ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা
Published : 03 Dec 2025, 05:08 PM
নামের পাশে ৯৯ রান নিয়ে ব্যাটিং প্রান্তে তখন ভিরাট কোহলি। তার সেঞ্চুরি ছোঁয়ার মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করে রাখতে মোবাইল ফোন বের করলেন দর্শকরা। গ্যালারি থেকে আসতে শুরু করল ‘কোহলি, কোহলি’ ধ্বনি। পায়ের ওপরের বলটি মিডঅনের দিকে ঠেলে দৌড় দিলেন কোহলি। রান পূরণ হতেই লাফিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত বাতাসে ছুঁড়ে দিলেন হুঙ্কার। তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার দিনে প্রথমবার অনির্বচনীয় স্বাদটি পেলেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
রায়পুরে বুধবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পান কোহলি। ৯০ বলে শতক স্পর্শ করার পথে ২ ছক্কা ও ৭টি চার মারেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট।
রাঁচিতে আগের ম্যাচে ৭ ছক্কা ও ১১ চারে ১২০ বলে ১৩৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কোহলি। এবার ৯৩ বলে ১০২ রান করে ফেরেন লুঙ্গি এনগিডির বলে লং-অনে ধরা পড়ে।
ওয়ানডেতে এটি কোহলির ৫৩ নম্বর সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি শতকের বিশ্ব রেকর্ডটি অনেক আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। সেটিকে এখন আরও সমৃদ্ধ করছেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে রেকর্ড সপ্তম সেঞ্চুরি করলেন কোহলি। এই সংস্করণে এ নিয়ে চারটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে সাত বা এর বেশি শতক উপহার দিলেন তিনি; শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০টি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯টি ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮টি। একাধিক দলের বিপক্ষে এই কীর্তি আছে আর কেবল ভারতীয় কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারের; অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯টি ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮টি সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
রায়পুরে প্রথমবার খেলতে নেমেই শতক ছুঁলেন কোহলি। এনিয়ে ৩৪টি ভিন্ন ভেন্যুতে ওয়ানডে সেঞ্চুরি করলেন তিনি, যা রেকর্ড। তার পূর্বসূরি টেন্ডুলকারও ৩৪ ভেন্যুতে তিন অঙ্কের ছোঁয়া পেয়েছিলেন।
রুতুরাজের জন্য ম্যাচটি আরও বেশি স্পেশাল। ওয়ানডেতে যে প্রথমবার সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তিনি। ২ ছক্কা ও ১২ চারে ৮৩ বলে ১০৫ রান করেন মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। এই সংস্করণে আগের সাত ম্যাচে কেবল একবার পঞ্চাশ ছুঁতে পেরেছিলেন তিনি।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অবশ্য বেশ ভালো পরিসংখ্যান রুতুরাজের। বুধবারের ম্যাচের আগে ১৭টি সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি এই সংস্করণে, নামের পাশে ফিফটি ১৮টি। ৫৬.৭৭ গড়ে রান করেছেন ৪ হাজার ৫৪২, স্ট্রাইক রেট ১০০.৭৩।

ম্যাচের পঞ্চম ওভারে রোহিত শার্মা বিদায় নিলে ক্রিজে যান কোহলি। মুখোমুখি চতুর্থ বলে এনগিডিকে ছক্কায় উড়িয়ে রানের খাতা খোলেন তিনি। পরে চার মারেন মার্কো ইয়ানসেনকে।
দশম ওভারে ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের বিদায়ে ব্যাটিংয়ে নেমেপ্রথম বলেই চার মারেন রুতুরাজে। কয়েক ওভার পর ইয়ানসেনকে ফাইন লেগ দিয়ে উড়িয়ে ফেলেন বাউন্ডারির বাইরে।
কোহলি ও রুতুরাজের ব্যাটে দ্রুত আসতে থাকে রান। ৫২ বলে ফিফটিতে পা রাখেন রুতুরাজ। পরের ওভারেই ৪৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন কোহলি।
ফিফটির পর আরও দ্রুত রান বাড়ান রুতুরাজ। কেশাভ মহারাজের এক ওভারে দুই চারের সঙ্গে মারেন এক ছক্কা। পরে কর্বিন বশকে হাঁকান টানা দুই চার। ৯২ থেকে বশকেই টানা দুই চারে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন রুতুরাজ। এক ওভার পর ইয়ানসেনের বলে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।
দারুণ ব্যাটিংয়ে আরেক প্রান্তে ততক্ষণে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে গেছেন কোহলি। পরে ৩৮তম ওভারের শেষ বলে তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি।
দুই সেঞ্চুরিয়ানের জুটিতে রান আসে ১৫৬ বলে ১৯৫। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সব দল মিলিয়েই তৃতীয় উইকেটে যা সর্বোচ্চ যুগলবন্দি। আগের সেরা জুটিতেও ছিলেন কোহলি, ২০১৮ সালে ডারবানে আজিঙ্কা রাহানের সঙ্গে ১৮৯ রানের বন্ধন গড়েছিলেন তিনি।
শক্ত ভিত পেয়ে পরে দ্রুত রান বাড়ান লোকেশ রাহুল। এই সিরিজে ভারতের অধিনায়ক ২ ছক্কা ও ৬ চারে ৪৩ বলে খেলেন ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। ২ চারে ২৪ রান করেন রাভিন্দ্রা জাদেজা। ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রান করে ভারত।