Published : 09 Nov 2025, 09:05 PM
৯০ রানে দাঁড়িয়ে মোহাম্মাদ নাঈম শেখ খেলার চেষ্টা করলেন স্কুপ। ব্যাটে-বলে হলো না। উপড়ে গেল স্টাম্প। আরেক মাঠে ৯২ রানে থাকা সৌম্য সরকার স্লগ সুইপ করলেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল। ধরা পড়লেন তিনি মিড উইকেটে। শতরানের সুবাস পেয়েও হারিয়ে ফেললেন বাঁহাতি দুই ব্যাটসম্যান।
জাতীয় ক্রিকেট লিগে দুই ব্যাটসম্যানের আক্ষেপের দিনে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির আহমেদ ও পেসার সফর আলি, মৌসুমে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে অভিজ্ঞ পেসার আবু জায়েদ নিয়েছেন চার উইকেট।
সৌম্যর আক্ষেপ ৮ রানের
আগের দুই রাউন্ডের চার ইনিংস মিলিয়ে সৌম্য সরকারের রান ছিল মোট ৬৩। প্রতিটিতেই তিনি ওপেন করেছিলেন ইনিংস। এবার চার নম্বরে নেমে ১০ চার ও ১ ছক্কায় করলেন ১১৯ বলে ৯২।
চট্টগ্রামে ৮ উইকেটে ৩৪০ রান নিয়ে দিন শুরু করা চট্টগ্রাম বিভাগ প্রথম ইনিংস শেষ করে ৩৫১ রানে। আগের দিন চার উইকেট শিকার করা পেসার সফর এ দিন যোগ করেন আরেকটি। চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে দুবার পাঁচ উইকেট নিলেন এই পেসার।
খুলনা বিভাগ দ্বিতীয় দিন শেষ করে ৮ উইকেটে ২৪৯ রান নিয়ে।
মেহেদি হাসান ও এনামুল হক আশিকের ছোবলে খুলনা তিন উইকেট হারায় ২৫ রানের মধ্যে। ৯ রানে আউট হন অভিজ্ঞ এনামুল হক।
এরপর কিছুটা লড়াইয়ের করে ফিরে যান অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (২৫) ও শাহরিয়ার সাকিব (৩০)।
সৌম্য আরেকপ্রান্তে ফিফটি করেন ৬৪ বলে। একই গতিতে খেলেই এগিয়ে যান শতরানের দিকে। কিন্তু আশরাফুল হাসানের বাঁহাতি স্পিনে ছক্কার চেষ্টায় আউট হয়ে যান ৮ রান দূরে।
এরপর খুলনাকে এগিয়ে নেন মূলত জিয়াউর রহমান। দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান ও নাহিদুল ইসলাম টিকতে পারেননি। খুলনার রান আরও বাড়ানোর আশা নিয়ে ৫৫ রানে অপরাজিত জিয়াউর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮৯.৩ ওভারে ৩৫১ (আগের দিন ৩৪০/৮) (আশরাফুল ১২, মেহেদি ২, আশিক ৫*; সফর ১৯-৪-৫৫-৫, মেহেদি রানা ২০.১-৩-৮৫-৩, শেখ মেহেদি ২৪-৩-৮৬-১, জিয়াউর ৩-১-১০-০, নাহিদুল ১২-২-৫৫-০, মুনতাসির ৮-০-৩৩-১, সৌম্য ৩-০-২০-০)
খুলনা বিভাগ ১ম ইনিংস: ৭১.৪ ওভারে ২৪৯/৮ (অমিত ৮, মুন্তাসির ০, এনামুল ৯, সৌম্য ৯২, মিঠুন ২৯, শাহরিয়ার ৩০, জিয়াউর ৫৫*, শেখ মেহেদি ৯, নাহিদুল ০, মেহেদি রানা ৩*; মেহেদি ১৭-২-৫৫-৪, আশিক ১০-১-৪৪-১, নাঈম ১৯.৪-২-৭২-০, শাহ পরান ৭-২-২৯-১, আশরাফুল ১৮-৫-৪২-২)।
১৯৯ রানেই লিডের আশায় সিলেট
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিলেট বিভাগের ইনিংস শেষ হয়েছে ১৯৯ রানে। তার পরও লিড নেওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েছে তারা। দ্বিতীয় দিন শেষে রংপুর বিভাগের রান ৮ উইকেটে ১৮৭।
সিলেট দিন শুরু করে ৭ উইকেটে ১৭২ রান নিয়ে। এ দিন আর ১০ ওভারের মতো খেলে যোগ করতে পারে তারা ২৭ রান। রংপুরের পেসার মুকিদুল ইসলাম, রবিউল হক ও পেস বোলিং অলরাউন্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন শিকার করেন তিনটি করে উইকেট।
রংপুর ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভার থেকেই উইকেট হারায় নিয়মিত বিরতিতে। ৬৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় তারা।
পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা লড়াই করে একটু উদ্ধার করেন দলকে। সাতে নেমে অভিজ্ঞ তানবীর হায়দার করেন ৪৯ রান, আটে নেমে আবু হাশিম করেন ৩১। পেসার রবিউল ৮৮ বল খেলে ২৭ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেন দিন।
আগের দুই রাউন্ডে না থাকা আবু জায়েদ চৌধুরি মাঠে ফিরে শিকার করেন চার উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার উইকেট এখন ৩২১টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ৫৮.৩ ওভারে ১৯৯ (আগের দিন ১৭২/৭) (রেজাউর ৩৩, সাকিব ১৪*, আবু জায়েদ ৮, নাবিল ২; মুকিদুল ১৬.১-২-৫৬-৩, রবিউল ১৭.২-৫-৩২-৩, আল মামুন ১২-১-৫৫-৩, হাশিম ১১-৩-৩৪-১, শিহাব ২-০-১৪-০)।
রংপুর বিভাগ ১ম ইনিংস: ৬৬ ওভারে ১৮৭/৮ (জাভেদ ২, আল মামুন ১৩, আলাউদ্দিন ৫, নাঈম ০, মিম ১, নাসির ২১, তানবীর ৪৯, হাশিম ৩১, রবিউল ২৭*, মুকিদুল ০; আবু জায়েদ ১৩.২-২-৩৬-৪, রেজাউর ১৬.৪-৩-৫৭-১, সৈকত ৬-০-১২-০, গালিব ১-১-০-০, নাবিল ২০-৯-২৭-১, শাহানুর ৪-২-৬-০, সাকিব ৫-০-২৪-১)।
বরিশালের দুর্দশা
বরিশাল বিভাগের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলেও তাদেরকে লড়াইয়ে রেখেছে বোলাররা। রাজশাহী বিভাগ লিড পেলেও তা খুব বড় হয়নি।
বরিশালের ২১২ রানের জবাবে রাজশাহী তোলে ২৩৫ রান। বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষ করে ১ উইকেটে ২২ রানে।
ইয়াসিন আরাফাত মিশু ও তানভির ইসলামের দারুণ বোলিংয়ে একসময় অবশ্য লিড পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বরিশাল। ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারায় রাজশাহী। অধিনায়ক সাব্বির হোসেন ফেরেন ১৬ রানে, অভিজ্ঞ সাব্বির রহমান করেন ৭।
চারে নামা প্রিতম কুমার ৬৫ রান করে দলকে টেনে নেন কিছুটা। ষষ্ঠ উইকেটে তিনি ৭৬ রানের জুটি গড়েন সানজামুল ইসলামের সঙ্গে।
সানজামুল ৩৮ করে ফিরে গেলেও লোয়ার অর্ডারদের লড়াই চলতে থাকে। ৯ নম্বরে নেমে ২৭ রান করেন নিহাদ উজ জামান। তবে রাজশাহী লিড পায় মূলত দশে নামা আলি মোহাম্মদ ওয়ালিদের ব্যাটে। চারটি চার ও দুই ছক্কায় ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ইফতিখার হোসেন ইফতিকে হারায় দ্রুতই। দিন শেষে রাজশাহীর চেয়ে ১ রানে পিছিয়ে তারা, উইকেট আছে ৯টি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ২১২
রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস: ৭২.৪ ওভারে ২৩৫ (আগের দিন ৬/০) (মিজানুর ৬, সাব্বির হোসেন ১৬, ইমন ৩, প্রিতম ৬৫, সাব্বির রহমান ৭, শাকির ৪, সানজামুল ৩৮, রাহিম ৯, নিহাদ ২৭, ওয়ালিদ ৪৫*, শফিকুল ৩; ইয়াসিন ১৪-৫-৩৩-৩, তানভির ৩৩.৪-৭-১০২-৫, মইন ৫-০-২৭-০, রুয়েল ১৭-২-৪৮-২, শামসুর ১-০-২-০, সালমান ২-০-১১-০)।
বরিশাল বিভাগ ২য় ইনিংস: ১১ ওভারে ২২/১ (ইফতি ৪, জাহিদ ৬*, ফজলে মাহমুদ ১২*; শফিকুল ৪-১-৭-০, রাহিম ৫-১-৬-১, নিহাদ ২-০-৯-০)।
স্কুপে শেষ নাঈমের আশা
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ৩৩৬ রানে।
বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে ২ উইকেটে ১০০ রান তুলেছিল ময়মনসিংহ। নাঈম অপরাজিত ছিলেন ৫৫ রানে। দ্বিতীয় দিনে তিনি এগিয়ে যান শতরানের দিকে। কিন্তু টানা দ্বিতীয় শতরান পাননি একটুর জন্য। আনিসুলের বলে ওই স্কুপ শটে বোল্ড হয়ে যান ১৫৬ বলে ৯০ রান করে।
আগের দিন চোট নিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া অভিজ্ঞ আব্দুল মজিদ আবার ক্রিজে ফিরে আউট হয়ে যান ৩৪ রানে। অধিনায়ক শুভাগত হোম ফেরেন ৩৭ রানে।
এক পর্যায়ে ময়মনসিংহের রান ছিল ৮ উইকেটে ২৩৭। সেই দলকে তিনশ পার করিয়ে নেন শহিদুল ইসলাম। ৯ নম্বরে নেমে ৫ ছক্কায় ৯৭ বলে ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। দশে নামা আরিফ আহমেদের (৩১) সঙ্গে নবম উইকেটে গড়েন তিনি ৭৫ রানের জুটি।
ঢাকা বিভাগ ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ ওভার খেলে কোনো উইকেট হারায়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ময়মনসিংহ বিভাগ ১ম ইনিংস: ১০২.১ ওভারে ৩৩৬ (আগের দিন ১০০/২) (নাঈম শেখ ৯০,, মজিদ ৩৪, আমিনুল ৮, আল আমিন ১০, শুভাগত ৩৭, তাহজিবুল ১৩, শহিদুল ৭৯, আরিফ ৩১, মারুফ ৫*; সুমন ১৫-৫-৩২-০, সাকিল ১৬.১-২-৪৫-৪, এনামুল ২১-২-৮৩-১, নাজমুল অপু ২৯-২-১০০-২, রায়ান ৬-২-১৪-১, আনিসুল ৫-০-১৫-১, তাইবুর ১০-১-৩৩-১)।
ঢাকা বিভাগ ১ম ইনিংস: ১২.১ ওভারে ১৭/০