১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আইপিএলে দল না পাওয়া সল্টের ১০ ছক্কায় বিস্ফোরক সেঞ্চুরি

এই ওপেনারের টানা দ্বিতীয় বিধ্বংসী সেঞ্চুরি ও রেকর্ডময় ম্যাচে ২৬৭ রানের পাহাড় গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ইংল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Dec 2023, 10:56 AM

Updated : 20 Dec 2023, 11:29 AM

আইপিএলে দলগুলির কাছে বার্তা আগের ম্যাচেই পৌঁছে দিয়েছিলেন ফিল সল্ট। আইপিএল নিলামের ঠিক আগে বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে জিতিয়েছিলেন দলকে। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। নিলামে তিনি অবিক্রিত। সেই অপ্রাপ্তিকে পাত্তা না দিয়ে এবার তিনি জ্বলে উঠলেন আরও তীব্রভাবে। রেকর্ড গড়ে উপহার দিলেন আরও একটি মারকাটারি সেঞ্চুরি। রানের পাহাড় গড়ে বড় জয় পেল ইংল্যান্ড।

পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭৫ রানে হারাল ইংল্যান্ড। প্রথম দুই ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের জয়ের পর তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইংলিশদের লড়াইয়ে রাখেন সল্ট। এবার তার সেঞ্চুরিতেই সিরিজে সমতা ফেরাল দল।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ২০ ওভারে ২৬৭ রান তোলে ইংলিশরা। টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় ইনিংস এটি, সব মিলিয়ে পঞ্চম সর্বোচ্চ।

দলের রেকর্ড রান ধরা দেয় ব্যক্তিগত রেকর্ডের পথ ধরে। ৭ চার ও ১০ ছক্কায় ৫৭ বলে ১১৯ রান আসে সল্টের ব্যাট থেকে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ইংলিশ ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এটিই। ১০ ছক্কা মারা প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যানও তিনি। এছাড়াও ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি করলেন এই সংস্করণে একাধিক সেঞ্চুরি।

বিশাল রান তাড়ায় ক্যারিবিয়ানদের রান রেট ছিল ভালোই। কিন্তু সল্টের মতো লম্বা ইনিংস খেলা তো বহুদূর, লম্বা সময় টিকতেই পারেননি কেউ। ১৯২ রানে অলআউট হয় তারা ১৫.৩ ওভার খেলেই।

সল্টের তাণ্ডব আর ইংলিশদের দাপটের শুরু ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই। অভিষিক্ত ম্যাথু ফোর্ডকে ছক্কা-চার দিয়ে শুরু করেন সল্ট। চতুর্থ ওভারে আকিল হোসেনকে দুই চার ও এক ছক্কা মারেন জস বাটলার। দুজনের যৌথ ঝড়ে ফোর্ডের এক ওভার থেকে আসে ২২ রান। গুডাকেশ মোটির এক ওভারে দুজনের তিন ছক্কায় আসে ২১ রান।

দশম ওভারে ১১৭ রানে থামে দুর্দান্ত এই উদ্বোধনী জুটি। ২৯ বলে ৫৫ রানে ফেরেন ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার।

ঝড়ের বেগ তাতে কমেনি, বরং বেড়ে যায় আরও। পরের ওভারেই শেন রাদারফোর্ডকে টানা তিন ছক্কায় তুলাধুনা করেন সল্ট। ৪৮ বলে পৌঁছে যান শতরানে।

তিনে নেমে উইল জ্যাকস খেলতে পারেন কেবল ৯ বল। এর মধ্যেই দুটি করে চার-ছক্কা মেরে তিনি ২৪ রান করে ফিরে যান।

সেখান থকে দায়িত্ব বুঝে নেন লিয়াম লিভিংস্টোন। সল্টকেও একরকম দর্শক বানিয়ে তিনি তাণ্ডব চালান ক্যারিবিয়ান বোলারদের ওপর।

সল্টের রেকর্ড গড়া ইনিংস শেষ হয় আন্দ্রে রাসেলের ইয়র্কারে ১৯তম ওভারে। লিভিংস্টোন অপরাজিত থাকেন চারটি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ৫২ রান করে।

প্রথম ১০ ওভারে ১১৯ রান তোলা ইংল্যান্ড শেষ ১০ ওভারে তোলে ১৪৮।

রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলেই মইন আলির শিকার হন ব্র্যান্ডন কিংস। তবে নিকোলাস পুরান তিনে নেমেই টানা দুটি চার ও দুই ছক্কায় ওভার থেকে নেন ২০ রান। পরের ওভারে রিস টপলিকে টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে পরের বলে আউট হয়ে যান কাইল মেয়ার্স।

এই ধারাই পরে চলতে থাকে। দ্রুত রান তুললেও ইনিংস টেনে নিতে ব্যর্থ হন সবাই। ১৫ বলে ৩৯ করে স্যাম কারানের শিকার হন পুরান। ৮ বলে ১৬ রানে ফেরেন শেই হোপ।

রাদারফোর্ডও একই পথের পথিক। ১৫ বল খেলে তিনি করেন ৩৬। এটুকুও করতে পারেননি অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল (৪) ও অভিজ্ঞ জেসন হোল্ডার (০)।

৯ ওভারে ১২০ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু উইকেট নেই ততক্ষণে ৭টি।

রাসেল ৫ ছক্কায় ২৫ বলে ৫১ করে কিছুটা বিনোদন দেন স্থানীয় দর্শকদের। কিন্তু জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি। ২৭ বল আগেই থমকে যায় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ ত্রিনিদাদেই, বৃহস্পতিবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড: ২০ ওভারে ২৬৭/৩ (সল্ট ১১৯, বাটলার ৫৫, জ্যাকস ২৪, লিভিংস্টোন ৫১*, ব্রুক ৬*; ফোর্ড ৩-০-৫৪-০, আকিল ৪-০-৩৬-১, মেয়ার্স ১-০-৭-০, হোল্ডার ৪-০-৫৫-১, মোটি ৪-০-৫৫-০, রাসেল ৩-০-৩৭-০, রাদারফোর্ড ১-০-২৩-০)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫.৩ ওভারে ১৯২ (কিং ০, মেয়ার্স ১২, পুরান ৩৯, হোপ ১৬, রাদারফোর্ড ৩৬, পাওয়েল ৪, রাসেল ৫১, হোল্ডার ০, আকিল ১৫, ফোর্ড ৩, মোটি ০*; মইন ১-০-২০-১, টপলি ৩.৩-০-৩৭-৩, ওকস ২-০-২৫-১, কারান ২-০-২৫-২, রেহান ৩-০-৪২-২, রাশিদ ৪-০-৩৫-১)।

ফল: ইংল্যান্ড ৭৫ রানে জয়ী।

সিরিজ: পাঁচ ম্যাচ সিরিজের চারটি শেষে ২-২ সমতা

ম্যান অব দা ম্যাচ: ফিল সল্ট।