Published : 06 May 2026, 10:03 AM
‘এই ৮৭ কি সেঞ্চুরির চেয়েও ভালো?’, প্রশ্নটি শুনে মুচকি হাসলেন সাঞ্জু স্যামসন। ইনিংসটি যারা দেখেছেন, তারা হয়তো প্রশ্নের সঙ্গে দ্বিমত করবেন না। তবে হাসির রেখা ঠোঁটে ঝুলিয়ে স্যামসন সৎ উত্তরই দিলেন, “নাহ, সেঞ্চুরি মানে সেঞ্চুরিই, সবসময়ই তা স্পেশাল।” শতরানের জন্য ছোটার ইচ্ছেও যে মনে উঁকি দিয়েছিল, চেন্নাই সুপার কিংসের ব্যাটসম্যান লুকালেন না সেটিও। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের মাইলফলকের জন্য স্বার্থপর হতে চাননি তিনি।
আইপিএলে মঙ্গলবার দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের ৮ উইকেটের জয়ে ৫২ বলে ৮৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্যামসন।
চলতি মৌসুমে দুটি সেঞ্চুরি আগেই করে ফেলেছিলেন তিনি। তিন নম্বরটির হাতছানি ছিল এ দিন দিল্লিতে। দলের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ১৯ রান, তার শতরানের জন্য লাগে তখন ১৬ রান। তবে এরপর তিনি কেবল ৩ রান যোগ করেন, আরেক প্রান্তে ছক্কা-চার মেরে ১৫ বল বাকি রেখেই খেলা শেষ করে দেন কার্তিক শার্মা।
ম্যান অব দা ম্যাচের পুরস্কার নিয়ে স্যামসন বললেন, তিন অঙ্ক তার দৃ্ষ্টিতে ছিল, কিন্তু দলের জয় নিশ্চিত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি।
“হ্যাঁ, ভাবনা এসেছিল (শতরানের)। তবে এরপর মনে হয়েছিল, এটা (শতরান) করতে হলে একটু বেশিই স্বার্থপর হতে হবে আমাকে। কাজেই মনে হলো, ম্যাচটি ভালোভাবে জেতা নিশ্চিত করা যাক। আমার সঙ্গীও ভালো ব্যাট করছিল এবং তাকে বলতে চাইনি যে, ‘সিঙ্গল নিয়ে আমাকে স্ট্রাইক দাও, শতরান করতে চাই।’ আমার তা বলতে ইচ্ছে করেনি।”
স্যামসনের সেই সঙ্গী ছিলেন কার্তিক শার্মা। যে তরুণকে আইপিএলের নিলামে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল চেন্নাই। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘সিরিয়াল সিক্স হিটার’ নামে পরিচিত ২০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচে অপরাজিত ৫৪ রান করার পর এ দিন অপরাজিত থাকেন ৩১ বলে ৪১ রান করে।
দুজন যখন জুটি বেঁধেছিলেন, সপ্তম ওভারে চেন্নাইয়ের রান ছিল ২ উইকেটে ৪৫। দিল্লি ম্যাচে ছিল ভালোভাবেই। কিন্তু ৬৬ বলে ১১৪ রানের অপরাজিত জুটিতেই শেষ হয়ে যায় খেলা।
এই ম্যাচে সেঞ্চুরি না পেলেও স্যামসন অবশ্য আশা ছাড়ছেন না সামনের ম্যাচগুলিতে।
“আমার মনে হয়, খেলা শেষ করতে আসতে পারার তৃপ্তি আরও বেশি। সেটিই উপভোগ করেছি। আরও কিছু ম্যাচ বাকি আছে। দেখা যাক, আবার তিন অঙ্ক ছুঁতে পারি কি না।”
আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দলবদলে ১৮ কোটি রুপিতে রাজস্থান রয়্যালস থেকে চেন্নাইয়ে নাম লেখানোর পর মৌসুমের শুরুটা খুব ভালো ছিল না স্যামসনের। তবে ক্রমেই নিজেকে ফিরে পান তিনি। ১০ ম্যাচে তার রান এখন ৫৭.৪২ গড়ে ৪০২, স্ট্রাইক রেট ১৬৭.৫০।
দুটি সেঞ্চুরি, এই ৮৭ ছাড়াও আরেকটি ম্যাচে ৪৮ রান করেছেন তিনি। এই চার ম্যাচেই জিতেছে চেন্নাই। যে ছয় ম্যাচের চারটিতে আউট হয়েছেন তিনি দু অঙ্ক ছোঁয়ার আগে, দুটিতে ফিরেছেন ১১ রানে। এই ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই হেরেছে তার দল।