৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

হার্মার-রাবাদার ছোবলে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দ. আফ্রিকার সিরিজ জয়

কেপ টাউনে অস্ট্রেলিয়াকে ১৭৬ রানে হারিয়ে, প্রায় ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা।

হার্মার-রাবাদার ছোবলে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দ. আফ্রিকার সিরিজ জয়

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা ফেইসবুক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 31 Oct 2026, 07:44 PM

Updated : 31 Oct 2026, 08:26 PM

শেষ দিনের প্রথম ওভারে জোড়া শিকার ধরে সুরটা বেঁধে দিলেন কাগিসো রাবাদা। পরে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগই দিলেন না সাইমন হার্মার। এই দুইজনের নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই সঙ্গে প্রায় ১১ বছর পর টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠল তারা।

কেপ টাউন টেস্টে রোমাঞ্চকর এক শেষের আশা করেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু শনিবার ২৮৮ রান তাড়ায় রীতিমত মুখ থুবড়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ। তাদেরকে ১১১ রানে গুটিয়ে ১৭৬ রানের জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

ডারবানে হার দিয়ে ঘরের মাঠের তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি শুরু করে প্রোটিয়ারা। ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দুই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজটি জিতে নিল তারা।

দারুণ এই পারফরম্যান্সে ২০১৬ সালের জানুয়ারির পর, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে চূড়ায় জায়গা করে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়াকে দুইয়ে নামিয়ে শীর্ষে উঠল তারা।

এই ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রের পয়েন্ট টেবিলও। শীর্ষে থেকে সিরিজটি শুরু করা অস্ট্রেলিয়া নেমে গেছে তিনে। তাদের অবনতিতে সবার ওপরে এখন নিউ জিল্যান্ড। আর দুইয়ে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামানোর পথটা গড়ে দেন রাবাদা। প্রথম ইনিংসে এক উইকেট নেওয়া এই পেসার এবার ধরেন তিন শিকার। সফরকারীদের টপ অর্ডারের তিনজনকেই ফেরান তিনি।

এরপর বাকি কাজ সারেন হার্মার। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটের পর এবার তার প্রাপ্তি ১৬ রান খরচায় ৬টি। টেস্টের এক ইনিংসে এই অফ স্পিনারের আগের সেরা বোলিং ছিল ৩৭ রানে ৬ উইকেট, গত বছর গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে।

এক টেস্টে প্রথমবারের মতো ১০ উইকেট নিলেন হার্মার। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম স্পিনার হিসেবে কেপ টাউনে ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতলেন তিনি।

সিরিজ জুড়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতে নেন মার্কো ইয়ানসেন। দুই ফিফটিতে ১৯৮ রান করার পাশাপাশি ১৩ উইকেট নেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।

লক্ষ্য তাড়ায় ইনিংসের তৃতীয় বলে উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। লেগ সাইডের বল খেলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ম্যাট রেনশ। মুখোমুখি প্রথম বলে চার মেরে রানের খাতা খোলার এক বল পর ফিরে যান মার্নাস লাবুশেন। রাবাদার ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি।

আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল মার্কো ইয়ানসেনকে টানা দুটি চার মারা ট্রাভিস হেডকে। তাকে ফিরিয়ে ৩৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রাবাদা। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে গালিতে ধরা পড়েন হেড।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান জশ ইংলিস কাটা পড়েন রানআউটে। এক ওভার পর জোড়া শিকার ধরেন হার্মার। তাকে রিভার্স সুইপ করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ধরা পড়েন অ্যালেক্স কেয়ারি। এক বল পর কট বিহাইন্ড হন কুপার কনোলি।

৪৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। একবার জীবন পাওয়া মিচেল স্টার্ক পারেননি রানের খাতা খুলতে। অনেকটা সময় ক্রিজে কাটিয়ে যখন বিদায় নেন ক্যামেরন গ্রিন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকার জয় মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার।

ওই সময় প্রতিরোধ গড়েন প্যাট কামিন্স ও ন্যাথান লায়ন। একের পর এক বল ঠেকিয়ে যান তারা। স্বাগতিকদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে এই যুগলবন্দি।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হার্মারের বলেই ভাঙে ১০৫ বল স্থায়ী ৪৫ রানের বন্ধন। ১১ রান করতে ৯০ বল খেলা কামিন্সকে এলবিডব্লিউ করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হার্মার। রিভিউ নিয়ে লাভ হয়নি কামিন্সের।

জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে এরপর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। নিজের পরের ওভারে জশ হেইজেলউডের স্টাম্প ভেঙে প্রোটিয়াদের উল্লাসে মাতান হার্মার।

তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম টেস্ট জেতার পর এনিয়ে চতুর্থবার সিরিজ হারল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে দুইবার ইংল্যান্ড ও একবার ভারতের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও সিরিজ হেরেছিল তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৩২৯

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৪২৯

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ৩৮৭

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৮৮) ৫৭.১ ওভারে ১১১ (হেড ১৪, রেনশ ০, লাবুশেন ৪, গ্রিন ২৭, ইংলিস ৪, কেয়ারি ২, কনোলি ০, স্টার্ক ০, কামিন্স ১১, লায়ন ৩৩*, হেইজেলউড ০; রাবাদা ১৪-৪-৩৯-৩, ইয়ানসেন ৮-৩-১৭-০, মুল্ডার ২-১-৪-০, হার্মার ২১.১-১৪-১৬-৬, কুটসিয়া ৬-৩-৭-০, মার্করাম ৬-২-১৩-০)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: সাইমন হার্মান

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা

ম্যান অব দ সিরিজ: মার্কো ইয়ানসেন