Published : 13 May 2025, 11:00 AM
গত বছরের ১১ মার্চ টেস্ট ক্রিকেটে সবশেষ মাঠে নেমেছেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাদা পোশাকে আবার তাকে দেখা যেতে পারে আগামী ১১ জুন। চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি মাঠে ফেরা এই ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অস্ট্রেলিয়া দলে।
১৫ জনের এই দলে বড় কোনো চমক নেই। সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের মাঝপথে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে দেশে ফেরা তরুণ ব্যাটসম্যান স্যাম কনস্টাস টিকে গেছেন দলে।
বিকল্প স্পিনার হিসেবে অনুমিতভাবেই দলে আছেন ম্যাথু কুনেমান। গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কা সফরে দুই টেস্টে ১৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তার একাদশে বাইরে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। একমাত্র স্পিনার হিসেবে ন্যাথান লায়নেরই খেলার কথা। তবে ফাইনালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে কুনেমানকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হতে পারে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে খেলবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের এই স্কোয়াডই।
চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও দলে রাখা হয়েছে জশ হেইজেলউডকে। তিনি ও অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ছিলেন না সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরে।
টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতে সম্ভাবনার ছাপ রাখা অলরাউন্ডার বাউ ওয়েবস্টার ধরে রেখেছেন জায়গা। এবারের শেফিল্ড শিল্ডের ফাইনালে ১১ উইকেট নিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক ব্রেন্ডান ডগেট সফরে যাচ্ছেন রিজার্ভ হিসেবে। কাউন্টি ক্রিকেটেও ডারহামের হয়ে এখন ভালো পারফর্ম করছেন ৩১ বছর বয়সী এই পেসার।
গ্রিনের ফেরাটাই আপাতত সবচেয়ে বড় খবর অস্ট্রেলিয়ার জন্য। গত সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে সীমিত ওভারের সিরিজ থেকে চোট নিয়ে ফেরেন তিনি। এরপর পিঠে অস্ত্রোপচার হয় এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের। সাত মাস পর কদিন আগে মাঠে ফেরেন কাউন্টি ক্রিকেট দিয়ে। গ্লস্টারশায়ারের হয়ে অভিষেকে করেন সেঞ্চুরি। তবে পরের দুই ম্যাচে ভালো করতে পারেননি তিনি।
মাঠে ফিরলেও আপাতত তার পরিচয় শুধুই ব্যাটসম্যান। বছরের শেষ দিকে অ্যাশেজের আগ পর্যন্ত তিনি বোলিং করতে পারবেন না। স্রেফ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি একাদশে জায়গা পেতে পারেন কি না, এটিই এখন বড় কৌতূহল।
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের পরিকল্পনার ওপর। শ্রীলঙ্কা সফরে উসমান খাওয়াজার সঙ্গে ট্রাভিস হেডকে ওপেন করানো হয়েছিল বিশেষ ভাবনা থেকে। স্যাম কনস্টাসকে তাই একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছিল। এখন হেডকেই ওপেন করানো হবে নাকি কনস্টাসকে ফেরানো হবে একাদশে, এই প্রশ্ন থাকছে।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে আলোচনা আছে, খাওয়াজার সঙ্গে মার্নাস লাবুশেনকে ওপেন করানোর। সেক্ষেত্রে তিন নম্বরে দেখা যেতে পরে গ্রিনকে। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে অবশ্য একবারই এত ওপরে ব্যাটিং করেছেন তিনি। তবে স্টিভেন স্মিথ ওপেন করার সময়টায় কিছুদিন চার নম্বরে খেলেছেন গ্রিন। ক্যারিয়ার সেরা ১৭৪ রানের ইনিংস খেলেছেন চারে নেমেই।
ওয়েবস্টারকে একাদশের বাইরে ঠেলে গ্রিনকে ছয় নম্বরে খেলানোর সুযোগও আছে। তবে সেক্ষেত্রে বোলিংয়ে ভালো একটি বিকল্প কমে যাবে দলের।
ফাইনালের আগে এসব নিয়েই ছক কষতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
ফাইনালের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটতে চলেছে আইপিএলের সূচির কারণেও। স্থগিত হওয়া আসরটি আবার শুরু হচ্ছে শনিবার। ফাইনাল পিছিয়ে এখন হবে ৩ জুন। মে মাসের শেষ দিকেই স্কটল্যান্ডে প্রস্তুতি ক্যাম্প হওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়া দলের।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একজন মুখপাত্র ইএসপিএনক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন, আইপিএল খেলা বা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ক্রিকেটারদের ওপরই ছেড়ে দেবেন তারা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে আইপিএলের ফাইনাল খেলার লড়াইয়ে টিকে আছেন জশ ইংলিস (পাঞ্জাব কিংস) ও মিচেল স্টার্ক (দিল্লি ক্যাপিটালস)। তাদের ভারতে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া সানরাইজার্স হায়দরাবাদের দুই ক্রিকেটার হেড ও কামিন্স নাও ফিরতে পারেন ভারতে।
ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল শুরু ১১ জুন। প্রথম দল হিসেবে দ্বিতীয় শিরোপার জন্য লড়বে বর্তমান অস্ট্রেলিয়া। তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার এটি প্রথম ফাইনাল।
ক্যারিবিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ শুরু ২৫ জুন। প্রথম টেস্ট বারবাডোজে, পরের দুটি গ্রেনাডা ও জ্যামাইকায়।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, উসমান খাওয়াজা, স্যাম কনস্টাস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বাউ ওয়েবস্টার
সফরসঙ্গী রিজার্ভ: ব্রেন্ডার ডগেট