‘অবিশ্বাস্য’ রিশাদকে দেখে বিলিংসের মনে পড়ছে রাশিদকে
লাহোর কালান্দার্সে যে দায়িত্ব পালন করে গেছেন রাশিদ খান, সেই একই ভূমিকায় এবার রিশাদ হোসেনকে দেখে মুগ্ধ ইংলিশ ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস।
প্রশ্ন ছিল দলের পারফরম্যান্স আর প্রথম ম্যাচে হারার পর ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে। স্যাম বিলিংস উত্তর দেওয়া শুরু করলেন দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েই। ক্রমে তার কথা ছুঁয়ে গেল দলের ব্যাটিংকে। এক পর্যায়ে নিজ থেকেই তুলে আনলেন রিশাদ হোসেনের প্রসঙ্গ। বাংলাদেশের লেগ স্পিনারকে প্রথমবার কাছ থেকে দেখে মুগ্ধতার শেষ নেই লাহোর কালান্দার্সের ইংলিশ ব্যাটসম্যানের।
দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে রিশাদ খেলছেন এই প্রথমবার। লাহোর কালান্দার্সের প্রথম ম্যাচে তাকে বসে থাকতে হয় ডাগআউটে। সেই ম্যাচে হেরে যায় লাহোর। পরের ম্যাচে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ডেভিড ভিসার বদলে রিশাদকে একাদশে বেছে নেয় দল। বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার নিজেকে চেনাতে সময় নেননি খুব একটা।
নিজের দ্বিতীয় ওভারেই বিপজ্জনক রাইলি রুশোকে ফিরিয়ে দলের বড় বাধা দূর করেন তিনি। পিএসএল অভিষেক ম্যাচটি শেষ করেন তিন উইকেট নিয়ে। দ্বিতীয় ম্যাচে মঙ্গলবার নিজের প্রথম ওভারেই শিকার করে দুই উইকেট। এই ম্যাচেও তার প্রাপ্তি তিন উইকেট।
২২ বছর বয়সী লেগ স্পিনারের মাথায় এখন শোভা পাচ্ছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটের স্বীকৃতি ‘ফাজাল মেহমুদ ক্যাপ।’
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে রিশাদ অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছেন বেশ কিছুদিন আগেই। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৪ উইকেট নিয়ে এক আসরে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন। ক্রিকেট বিশ্বে খানিকটা পরিচিতিও গড়ে ওঠেছে তার। তবে বিলিংসের আগে সুযোগ হয়নি তাকে কাছ থেকে দেখার।
এবার পিএসএলে রিশাদকে দেখে ভালো লাগায় যেন চোখ ধাঁধিয়ে গেছে ইংল্যান্ডের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ৬৮ ম্যাচ খেলা এই কিপার-ব্যাটসম্যানের।
“রিশাদের কথা অবশ্যই বলতেই হবে, তরুণ একটি ছেলে এখানে এসে যেভাবে বোলিং করছে… তার বোলিং আমি সরাসরি দেখছি এই প্রথম, তার সঙ্গে খেলছি প্রথমবার… অবিশ্বাস্যরকমের আকর্ষণীয় সে।”
“খেলাটির এই সংস্করণে রিস্ট স্পিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মাঝের ওভারগুলোয় এটিই উইকেট শিকারের একটি উপায়। সে (রিশাদ) অসাধারণ। সবশেষবার আমি যখন এখানে ছিলাম, মাঝের ওভারগুলোর জন্য আমাদের দলে ছিল রাশিদ খান এবং পেস আক্রমণকে দারুণভাবে সহায়তা করেছিল তা। এবার সে (রিশাদ) দলে দারুণ প্রভাব রাখছে এবং ভালো লাগছে যে, পেসাররাও তাদের সম্ভাবনার সবটুকু কাজে লাগাচ্ছে।”
রাশিদ খানকে নিয়ে বিলিংস বলছেন ২০২৩ আসরের কথা। সেবার ওভারপ্রতি মাত্র সাড়ে ছয় করে রান দিয়ে ২০ উইকেট নিয়েছিলেন আফগান লেগ স্পিন তারকা। বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি লাহোর কালান্দার্সের শিরোপা জয়ে।
এবার রিশাদের শুরুটা যেমন হয়েছে, তার কাছে রাশিদের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তির আশা করতেই পারে লাহোর।
