Published : 26 Jul 2025, 09:05 PM
শেষ ব্যাটসম্যান স্বাধীন ইসলাম যখন ক্রিজে গেলেন, জয় থেকে তখনও ২০ রান দূরে বাংলাদেশ। শেষ ভরসা হয়ে টিকে থাকা সামিউন বশির নিজের করণীয় বুঝে গেলেন। এক ওভারে দুটি চার আর পরের ওভারে একটি করে চার ও ছক্কায় তিনি শেষ করে দিলেন ম্যাচ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তিনি স্ট্রাইক পেতেই দিলেন না এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান স্বাধীনকে!
ম্যাচের প্রথম ভাগে বল হাতেও সফল ছিলেন সামিউন। চার ওভারের বাঁহাতি স্পিনে শিকার করেন দুই উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে উপহার দেন ৩৯ বলে ৪৫ রানের মহামূল্য ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ১ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় যুব ওয়ানডে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
জিম্বাবুয়ের হারারেতে শনিবার আল ফাহাদের চার উইকেটের সঙ্গে সামিউন-স্বাধীনদের কার্যকর বোলিংয়ে প্রোটিয়া যুবাদের ইনিংস শেষ হয় ১২৮ রানেই।
সেই রান তাড়ায় ৫৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। পরে কিছুটা লড়াই করলেও ৯০ রানে পতন হয় সপ্তম উইকেটের। ২৭তম ওভারের শেষ বলে যখন আউট হন ইকবাল হোসেন ইমন, দলের রান তখন ৯ উইকেটে ১০৯।
সামিউন সেখান থেকেই শেষ জুটির চ্যালেঞ্জ সামলে দ্রুতই জিতিয়ে দেন দলকে। ২৮তম ওভারের প্রথম বলটি হাঁকাতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি তিনি, ঠেকিয়ে দেন পরের বলটি। তৃতীয় বলে সিঙ্গল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে টানা দুটি বাউন্ডারি মেরে দেন তিনি ডিপ পয়েন্ট দিয়ে।
ওভারের শেষ বলে প্রয়োজন ছিল সিঙ্গল নিয়ে স্ট্রাইক ধরে রাখা। আলতো ডিফেন্স করেই ঘিরে থাকা ফিল্ডারদের ফাঁক গলে ঠিকই একটি রান বের করে নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারের প্রথম বলে রান নেননি আবার। দ্বিতীয় বলে অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ফ্লিকে চার মেরে দেন মিড উইকেট দিয়ে। ডাগ আউট থেকে তখন চিৎকার করে অনেকেই বলছেন, ‘আর একটা লাগে, আর একটা…।” পরক্ষণেই সেই দাবি মেটান সামিউন। ফুল টস পেয়ে লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন ছক্কায়।
স্কোর তখন সমতায়। পরের বল পয়েন্টে ঠেলেই এক রান নিয়ে জয়োল্লাসে ভেসে ওঠেন সামিউন ও গোটা দল। প্রোটিয়া যুবারা তখন নুইয়ে পড়েছেন হতাশায়।
হারারের সানরাইজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটিংয়ে নামে টস জিতে। বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন আল ফাহাদ। পঞ্চম ওভারে আডান লাগাডিনকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু দিয়ে এক বল পরই তিনি এনে দেন সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট। আগের দুই ম্যাচে ১৬৪ ও ২১৫ রানের রেকর্ড গড়া ইনিংস খেলা ইয়োরিখ ফন স্কালভিক ফেরেন ১০ রান করেই।
তিনে নামা প্রোটিয়া অধিনায়ক মুহাম্মেদ বুলবুলিয়াও আল ফাহাদের শিকার। মাঝে জেসন রোলেসকে ফেরান ইমন।
৪৩ রানে ৪ উইকেট হারানো প্রোটিয়াদের টেনে নেন পল জেমস ও আরমান ম্যানাক। ২৬ রান করা জেমসকে ফিরিয়ে ৫২ রানের এই জুটি ভাঙেন সামিউন।
এরপর প্রোটিয়া ইনিংস ভেঙে পড়ে দ্রুতই। দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৮ রান করা ম্যানাক বিদায় হন বাংলাদেশ অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের বলে। ড্যানিয়েল বসম্যান অপরাজিত ২৪ রান করলেও লোয়ার অর্ডারে দাঁড়াতে পারেননি কেউ।
শেষ ৬ উইকেট হারায় তারা ৩৩ রানের মধ্যে।
বাংলাদেশের রান তাড়ার শুরুটায় ছিল ঝড়ের আভাস। তবে স্থায়ী হয়নি তা। প্রথম ওভারে চার ও ছক্কার পর দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার মেরে আউট হয়ে যান জাওয়াদ আবরার (৯ বলে ২০)। টপ ও মিডল অর্ডারের অন্য কেউ ভালো করতে পারেনি।
৫৯ রানে ৬ উইকেট থেকে সপ্তম জুটিতে আল ফাহাদকে (১১) নিয়ে ৩১ রান যোগ করেন সামিউন। এরপর লোয়ার অর্ডারদের সঙ্গে শেষের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তিনিই ম্যাচের নায়ক।
টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচে সোমবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২৭৮ রানে হেরেছিল জিম্বাবুয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৩৪.৪ ওভারে ১২৮ (ফন স্কালভিক ১০, লাগাডিন ৭, বুলবুলিয়া ১৩, রোলেস ৪, জেমস ২৪, ম্যানাক ২৮, বসম্যান ২৪*, কিতশিনি ১, ব্যাসন ১, বয়েস ৪, মাজেলা ০; আল ফাহাদ ১০-১-৩২-৪, ইমন ৫-০-৩০-০, রিজান ৫-১-২২-০, সামিউন ৪-১-১৭-২, স্বাধীন ৪.৪-১-৫-২, আজিজুল ৬-০-২০-১)।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২৮.৪ ওভারে ১২৯/৯ (জাওয়াদ ২০, রিফাত ৫, আজিজুল ৫, রিজান ২, আব্দুল্লাহ ১৪, ফরিদ ৮, সামিউন ৪৫*, আল ফাহাদ ১১, দেবাশিস ৬, ইমন ৫, স্বাধীন ০*; ব্যাসন ১০-১-৩৩-৪, মাজোলা ১০-৩-৩৫-৩, বয়েস ৫.৪-০-৩৫-১, রোলেস ১-০-১১-০, কিতশিনি ১-০-৪-০, জেমস ১-০-৯-০)।