Published : 14 Jun 2026, 06:07 PM
বেন ডোয়ার্শাসের বলে যখন আউট হয়ে ফিরছেন তাওহিদ হৃদয়, তার নামের পাশে তখন ৮৩ রান। ওভার বাকি চারটির বেশি। সেঞ্চুরির হাতছানি তো ছিলই। একটু নিরাপদ পথ বেছে নিলে হয়তো তিন অঙ্কে যেতেও পারতেন। কিন্তু তিনি শুনছিলেন দলের ডাক। পরিস্থিতি দাবি করছিল, চালিয়ে ব্যাট করতেই হবে!
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদন্ড ছিল হৃদয়ের ব্যাটিং। তার ইনিংসটিই নির্ভরতা জুগিয়ে এগিয়ে নেয় দলকে।
শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি। শতরানও হয়নি। তবু প্রচেষ্টার জন্য শতভাগ পয়েন্ট তিনি পাবেন। বাড়তি কৃতিত্ব দিতে হবে ব্যাটিংয়ের ধরনের কারণেও। সাম্প্রতিক সময়ে মাঝের সময়টায় তাকে গুটিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেক বারই। কিন্তু এ দিন ব্যতিক্রম।
পঞ্চদশ ওভারে যখন ক্রিজে যান তিনি, ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দল তখন বিপাকে। আরেক প্রান্তে লিটন কুমার দাসও ছন্দ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু হৃদয় শুরু থেকেই ছিলেন বেশ সাবলিল। এক-দুই রান বের করতে খুব একটা সমস্যা তার হয়নি।
এই জায়গাটিতেই গত কিছুদিনে তিনি ধুঁকছিলেন আর প্রতিপক্ষরা তাকে আটকে ফেলছিল বারবার। মাঝের ওভারগুলোয় নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ফিল্ডার রেখে ক্রিজে বেঁধে রাখা হচ্ছিল তাকে। তিনিও হাঁসফাঁস করেছেন বেশ। অনেক সময় রান করলেও গতি ছিল মন্থর।
কিন্তু এই ইনিংসে মাঠের ফাঁক খুঁজে নিয়েছেন তিনি অনায়াসেই। ৮৩ রানের ইনিংস এসেছে ৮৮ বলে। বাউন্ডারি ৮টি, ছক্কা নেই একটিও। তার পরও স্ট্রেইক রেট এতটা ভালো তিনি সিঙ্গলস-ডাবলস বের করতে পেরেছেন বলেই।
৩৭টি সিঙ্গলস নিয়েছেন এ দিন, ডাবলস ৭টি। ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারের আদর্শ ব্যাটিং তো একেই বলে!
আরেকপ্রান্তে লিটন প্রথম বাউন্ডারি আগে ২৭ বলে রান করেছিলেন মোটে ১০। তার পরও দলকে খুব বিপাকে পড়তে হয়নি হৃদয়ের ব্যাট সচল ছিল বলেই।
এই সংস্করণে আগের ১৫ ইনিংসে তার ফিফটি ছিল তার পাঁচটি। কিন্তু কোনোটিতেই তিনি ৬০ পর্যন্তও যেতে পারেননি। আরও পাঁচ ইনিংসে আটকে পড়েছেন ত্রিশ-চল্লিসে। সেই ধারা কাটিয়ে অবশেষে এবার কিছুটা হৃষ্টপুষ্ট করতে পারলেন ইনিংস।
সেই ছাপ এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও রেখেছেন হৃদয়। মোহামেডানের জার্সিতে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২৮ রান করেছেন বলেই শুধু নয়, নজর কেড়েছেন রান করার ধরনের কারণেও। স্ট্রাইক রেট ছিল ১২২.৭৯।
যদিও মোহামেডানের হয়ে খেলেছেন তিনি তিন নম্বরে। সেখানে ভূমিকা ভিন্ন, পাওয়ার প্লেতে ব্যাট করার সুযোগ যেমন মিলেছে, বড় ইনিংস খেলার সময়ও পেয়েছেন অফুরন্ত। সেই সুযোগ তিনি লুফে নিয়েছেন দু হাতে। টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছেন, সত্তরছোঁয়া ইনিংস তিনটি। মাঝের ওভারগুলোতে দক্ষতার ছাপ রেখেই গড়েছেন ইনিংস।
ঢাকা লিগের পুরোপুরি পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করা কঠিন। জাতীয় দলে তার ব্যাটিং পজিশন ও ভূমিকাও ভিন্ন। তবে ব্যাটিংয়ে ঘাটতির সেই জায়গাটিতে উন্নতির আভাস মেলে ধরেছেন এই ইনিংসটি।
লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসে বড় দুই জুটির অংশীদার ছিলেন হৃদয়। লিটন ক্র্যাম্পের শিকার হয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার আগে তার সঙ্গে যোগ করেন ৯৫ রান। তাতে বাংলাদেশ কাটিয়ে ওঠে শুরুর ধাক্কা।
পরে মোসাদ্দেককে নিয়ে যোগ করেন ৮১ বলে ৯০ রান। যা বাংলাদেশের স্কোর নিয়ে যায় ২৭৪ রানে।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ ফিফটিতে পৌঁছান তিনি ৬২ বলে। এরপরে খানিকটা আগ্রাসী হয়ে ওঠেন ব্যাট হাতে।
শেষ পর্যন্ত বেন ডোয়ার্শাসের বলে ফ্লিক করে ক্যাচ তুলে দেন ডিপ মিড উইকেটে অ্যালেক্স কেয়ারির হাতে।
আউট হয়ে যখন ফিরছেন ড্রেসিং রুমের পথে, অনেকটা দৌড়ে এসে তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে গেলেন ক্রিজে সঙ্গী মোসাদ্দেক হোসেন। ড্রেসিং রুমে ফিরেও নিশ্চয়ই অনেকের কাছ থেকে পেয়েছেন আলিঙ্গন।