৩/৮) (শামীম ৮৪*, আশরাফুল ১০, ফাহাদ ০; আলি ১২-০-৫৪-১, মোহর ১২-২-৩৬-১, মেহেরব ১৩.৪-১-৪১-১, সাব্বির ৯-০-৩১-৩, ওয়াসি ১৪-১-৫৮-৩, সানজামুল ৭-১-৮-১, কিবরিয়া ১-০-১৪-০)

রাজশাহী ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ২০২/৮ (তানজিদ ৪০, রহমতউল্লাহ ৯, সাব্বির ৫৪, মেহেরব ৪, প্রিতম ২২, শাকির ৪২*, কিবরিয়া ১১, সানজামুল ২, ওয়াসি ০, আলি ৬*; ইফরান ৯-০-৪২-২, ফাহাদ ১০-৩-২৭-০, নাঈম ১৫-৪-৩৯-১, শরিফুল ১২-২-৪৭-৫, আশরাফুল ১০-২-৩৭-০)

এনামুলের তোপে লন্ডভন্ড খুলনা

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত বোলারদের দাপট। দ্বিতীয় ইনিংসে এনামুল হকের চমৎকার বোলিংয়ে খুলনার বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছে ঢাকা।

খুলনার ১৭২ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯১ রানে অলআউট হয়ে গেছে খুলনা। তৃতীয় দিন ১০৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামবে ঢাকা।

ঢাকার পক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯ চারে ১৬৬ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন আরিফুল ইসলাম। আর কেউ ত্রিশ রানও করতে পারেননি। 

খুলনার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন আল আমিন হোসেন, মাসুম খান ও আরিদুল ইসলাম আকাশ। 

১২ রানের লিড পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি খুলনা। তাদের ওপেনার এনামুল হককে ফিরিয়ে শুরুটা করেন সুমন খান। এরপর একের পর এক আঘাত করেন ঢাকার পেসার এনামুল হক।

প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে শেষ ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামার সময় সতীর্থদের কাছ থেকে গার্ড অব অনার পান ইমরুল কায়েস। মাঠে ঢোকার পর প্রতিপক্ষ ক্রিকেটাররাও সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানা।

তবে উইকেটে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১ রান করে কট বিহাইন্ড হন তিনি। প্রথম ইনিংসে ইমরুল করেছিলেন ১৬ রান। সব মিলিয়ে ১৩৮ ম্যাচে ২০ সেঞ্চুরি ও ২৭ ফিফটিতে ৭ হাজার ৯৪৭ রানে শেষ হলো তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ার।

খুলনার পক্ষে ত্রিশ ছুঁতে পারেন শুধু অমিত মজুমদার। ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আর কেউ ১৫ রানও করতে পারেননি।

৩৭ রানে ৪ উইকেট নেন এনামুল হক। এছাড়া মাহফুজুর রহমান ৩ ও সুমন ধরেন ২ শিকার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

খুলনা ১ম ইনিংস: ১৭২

ঢাকা ১ম ইনিংস: ৬১.২ ওভারে ১৬০ (আগের দিন ৫৮/৩) (আরিফুল ৬২, মোসাদ্দেক ২৮, তাইবুর ২৮, শুভাগত ০, মাহফুজুর ০, সুমন ৫, এনামুল ৯, সালাউদ্দিন ০*; আল আমিন ২০-৪-৩৪-৩, মাসুম ১৩.৩-৩-৩০-৩, হালিম ৮.৫-১-২৬-১, আরিদুল ১৪-১-৪৮-৩, পারভেজ ৫-১-২০-০)

খুলনা ২য় ইনিংস: ৩৪.৪ ওভারে ৯১ (এনামুল ১০, অমিত ৩৮*, ইমরুল ১, মিঠুন ০, নাহিদুল ০, জাওয়াদ ৬, পারভেজ ১০, মাসুম ১৪, আরিদুল ৭, আলিম ০, হালিম ০; সালাউদ্দিন ৯-২-২৭-০, সুমন ১০-৩-২৭-২, এনামুল ৯-৩-১৭-৪, মাহফুজুর ৫-২-৯-৩, শুভাগত ১.৪-১-৭-১)

রাজশাহীতে তানভিরের পর মামুনের ফিফটি

রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামে চলছে ব্যাটসম্যানদের দাপট। বরিশালের ৩৩৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে রংপুরের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৮ রান। ১১৮ রানে পিছিয়ে থেকে নতুন দিনের খেলা শুরু করবে রংপুর।

৭ উইকেটে ২৬৬ রানে দিন শুরু করা বরিশাল এদিন যোগ করে আরও ৭০ রান। এতে বড় অবদান তানভির ইসলামের। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৭ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন বরিশাল অধিনায়ক।

সব মিলিয়ে ৯ বোলার ব্যবহার করে রংপুর। কেউই ২ উইকেটের বেশি নিতে পারেননি।

পরে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চাশ ছুঁয়ে দুই ওপেনারের উইকেট হারায় রংপুর। তৃতীয় উইকেটে ৯০ রানের জুটি গড়েন আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নাঈম ইসলাম। দলকে দেড়শর কাছে রেখে ৬৫ রানে ফেরেন মামুন।

পরে নাঈমের ইনিংস থামে ৪০ রানে। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আকবর আলি। দিনের শেষ ভাগে আর বিপদ ঘটতে দেননি তানবীর হায়দার ও আরিফুল হক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)

বরিশাল ১ম ইনিংস: ৯৯.৪ ওভারে ৩৩৬ (আগের দিন ২৬৬/৭) (মইন ২০, তানভির ৫২, রুয়েল ২, মহিউদ্দিন ০*; মুকিদুল ২৩-৫-৭১-১, সাকলাইন ১৭-৩-৫৮-১, মামুন ১৩-০-৪৭-২, আরিফুল ১১-২-২১-২, রিজওয়ান ৫-০-২৫-০, হাশিম ১৭.৪-৫-৬০-২, নাঈম ৫-০-২২-০, নবিন ২-০-১১-০, তানবীর ৬-১-১২-১)

রংপুর ১ম ইনিংস: ৬৬.১ ওভারে ২১৮/৫ (মিম ১০, রিজওয়ান ২৩, মামুন ৬৫, নাঈম ৪০, আকবর ২১, তানবীর ১১*, আরিফুল ২৮*; রুয়েল ১২-১-৬৮-১, মহিউদ্দিন ১১-৩-৩০-২, সালমান ৭-১-২০-১, তানভির ১৭.১-২-৩৮-০, সোহাগ ১৩-২-২৯-০, মইন ৬-২-১৪-১)