যুব এশিয়া কাপ
Published : 21 Dec 2025, 06:00 PM
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা সামির মিনহাস নিজের সেরাটা মেলে ধরলেন ফাইনালে। রেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশাল সংগ্রহ এনে দিলেন এই ওপেনার। পরে বল হাতে আলো ছড়ালেন আলি রাজা। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় কোনোরকম লড়াই-ই করতে পারল না ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
দুবাইয়ে যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তান। দাপুটে পারফরম্যান্সে তুলে নিয়েছে ১৯১ রানের বিশাল জয়।
অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে দ্বিতীয়বার শিরোপার স্বাদ পেল পাকিস্তান। ২০১২ আসরের ফাইনাল 'টাই' হলে ভারতের সঙ্গে ট্রফি ভাগাভাগি করে পাকিস্তান।
প্রতিযোগিতাটির ফাইনালে এটিই সবচেয়ে বড় জয়। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে আফগানিস্তানের ১৮৫ রানের জয় ছিল আগের রেকর্ড।
যুব ওয়ানডেতে ভারতের বিপক্ষে এই প্রথম একশ রানের জয় পেল পাকিস্তান। দুই দলের লড়াইয়ে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়। ২০১৮ সালে ২০৩ রানে জিতেছিল ভারত।
রেকর্ডের মালা গেঁথে ১৭২ রানের ইনিংস খেলেন সামির। সঙ্গে আহমেদ হুসাইনের ৫৬ রানের সৌজন্যে ৩৪৭ রান করে পাকিস্তান, যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে যা সর্বোচ্চ। এই প্রতিযোগিতায় এর চেয়ে বেশি রান করতে পারেনি পাকিস্তান।
পাহাড় টপকানোর চ্যালেঞ্জে মুখ থুবড়ে পড়ে ভারতের ব্যাটিং। সামিরের রানই করতে পারেনি টুর্নামেন্টের রেকর্ড শিরোপাধারীরা, গুটিয়ে যায় স্রেফ ১৫৬ রানে।
সামিরের ৯টি ছক্কা ও ১৭টি চারে সাজানো ১১৩ বলের ইনিংসটি যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ। আগের সেরা ছিল শাহজাইব খানের ১৫৯। আর যুব এশিয়া কাপের ফাইনালেও এটি সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড।
এমন পারফরম্যান্সের পর ফাইনালের সেরা সামির ছাড়া আর কে!
এবারের এশিয়া কাপে এটা সামিরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। গ্রুপ পর্বে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৭ রান করেন তিনি। তবে সেই ম্যাচটির যুব ওয়ানডের স্বীকৃতি নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
সব মিলিয়ে, টুর্নামেন্টে ৪৭১ রান আসে তার ব্যাট থেকে, ১৫৭ ব্যাটিং গড়ে। তিনশ রানও করতে পারেননি আর কেউ। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও ওঠে তারই হাতে।
অবদান কম নয় বোলারদের, বিশেষ করে পেসার আলি রাজার। ৪২ রান খরচায় ৪ শিকার ধরেন তিনি। দুটি করে প্রাপ্তি মোহাম্মাদ সাইয়াম, আব্দুল সুবহান ও হুজাইফা আহসানের।
আইসিসি একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান চতুর্থ ওভারে হারায় হামজা জহুরকে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২ ছক্কা ও ১ চারে ১৮ রান করেন তিনি।
শুরুর সেই ধাক্কা সামাল দেয় দলটি সামির ও উসমান খানের ব্যাটে। দ্রুত রান তুলে ২৯ বলে ফিফটিতে পা রাখেন সামির। আরেক প্রান্তে উসমানও ছিলেন সাবলীল। কিন্তু তিনি ইনিংস বড় করতে পারেননি। তাকে ফিরিয়ে ৯২ রানের জুটি ভাঙেন খিলান প্যাটেল।
এরপর হুসাইনকে নিয়ে ম্যাচের সবচেয়ে বড় জুটি গড়েন সামির। এই সময়ে ৭১ বলে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিয়ে যান হুসাইন।
সামির ও হুসাইনের জুটির রান একশ স্পর্শ করে ৯০ বলে। কয়েক ওভার পর ৬৯ বলে ফিফটি করেন হুসাইন। এই দুজনের ১৩৭ রানের বন্ধনও ভাঙেন খিলান, হুসাইনকে ফিরিয়ে।
তবে এক প্রান্ত ধরে রেখে রানের চাকায় দম দিয়ে যান সামির। ১০৫ বলে দেড়শ স্পর্শ ছোঁয়ার পরের ওভারে দিপেশকে চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকান তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে স্লোয়ারে মিড-অনে ধরা পড়ে বাজে তার বিদায়ঘণ্টা।
ঝড় তোলার মঞ্চ পেয়েও সেটা কাজে লাগাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। তাতে সাড়ে তিনশ করতে পারেনি পাকিস্তান।
পাকিস্তানের পাহাড়সম রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রেকে হারিয়ে ফেলে ভারত। বিস্ময় বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি ঝড়ের আভাস দিয়ে ফিরে যান যান। দুই জনকেই বিদায় করেন আলি রাজা। এই দুই উইকেটের মাঝে অ্যারন জর্জকে ফেরান সাইয়াম।
এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ভারত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। দলটির ইনিংসে একজনও করতে পারেননি ফিফটি। ত্রিশ রান পার করতে পারেন কেবল একজন।
ভারতের রান দেড়শ ছাড়ায় মূলত দিপেশের ব্যাটে। দশ নম্বরে নেমে দুই ছক্কা ও ৬টি চারে ১৬ বলে ৩৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন তিনি। তাকে বিদায় করেই পাকিস্তানকে উল্লাসে মাতান আলি রাজা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ৩৪৭/৮ (হামজা ১৮, সামির ১৭২, উসমান ৩৫, হুসাইন ৫৬, ইউসাফ ১৯, হুজাইফা ০, শায়ান ৭, সুবহান ২, শাফিক ১২*, সাইয়াম ১৩*; কিষান ৫-০-৫-০, হেনিল ১০-০-৬২-২, দিপেশ ১০-০-৮৩-৩, কানিস্ক ১০-০-৭২-১, খিলান ১০-০-৪৪-২, আয়ুশ ৫-০-৩৫-০)
ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ২৬.২ ওভারে ১৫৬ (সুরিয়াভানশি ২৬, আয়ুশ ২, অ্যারন ১৬, ভিহান ৭, ভেদান্ত ৯, অভিজ্ঞান ১৩, কানিস্ক ৯, খিলান ১৯, হেনিল ৬, দিপেশ ৩৬, কিষান ৩*; রাজা ৬.২-০-৪২-৪, সাইয়াম ৫-১-৩৮-২, সুবহান ৮-১-২৯-২, শাফিক ৫-১-৩২-০, হুজাইফা ২-০-১২-২)
ফল: পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল ১৯১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সামির মিনহাস
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: সামির মিনহাস