লিটনের প্রশ্ন, ‘আমি বললেই কি উইকেট বদলে যাবে?’

উইকেট যেমনই হোক, পরিস্থিতি বিচার করে খেলতে হবে, বললেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Feb 2024, 01:45 PM
Updated : 7 Feb 2024, 01:45 PM

‘ঢাকায় তো ১৮০ রানই হচ্ছে না, ২০০ কীভাবে হবে!’- ছোট্ট হাসিতে বললেন লিটন কুমার দাস। বিপিএলে বড় রানের ম্যাচের অভাবে গ্যালারিতে দর্শক উপস্থিতিও কম দেখা যাচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। নিজের ভাবনা জানানোর আগে মিরপুরের উইকেট সম্পর্কেই যেন ধারণা দিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক। 

এবারের আসর শুরুর আগে বিপিএলের টেকনিক্যাল বিভাগ ও বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির পক্ষ থেকে বেশ জোর দিয়েই বলা হয়, প্রতি ম্যাচেই দেখা যাবে ১৮০ থেকে ২০০ রানের উইকেট। কিন্তু টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত ২৪ ম্যাচের একটিতেও ২০০ রান দেখা যায়নি।

টুর্নামেন্টের মাঝপথ পেরিয়ে এখন পর্যন্ত স্রেফ পাঁচটি ম্যাচে দেখা গেছে ১৮০ ছাড়ানো স্কোর। প্রায় নিয়মিতই দেড়শ রানের আশপাশে করে জয় পাচ্ছে দলগুলো। বুধবারের ম্যাচেই যেমন ১৪৯ রানের পুঁজি নিয়ে খুলনা টাইগার্সকে ৩৪ রানে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা।

যদিও এই ম্যাচের উইকেট এতটা কঠিন ছিল না ব্যাটিংয়ের জন্য। বিশেষ করে, শুরুর দিকে স্বাভাবিক ব্যাটিংই করেছেন লিটন। টানা পাঁচ ম্যাচে ব্যর্থতার পর ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩০ বলে তিনি খেলেছেন ৪৬ রানের ইনিংস। লিটন ছাড়া আর কেউ অবশ্য সহজে রান করতে পারেননি। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে লিটনের কণ্ঠে তাই মিডল অর্ডার থেকে ভালো ব্যাটিং করতে না পারার আক্ষেপ।

“টস জেতার পরই আমি বলেছিলাম, ১৫০-১৫৫’র আশপাশে যে কোনো কিছু জেতার জন্য যথেষ্ট হবে। কারণ আমার হাতে ওই মানের বোলার আছে। তবে আমার মনে হয়, যেমন শুরু করেছিলাম, সেখান থেকে ১৭০ রান করা যেত।”

“আমরা মাঝের ওভারে খুব একটা ভালো ক্রিকেট খেলিনি। সবাই বড় শট খেলার চেষ্টা করছি। এখানে ১-২ করে রান নিয়ে খেলার পথও আছে। বড় ক্রিকেটাররা ১-২ করে করে খেলাটা বানিয়ে নেয়। যেটা হয়তো আমাদের ঘাটতি আছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি।”

লিটনের রানে ফেরার ম্যাচে উইকেটে বেশ সংগ্রাম করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, এভিন লুইস, উইল জ্যাকস, তাওহিদ হৃদয়রা। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৬ রান করার পরের ৯ ওভারে স্রেফ ৫৫ রান পায় কুমিল্লা। উইকেট হারায় ৩টি।

কুমিল্লার এই সমস্যার সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাদৃশ্য পাচ্ছেন লিটন।

“মাঝের ওভারে আমরা রান বের করতে পারিনি। হয়তো ব্যাটসম্যান হিসেবে আমাদের কিছু ঘাটতি আছে। বাংলাদেশ দলেও আমরা এর ভুক্তভোগী। পাওয়ার প্লেতে ভালো শুরু করলে মাঝের ওভারে আমরা খেলতে পারি না। আবার কোনো সময় মাঝখানে খেলতে পারলে শেষটা করতে পারি না।” 

“এখনও আমরা শেখার প্রক্রিয়ায় আছি। এমন না যে আমরা টি-টোয়েন্টিতে খুব ভালো দল। তবে এই বিপিএলের ম্যাচগুলো চলতে চলতে আমরা শিখে যাব কীভাবে মাঝের ওভারে ক্রিকেট খেলতে হয়।”

বিপিএলে উইকেট নিয়ে আলোচনা প্রতি আসরের নিয়মিত চিত্র। বিশেষ করে মিরপুরে মন্থর ও নিচু উইকেট নিয়ে সমালোচনা হয় বিস্তর। এবারের আসরে যদিও ব্যাটিংয়ের জন্য খুব বাজে উইকেট দেখা যায়নি। তবে পুরোপুরি ব্যাটিংবান্ধবও নয় উইকেট।

সিলেট পর্বেই যেমন হয়নি প্রত্যাশামাফিক রান। গত বছরের ৮ ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর যেখানে ছিল ১৬৩ রান, সেখানে এবারের ১২ ম্যাচে সেটি নেমেছে ১৫১ রানে। একশর নিচে অলআউট হওয়ার নজির দেখা গেছে তিনবার।

রান তুলনামূলক কমলেও উইকেটের আলোচনায়ই যেতে চান না লিটন। উইকেট ঠিকঠাক পড়ে সেই অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের দিকে মনোযোগের বার্তা দিলেন তিনি।

“আমি কিছু বললে কি উইকেট বদলে যাবে? আমি যদি বলি কালকের ম্যাচে ২০০ রানের উইকেট দেন, দিতে পারবে? যেটা ফ্যাক্ট, সেটা হলো, আমাদের ওভাবেই খেলতে হবে। দেড়শ রানের উইকেটে কীভাবে দেড়শ রান করতে পারি, সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ। টি-টোয়েন্টিতে আপনি সবসময় দুইশ রানের উইকেট পাবেন না।”

রান কম হওয়ার পেছনে অবশ্য উইকেটের সম্পূর্ণ দায়ও দেখেন না কুমিল্লা অধিনায়ক।

“সবসময় যে উইকেটের দোষ দেওয়া যাবে, তা কিন্তু নয়। যারা হিসেব করে ঝুঁকি নিয়ে ক্রিকেট খেলতে পারে তারা কিন্তু এই মাঠেও... আজকের পরিস্থিতি এমন ছিল, এখানেও কিন্তু ১৭০ রান হওয়ার মতো ছিল। তখন আমরা কেউই উইকেটকে দোষ দিতাম না।”  

লিটন নিজে অবশ্য এ দিন রানে ফিরেছেন। আগের পাঁচ ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল সব মিলিয়ে ৩৭ রান। টানা তিন ম্যাচে দুই অঙ্ক ছুঁতেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে দুঃসময়কে পেছনে ফেলার আভাস দিয়েছেন স্টাইলিশ ওপেনার। এই ছন্দ ধরে রেখে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে ধারাবাহিক হওয়ার আশা তার।

“(রান পাওয়ায়) স্বস্তি বলতে... ব্যাটসম্যান হিসেবে আমার কাজই হলো রান করা। প্রথম পাঁচ ম্যাচে রান করতে পারিনি, আফসোস তো ছিলই যে, আমি যে ধরনের ক্রিকেটার, রান করতে পারছি না। তবে এখনও আমার খেলায় উন্নতি করার অনেক জায়গা আছে। লম্বা টুর্নামেন্ট, অনেক ম্যাচ বাকি। দল আমার কাছে পারফরম্যান্স চায়, আমিও সেটা চেষ্টা করব।”