১০টি সুযোগের আশায় ইংল্যান্ড

রাঁচির উইকেটে যে কোনো কিছু সম্ভব বলে মনে করছেন ইংলিশ স্পিনার শোয়েব বাশির।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 02:29 PM
Updated : 25 Feb 2024, 02:29 PM

পরিস্থিতি বিবেচনায় ম্যাচের লাগাম এখন অনেকটাই ভারতের মুঠোয়। এই অবস্থায় রাঁচি টেস্ট জিততে বোলিংয়ে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে ইংল্যান্ডকে। এখনই অবশ্য হাল ছাড়ছে না তারা। স্পিন সহায়ক উইকেটই মূলত আশা দেখাচ্ছে তাদের। চতুর্থ দিনে যে কোনো কিছু সম্ভব বলে মনে করছেন ইংলিশ অফ স্পিনার শোয়েব বাশির। 

পাঁচ টেস্টের সিরিজ জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ইংল্যান্ডের সামনে। এজন্য বাকি দুই দিনে তাদের নিতে হবে ১০ উইকেট, ভারতের চাই আর ১৫২ রান। 

ভারতের প্রথম ইনিংসে ৪৪ ওভার বোলিং করে ৫ উইকেট নেন বাশির। দ্বিতীয় দিন ৩১ ওভারের টানা স্পেলে তিনি ধরেন চার শিকার। তৃতীয় দিন সকালে আকাশ দিপকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ২০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। 

ভারত তৃতীয় দিন শুরু করে ৩ উইকেট হাতে নিয়ে ১৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে। কিপার-ব্যাটসম্যান ধ্রুব জুরেলের ১৪৯ বলে ৯০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান নেমে আসে ৪৬ রানে। 

এরপর দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কুলদিপ ইয়াদাভের দারুণ বোলিংয়ে ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় স্রেফ ১৪৫ রানে। এই দুজন মিলে ভাগ করে নেন ৯ উইকেট। ১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বিনা উইকেটে ৪০ রান তুলে দিন শেষ করে ভারত। 

দিনের খেলা শেষে বাশির বললেন, এখনই জয়ের আশা ছাড়ছেন না তারা। 

"দিনের শেষ দিকে একটি বা দুটি উইকেট নিতে পারলে ভালো হতো, তবে আমি ও (টম) হার্টলি জানি, আগামীকাল আমাদের কাজ বাকি আছে। ১০ উইকেট নেওয়ার জন্য ১০টি সুযোগ দরকার, এই উইকেটে সবকিছুই সম্ভব।” 

স্রেফ ৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে বাশিরের টেস্ট অভিষেক হয় বিশাখাপাত্নামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ইনিংসে ১৩৮ রানে ৩টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৮ রানে একটি উইকেট নেন তিনি। 

এক ম্যাচ বাইরে থাকার পর এবার নিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই পেয়ে পেলেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ। তার চেয়ে কম বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে পাঁচ উইকেট নিতে পারেন কেবল এই ম্যাচে বাদ পড়া লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ। বাশির এই সাফল্য উৎসর্গ করলেন তার প্রয়াত দাদা ও নানাকে।  

“এই পাঁচ উইকেট আমার প্রয়াত দাদা ও নানাকে উৎসর্গ করতে চাই, যারা এক বছরের একটু বেশি আগে মারা গেছেন। তারা টিভিতে সারাক্ষণ টেস্ট ক্রিকেট দেখতেন, টিভির সামনে সোফায় বসে থাকতেন। তাদের ইচ্ছা ছিল আমার খেলা দেখার, কিন্তু তা হয়নি।”