Published : 12 Feb 2026, 10:22 PM
একটা সময় পাকিস্তান ক্রিকেটের বড় বিজ্ঞাপন ছিলেন আহমেদ শেহজাদ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দেশটির প্রথম সেঞ্চুরিয়ান তিনি। অনেক দিন ধরেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) উপেক্ষিত হওয়ার কথা বলতে গিয়ে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি।
সম্প্রতি জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন শেহজাদ। সেখানে তার সঙ্গে ছিলেন আরেক ক্রিকেটার মোহাম্মাদ আমিরও। শেহজাদের সমসাময়িক অনেক খেলোয়াড় এখনও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। খোলামেলা আলোচনায় তিনি বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে খেলার প্রতি নিবেদন থাকার পরও বাদ পড়ার যন্ত্রণা এখনও তার রয়ে গেছে।
“হ্যাঁ, আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। সত্যি কথা বলতে অনেক কষ্ট লাগে। আমি খেলতে চাই। আপনি (সঞ্চালক) যেভাবে বলছেন, আমার সতীর্থরা খেলছে, তাদের জন্য আমি খুশি। আমি এই ধরনের মানুষ: যখন কারও জন্য ভালো কিছু হয়, তখন আমি সত্যিই খুশি হই।”
“কিন্তু অবশ্যই আমিও ভাবছি কারণগুলো কী ছিল (বাদ পড়ার)। এমনটা কেন হলো? যদি সবকিছু এভাবে না ঘটত... সবকিছু আমার চোখের সামনেই শুরু হয়েছিল। আমি মাঠে ১৮ বছর কাটিয়েছি এবং হঠাৎ করে সবকিছু হারিয়ে যেতে দেখে… আমার সব মনে পড়ে এবং আমার কান্না পায়।”
শেহজাদ তার ৯ বছরের ছেলের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যান।
“রাতে যখন ঘুমানোর চেষ্টা করি... আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যে, আমার ৯ বছর বয়সী ছেলে আমাকে খেলতে দেখতে চেয়েছিল। সে আমার পাশে ঘুমায়, এখন সে বড় হচ্ছে। সে বলে, ‘বাবা, আমার মনে আছে তুমি আগে খেলতে, কিন্তু আমি কি তোমাকে ঠিকভাবে মনে করতে পারব?”
এরপর অনুষ্ঠানে ছেড়ে চলে যান শেহজাদ, যিনি সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে খেলেছেন ২০২৪ সালের মে মাসে।
২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে শেহজাদ খেলেছেন ১৩ টেস্ট, ৮১ ওয়ানডে ও ৫৯ টি-টোয়েন্টি। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি পিএসএলে খেলেছেন তিনি। পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ৪৫ ম্যাচে ১২০.০৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেছেন এক হাজার ৭৭ রান। ফিফটি আছে ৯টি।
২০১৯ সালের পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের শিরোপা জয়ে তার ছিল উল্লেখযোগ্য অবদান। ফিফটি করেছিলেন ফাইনালে। দলটির হয়ে ২০২০ আসর তার ভালো কাটেনি। সাত ইনিংসে রান করেছিলেন কেবল ৬১।
তারপর থেকে আর পিএসএলে সুযোগ পাননি শেহজাদ। তাকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ প্রতিযোগিতাটি থেকে দূরে রাখার অভিযোগ তুলে ২০২৩ সালে পিএসএলকে বিদায় বলে দেন তিনি।