Published : 24 Jan 2026, 12:02 PM
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী আয়োজন শেষ হতেই সময় লেগে অনেক। সংবাদ সম্মেলন তো আরও দেরিতে। অবশেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসতে পারলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু অপেক্ষার শেষ নয় তখনও। চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক কথা বলবেন, ট্রফি সামনে থাকতে হবে না! আরও কিছুক্ষণ পর মিডিয়া ম্যানেজার ট্রফি নিয়ে এসে রাখলেন টেবিলে। এবার শান্তর মুখে মুঠে উঠল হাসি। ঝকমকে ট্রফি পাশে নিয়েই রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক এই অর্জন তার হৃদয়ে কতটা জায়গা নিয়ে থাকবে।
শিরোপার স্বাদ তার অচেনা নয়। গতবারই তো চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল দলে তিনি ছিলেন। তবে শিরোপার স্বাদেও যে পার্থক্য থাকে, সেটা তিনি এবার অনুভব করেছেন। ফাইনাল শেষে সেই উপলব্ধির কথা বললেন রাজশাহী অধিনায়ক।
“চ্যাম্পিয়ন হলে তো অবশ্যই ভালো লাগে। গত বছরও ভালো লেগেছে। তবে অবদান রাখতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগে, যেটা আমার মনে হয় এ বছর করতে পেরেছি ক্রিকেটার হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে। এটা একটা বাড়তি ভালো লাগার বিষয়। প্রথম বিপিএল ছিল অধিনায়ক হিসেবে। কাজেই জয়টা অনেক স্পেশাল।”
গত আসরে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশাল দলে ছিলেন শান্ত। দেশি-বিদেশি তারকায় ঠাসা দলটিতে খেলার সুযোগই সেভাবে পাননি। পাঁচটি ম্যাচে মাঠে নামতে পেরেছিলেন মোটে, পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেই শান্ত এবার আসর শুরুই করেছেন সেঞ্চুরি দিয়ে। সেই ফর্ম পরে আর সেভাবে ধরে রাখতে পারেননি। তার পরও টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩৫৫ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
তবে রাজশাহীর শিরোপা জয়ে তার অবদান শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই নয়। তিনি ছিলেন অধিনায়ক ও নেতাও। সেটা শুধু মাঠের ভেতরে নয়, বাইরেও। টুর্নামেন্ট শুরুর বেশ আগে থেকেই শুরু হয়েছিল তার কাজ। অনেক পরিকল্পনা, ছক কষাকষি, নিবেদন, সমন্বয় আর পরিশ্রম, সবকিছু মিলিয়ে এসেছে এই সাফল্য। সেখানে তিনি কতটা সম্পৃক্ত ছিলেন সবকিছুতে সবটুকুই।
যদিও কৃতিত্ব দিচ্ছেন তিনি সবাইকেই। তবু তার কথাতেই ফুটে ওঠে, এই সাফল্যের কতটা জুড়ে তিনি।
“দারুণ একটা ভ্রমণ ছিল। আমরা যখন দলটা নিয়ে চিন্তা করছিলাম, যখন মালিকপক্ষ থেকে ফোন কল আসে, তখন একটা দায়িত্বের কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছিল। পরিকল্পনাটা শুরু থেকেই ছিল। আমি জানতাম যে, হান্নান ভাই প্রধান কোচ হচ্ছেন। উনার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ড্রাফটে (নিলামে) গিয়েছি। ড্রাফটও আমাদের ভালো গিয়েছিল। আমাদের দলে সিনিয়র-জুনিয়র মিলে খুব ভালো একটা কম্বিনেশন ছিল।”
“তার পরও দিনশেষে আমার মনে হয় যে, মাঠের ক্রিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, দল আপনি যেরকমই বানান। মাঠে আমরা ওই ইম্প্যাক্ট রাখতে পেরেছি এবং প্রত্যেক ক্রিকেটার যার যার জায়গাতে পারফর্ম করেছে, যার যতটুকু ভূমিকা ছিল, পালন করেছে। আমার মনে হয় কৃতিত্ব পুরো দলের, সবাই যেভাবে দলে ইম্পাক্ট রেখেছে। পুরো ভ্রমণটা আমার মনে হয় অসাধারণ ছিল এবং আল্লাহর রহমতে আমরা দিনশেষে কাপ জিততে পেরেছি।”
এবারের শিরোপা শান্তর কাছে বিশেষ কিছু আরেকটি কারণেও। রাজশাহীর সন্তান তিনি, কিন্তু আগের আসরগুলোয় খেলেছেন কুমিল্লা, খুলনা, সিলেট বরিশালের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছেন তিনি পূর্ণতার আনন্দে।
“অনেক বেশি আবেগ জড়িয়ে আছে। রাজশাহীর হয়ে খেলার সুযোগ আগে কখনও হয়নি। রাজশাহী হয়ে খেলা, অধিনায়ক হিসেবে খেলা এবং পাশাপাশি দলকে জেতানো… এটা একটা বাড়তি ভালো লাগার। একটা বড় দায়িত্ব ছিল। আমার মন চেষ্টা করেছি রাজশাহীর যত মানুষ আছে, তাদেরকে একটা সুন্দর উপহার দিতে। কাপটা তাদেরকে দিতে পেরেছি।”
“পাশাপাশি আমাদের যারা কর্ণধার ছিলেন, ম্যানেজমেন্ট ছিলেন, তারা খুবই সাপোর্টিভ ছিলেন। আশা করছি, তারাও অনেক খুশি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় যে, খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট আমরা কাটাতে পেরেছি।”