Published : 22 Apr 2026, 05:09 PM
নাহিদ রানা যখন বল হাতে ছুটতে থাকেন রান আপে, গতিতে যখন কাঁপিয়ে দেন ব্যাটসম্যানদের,শন টেইটও কি ছুটতে থাকেন স্মৃতির সরণিতে? তারও পরিচয় ছিল গতি দিয়েই! প্রশ্নটি করা হলো টেইটকেই। তিনি হাসলেন। একটু আনমনাও হলেন যেন। দুজনের মিল আর অমিল তুলে ধরলেন কিছুটা। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ এরপর নিজ থেকেই বললেন আরেক সাবেক ফাস্ট বোলারের সঙ্গে মিলের কথা, যেটি শুনলে নাহিদ গর্বিত হতেই পারেন!
পেস বোলিংয়ের যে কোনো আলোচনায় ওয়াকার ইউনিসের পাশে নাম আসা মানে তরুণ যে কোনো পেসারের জন্য রোমাঞ্চকর। বিশেষ করে, তার বিষাক্ত ইয়র্কার তো ক্রিকেটের চিরায়ত লোকগাঁথার অংশ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে নাহিদের ইয়র্কার দেখে সেই ওয়াকারের কথাই মনে পড়েছে টেইটের।
তীব্র গরমের মধ্যেও অসাধারণ বোলিংয়ে সেদিন ৫ উইকেট নেন নাহিদ। এরপর দুই দিন পার হতে চলেছে। মাঠের লড়াই ঢাকা থেকে চলে এসেছে চট্টগ্রামে। কিন্তু নাহিদের আগুনে বোলিংয়ের উত্তাপ মিলিয়ে যায়নি এখনও। টেইটের সংবাদ সম্মেলনে যেন ঘুরেফিরেই এলো নাহিদের প্রসঙ্গ।
টেইট নিজেও সর্বকালের সবচেয়ে গতিময় বোলারদের একজন। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম ডেলিভারিটি করেছেন তিনিই। তবে চোটের কারণে তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি। এখানেই তিনি নিজের চেয়ে অনেক এগিয়ে রাখছেন নাহিদকে।
“(নাহিদের সঙ্গে) অনেক মিল আছে, তবে কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুবই ফিট। সে আমার চেয়েও বেশি ফিট। আমি একটু বেশি ভারী ছিলাম এবং দ্রুত বল করাটা আমার জন্য একটু বেশি কঠিন ছিল, কিন্তু তার জন্য এটা একটু সহজ, কারণ সে দুর্দান্ত অ্যাথলেট। বেশ ছিপছিপে আর শক্তিশালী। ফাস্ট বোলার হিসেবে তার শারীরিক গঠন বেশ ভালো।”
“এ কারণেই আমার আত্মবিশ্বাস আছে, বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে, যখন প্রচণ্ড গরম এবং পরপর ম্যাচ খেলতে হয়, তখন তার এই সামর্থ্যের ওপর আমার অনেক আস্থা আছে। আমি একটু ভিন্ন ছিলাম। ওর চেয়ে একটু বেশি চোটে পড়েছি আমি।”
এই কথার সুরেই টেইট টেনে আনলেন ওয়াকারকে।
“এই সিরিজে এখনও পর্যন্ত আমি যা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি, তা হলো গত ম্যাচটায় তার ইয়র্কারগুলো। ওয়াকার ইউনুসের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় অনেকটা। একজন ফাস্ট বোলার এসে টপ অর্ডারে উইকেট তুলে নিচ্ছে এবং তারপর দ্রুত ইয়র্কার দিয়ে লেজের ব্যাটসম্যানদের আউট করছে, এটা দেখতে আমার দারুণ লাগে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার খুব পছন্দের।”
নাহিদের সেদিনের পাঁচ উইকেটের শেষটি ছিল ইয়র্কারে। দুর্দান্ত সেই ইয়র্কারের জবাব পাননি দশে নামা জেডন লেনক্স। সেই ডেলিভারির আগে ও পরে আরও কয়েকটি দারুণ ইয়র্কার তিনি করেছেন।
গতি আর বাউন্স তো তার সহজাত। লাইন-লেংথ ও ধারাবাহিকতায় উন্নতিও দৃশ্যমান। ইয়র্কারও তার হাত থেকে নিয়মিত বের হতে থাকলে তিনি হয়ে উঠবেন আরও ভয়ঙ্কর। এখন স্লোয়ার ডেলিভারিও যোগ করতে পারলে ব্যাটসম্যানদের জন্য হবে আরও বিভীষিকা।
এমনিতে স্লোয়ার তিনি মাঝেমধ্যে করেন বটে। তবে খুব পোক্ত হয়নি এখনও। টেইটের অবশ্য খুব বাড়া নেই। এখনই অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করে নাহিদের জন্য সবকিছু জটিল করে তুলতে চান না তিনি।
“আধুনিক ক্রিকেটে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে, ফাস্ট বোলারদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডেলিভারি করার একটা প্রবণতা দেখা যায়। নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে… সে বেশ স্মার্ট ছেলে এবং বিষয়টিকে খুব বেশি জটিল না করার দরকার নেই, এই মুহূর্তে যেটা ওর কাজে লাগছে, তা চমৎকার। স্লোয়ার ডেলিভারি ওর আছে বটে, কিন্তু প্রয়োজন না থাকলে সেটা করার দরকার নেই।”
“অন্য বোলারদের অনেক বৈচিত্র প্রয়োজন হয়, কিন্তু নাহিদের বাউন্সার তো মারাত্মক। ১৩০ কিলোমিটার গতির বোলারের ভয়ঙ্কর বাউন্সার থাকে না, তাদের জন্য এটি (স্লোয়ার) উইকেট নেওয়ার পথ নয়, কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। এই মুহূর্তে শর্ট ডেলিভারিতে অনেক উইকেট পাচ্ছে ও, গতি এবং বাউন্সের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে। ও বুদ্ধিমান ছেলে, সময়ের সঙ্গে আরও উন্নতি করবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি চাইব সবকিছু যেন সহজ রাখে এবং শুধু গতি দিয়েই বল করে।”