আভিশেক-স্যামসনের বিধ্বংসী জুটিতে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে সিরিজ ভারতের
দারুণ বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা নিতিশ কুমার রেড্ডি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আবার চেনা রূপে ফিরলেন সাঞ্জু স্যামসন।
প্রবল চাপে থাকা সাঞ্জু স্যামসন পেলেন রানের দেখা। ক্যামিও ইনিংস খেললেন আরেক ওপেনার আভিশেক শার্মা। পাওয়ার প্লেতেই তাদের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে গেল আফগানিস্তান। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করে এলেন ইশান কিষান। এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জিতে নিল ভারত।
দিল্লিতে মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটে জিতেছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল।
জয়ের ভিত অবশ্য গড়ে দেন ভারতের বোলাররা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এর আগে পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলে তিন উইকেট নেওয়া নিতিশ কুমার রেড্ডি এবার এক ম্যাচেই উইকেট নেন তিনটি। অন্যরাও কার্যকর বোলিংয়ে আফগানদের আটকে রাখেন ১৫৯ রানে। ভারত ম্যাচ জিতে যায় ৩১ বল বাকি রেখে।
প্রথম ম্যাচেও একই ব্যবধানে জিতেছিল ভারত।
বিশ্বকাপের পর সেভাবে রান না পাওয়া স্যামসন এবার ২২ বলে চারটি ছক্কা ও সাতটি চারে খেলেছেন ৫৭ রানের ইনিংস। তিন ওভারে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেওয়া নিতিশ কুমার রেড্ডি জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানে রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে হারায় আফগানিস্তান। ছয়টি চারে ৩৩ বলে ৩৭ রানের মন্থর ইনিংস খেলে থামেন অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান। দুই অঙ্ক ছুঁয়ে ফেরেন সেদিকউল্লাহ আটাল ও গুলবাদিন নাইব।
পাল্টা আক্রমণ শুরু করে বেশি দূর যেতে পারেননি দারবিশ রাসুলি। আর্শদিপ সিংয়ের বলে ছক্কার চেষ্টায় লং অফে তিলাক ভার্মার হাতে ধরা পড়েন তিনি। দুই ছক্কা ও এক চারে ১৫ বলে তিনি করেন ২৬ রান।
আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের দ্রুত বিদায়ের পর, মোহাম্মদ নাবি (১৪ বলে ২০) ও রাশিদের (১৬ বলে ২৮) দুটি ক্যামিও ইনিংসে দেড়শ ছাড়ায় আফগানিস্তান।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা একরকম উড়িয়ে দেন স্যামসন ও আভিশেক। ছয় ওভারে দুই ওপেনার যোগ করেন ৮২ রান।
সপ্তম ওভারেও ছক্কায় রাশিদকে স্বাগত জানান আভিশেক। পরের বলে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন তিনি। ভাঙে ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। ১৯ বলে চার ছক্কা ও দুই চারে ৩৯ রান করেন আভিশেক।
ঘটনাবহুল সেই ওভারে স্লিপে ক্যাচের মতো দিয়েও বাউন্ডারি পান স্যামসন। এতে ২০ বলে তিনি স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। ছক্কার চেষ্টায় তিনি ধরা পড়েন সীমানায়। ওভারে ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন রাশিদ।
একটি ছক্বা মেরেই রাশিদের বলে ক্যাচ দিয়ে থেমে যান শ্রেয়াস। তিলাক ভার্মাকে নিয়ে বাকি পথটুকু পাড়ি দেন ইশান কিষান। ২৩ বলে দুই ছক্কা ও তিন চারে ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন কিষান। ১৪ বলে এক চারে ১৫ রান করেন তিলাক।
৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন রাশিদ।
আগামী বৃহস্পতিবার একই মাঠে হবে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৯/৮ (ইব্রাহিম ৩৭, গুরবাজ ০, আটাল ১২, নাইব ১০, রাসুলি ২৬, ওমারজাই ১১, নাবি ২০, রাশিদ ২৮, নুর ৭*, মুজিব ৪*; জাসপ্রিত ৪-১-২৫-১, আর্শদিপ ৪-০-৩৫-২, আকসার ৪-০-২৮-১, বিষ্ণই ৪-০-৩২-১, নিতিশ ৩-০-২৪-৩, দুবে ১-০-১৩-০)
ভারত: ১৪.৫ ওভারে ১৬৩/৩ (স্যামসন ৫৭, আভিশেক ৩৯, কিষান ৩৮*, আইয়ার ১১, তিলাক ১৫*; মুজিব ৩-০-৩৭-০, নাবি ৩-০-৪৪-০, ওমারজাই ২-০-২৫-০, রাশিদ ৩.৫-০-৩৬-৩, নুর ২-০-১৪-০. ফারুকি ১-০-৬-০)
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: নিতিশ কুমার রেড্ডি
