২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

মুশফিককে ছাপিয়ে খুলনাকে জেতালেন লুইস-এনামুল

বরিশালের ১৮৭ রান সহজেই পেরিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পেল খুলনা।

মুশফিককে ছাপিয়ে খুলনাকে জেতালেন লুইস-এনামুল

ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা এনামুল হক। 

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2024, 10:15 PM

Updated : 23 Jan 2024, 09:37 AM

রানের দেখা মিলল দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে। মুশফিকুর রহিমের চমৎকার ইনিংসে চলতি আসরের সর্বোচ্চ স্কোর দাঁড় করাল ফরচুন বরিশাল। কিন্তু সেই পুঁজি নিয়েও তারা জমাতে পারল না লড়াই। বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে ঝড় তুললেন এভিন লুইস। তার বিস্ফোরক ইনিংসের পর হাল ধরলেন এনামুল হক। অধিনায়কের দায়িত্বশীল ইনিংসে অনায়াস জয় পেল খুলনা টাইগার্স। 

লুইসের তাণ্ডবে পাওয়ার প্লেতেই ৮৭ রান করে ফেলে খুলনা। বিপিএলের ইতিহাসে যা রেকর্ড। এরপর আর জয়ের জন্য বেগ পেতে হয়নি তাদের। ১৮৮ রানের লক্ষ্য ১২ বল বাকি থাকতেই টপকে যায় তারা। 

মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবারের দ্বিতীয় ম্যাচে খুলনার জয় ৮ উইকেটে। এবারের আসর শুরু করল তারা টানা দুই জয়ে। 

ক্যারিবিয়ান ওপেনার লুইসের বিদায়ের পর আফিফ হোসেনের সঙ্গে মিলে দলকে এগিয়ে নেন এনামুল। আফিফ চল্লিশ পেরিয়ে ফিরে গেলেও ৬৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন খুলনা অধিনায়ক। 

মুশফিকের ৬৮ রানের ঝকঝকে ইনিংসে চলতি আসরে প্রথম দল হিসেবে ১৮০ পেরোয় বরিশাল। কিন্তু শুরু থেকেই এলোমেলো বোলিংয়ে জয়ের কোনো সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দল।  

কুয়াশা ও শিশিরের কারণে পরে ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ হয় কিছুটা। কিন্তু তার চেয়েও বড় ভূমিকা ছিল বরিশালের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের। পুরো ইনিংসেই যেন নিজেদের লাইন, লেংথ খুঁজে ফিরলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, রকিবুল হাসানরা। 

রান তাড়ায় মোহাম্মদ ইমরানের প্রথম ওভারেই ছক্কা মারেন লুইস। পরের ওভারে মিরাজও হজম করেন ছক্কা। তৃতীয় ওভারে খালেদের বলে দুই চারের সঙ্গে এক ছক্কায় ১৫ রান নেন এনামুল। 

চতুর্থ ওভারে এসে আরও খরুচে বোলিং করেন শোয়েব মালিক। ওভারে তিনটি ‘নো’ বলসহ দুই চার ও এক ছক্কায় ২০ রান দেন মালিক। তিনটি বাউন্ডারিই মারেন লুইস। 

রকিবুলের করা পঞ্চম ওভারেও ঝড় বইয়ে দেন ক্যারিবিয়ান তারকা। শেষ চার বলে দুটি করে চার-ছক্কা মারেন তিনি। এমন শুরুর পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি খুলনার। 

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ২১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন লুইস। ওই ওভারেই গতিময় শর্ট ডেলিভারিতে তাকে থামান ইমরান। ৫টি করে চার-ছক্কায় স্রেফ ২২ বলে ৫৩ রান করেন লুইস। 

ক্রিজে গিয়ে দ্বিতীয় বলে চার মারেন আফিফ। ওই ওভারে আরও একটি বাউন্ডারিসহ আসে ১৫ রান। এতে বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে তারা। আগের রেকর্ড ছিল প্রথম বিপিএলের বরিশাল বার্নার্সের ৮৬।

Image

খুলনাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন এভিন লুইস ও এনামুল হক।

এনামুল ও আফিফের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৫৯ বলে ৭৫ রান। ওয়ানডে ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৬ বলে ৪১ রান করে ফেরেন আফিফ। তার বিদায়ের আগে ৩৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এনামুল। 

এরপর ৫ চারে ১০ বলে ২৫ রানের ক্যামিওতে খুলনার জয় ত্বরান্বিত করেন শেই হোপ। ৪৪ বলের ইনিংসে ৩টি করে চার-ছক্কা মারেন এনামুল।

ম্যাচের প্রথমভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশালের শুরুটা হয় মন্থর। চতুর্থ ওভারে ওশান টমাসের বলে ফেরার আগে ১৬ বলে স্রেফ ১১ রান করেন ইব্রাহিম জাদরান। ওই ওভারের শেষ বলে আপার কাটে ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন সৌম্য সরকার। 

পরের ওভারে নাহিদুল ইসলামকে জোড়া চার মারেন তামিম। ফাহিম আশরাফের করা পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আরও দুটি বাউন্ডারি মারেন বরিশাল অধিনায়ক। ছয় ওভারে বরিশালের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪৪ রান।  

অষ্টম ওভারে পয়েন্টের দিকে ঠেলেই রানের জন্য ছোটেন সৌম্য। সরাসরি ফিল্ডার বরাবর যাওয়ায় সাড়া দেননি তামিম। সৌম্য ক্রিজে ফেরার আগেই সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্প ভাঙেন হাবিবুর রহমান। সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে ২২ বলে ৪৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি।  

এরপর বরিশালের ইনিংস এগিয়ে নেন মুশফিক ও তামিম। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৫৭ রান।  

মুশফিকের শুরুটা হয় কিছুটা মন্থর। প্রথম ১৩ বলে তিনি করেন ১০ রান। দ্বাদশ ওভারে নাসুম আহমেদকে স্লগ সুইপে ছক্কা মেরে গা ঝাড়া দেন মুশফিক। পরের ওভারে মুকিদুল ইসলামকে মারেন আরেকটি ছক্কা। 

ত্রিশ পেরিয়ে খোলসে ঢুকে যাওয়া তামিম দ্রুত রানের তাগিদে নাসুমের বলে করেন স্লগ সুইপ। কিন্তু ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে তিনি ধরা পড়ে যান হাবিবুরের হাতে। ৩৩ বলে ৪০ রান করে ফেরার আগে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিপিএলে ৩ হাজার রান পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার।

Image

বরিশালের হয়ে কার্যকর জুটি গড়েন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ।

বরিশালের ইনিংসের বাকিটা জুড়ে মুশফিকের দাপট। সপ্তদশ ওভারে টমাসের বলে এক রান নিয়ে স্রেফ ৩২ বলে তিনি পূর্ণ করেন বিপিএলে নিজের ১৯তম ফিফটি। ওই ওভারে দুই ছক্কা মারেন মাহমুদউল্লাহ। দুটি ‘নো’ বলসহ ওভার থেকে আসে ২০ রান। 

উনবিংশ ওভারে ছক্কা মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ। এবারও ফিল্ডার হাবিবুর। শেষ বলে দারুণ ড্রাইভে ওয়াইড মিড অফ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ওভারটি শেষ করেন মুশফিক।  

ফাহিমের করা শেষ ওভারের শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে ১৮৭ রানে পৌঁছে দেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ৩৯ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৫ চার ও ৪ ছক্কায়। কিন্তু জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ফরচুন বরিশাল: ২০ ওভারে ১৮৭/৪ (ইব্রাহিম ১১, তামিম ৪০, সৌম্য ১৭, মুশফিক ৬৮*, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মালিক ৫*; নাহিদুল ৪-০-২৩-০, টমাস ৪-০-৩৮-১, ফাহিম ৪-০-৩৯-০, আফিফ ১-০-১২-০, নাসুম ৪-০-৪১-১, মুকিদুল ৩-০-৩৪-১) 

খুলনা টাইগার্স: ১৮ ওভারে ১৮৮/২ (এনামুল ৬৩*, লুইস ৫৩, আফিফ ৪১, হোপ ২৫*; ইমরান ৩-০-৩৫-২, মিরাজ ৩-০-৩১-০, খালেদ ৩-০-৪২-০, মালিক ১-০-১৮-০, রকিবুল ৩-০-৩৭-০, ওয়েলালাগে ৪-০-১৭-০, সৌম্য ১-০-৮-০) 

ফল: খুলনা টাইগার্স ৮ উইকেটে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: এনামুল হক