বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রথম সেঞ্চুরির ঠিকানায় বেথেল
পেশাদার ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ২১ বছর বয়সী ইংলিশ ব্যাটসম্যান।
নান্দ্রে বার্গারের ফুল টসকে কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে সেকি উল্লাস জ্যাকব বেথেলের। দুই হাত দুইদিকে প্রসারিত করে গর্জে উঠলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো বটেই, পেশাদার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি বলে কথা! উদযাপনেই ফুটে উঠল বেথেলের জন্য কত আকাঙ্ক্ষিত ছিল এটি।
আগের ম্যাচে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফিরেছিলেন বেথেল। তবে এবার আর ভুল করলেন না ইংলিশ তরুণ ব্যাটসম্যান। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে নিজের ইনিংসকে আরও সামনে টেনে নিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের গুঁড়িয়ে পেলেন অনির্বচনীয় এক স্বাদ।
সাউথ্যাম্পটনে রোববার প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ১১০ রান করেন বেথেল। তার ৮২ বলের ইনিংসটি সাজানো ৩ ছক্কা ও ১৩ চারে।
এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত ২৫টি প্রথম শ্রেণি, লিস্ট ‘এ’ ৩০টি ও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৭৯ ম্যাচ খেলেও সেঞ্চুরির স্বাদ পাচ্ছিলেন না বেথেল। টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৬ রানের ইনিংস এত দিন ছিল তার পেশাদার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ।
এবার ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন একটা না খেলা বেথেলকে চলতি সিরিজের দলে রাখা নিয়েও ইংলিশ ক্রিকেটে চলছিল চর্চা। এই ম্যাচের আগে স্কাই স্পোর্টসে পূর্বসূরি স্টুয়ার্ট ব্রডের সঙ্গে আলাপাকালে বেথেল নিজেও বলেন, 'ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও বেশি ম্যাচ খেলা উচিত ছিল' তার। তবে সেই তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রেখে সেসব আলোচনা যেন আড়াল করে দিলেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
সপ্তদশ ওভারে যখন ৪৮ বলে ৬২ রান করে বিদায় নেন জেমি স্মিথ, ক্রিজে যান বেথেল। মুখোমুখি চতুর্থ বলে বার্গারকে চার মারেন তিনি। পরে ওভারে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কেশাভ মহারাজের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কায় ওড়ান।
বেথেলের ব্যাট থেকে আসতে থাকে বাউন্ডারি নিয়মিত। পঞ্চাশের আগে একবার জীবন পান তিনি। ভিয়ান মুল্ডারের বলে তার ক্যাচ নিতে পারেননি বার্গার। ৪৫ রানে বেঁচে গিয়ে ৪৮ বলে ফিফটিতে পা রাখেন বেথেল।
পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরের বলেই ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। এরপর অভিষিক্ত কোডি ইউসুফকে মারেন টানা দুই চার। ব্রেভিসের পরের ওভারে আরেকটি ছক্কা হাঁকান বেথেল।
ফিফটির পর আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ৪০তম ওভারে বার্গারকে ওই চারে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যান বেথেল ৭৬ বলে। পঞ্চাশ থেকে একশ স্পর্শ করতে তার লাগে কেবল ২৮ বল।
সেঞ্চুরি ছোঁয়া ওভারে বার্গারকে আরও দুটি চার মারেন বেথেল। কিন্তু এরপর আর টিকতে পারেননি তিনি। পরে ওভারে মহারাজের বলে স্টাম্পড হয়ে শেষ হয় তার চমৎকার ইনিংসের পথচলা।
এদিন সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন জো রুটও। ক্যারিয়ারের ১৯তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ইংলিশ তারকা ব্যাটসম্যান খেলেন ঠিক ১০০ রানের ইনিংস। তার ৯৬ বলের ইনিংসে ৬টি চার, নেই কোনো ছক্কা।
শেষ দিকে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩২ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন জস বাটলার। ৮ চলে ১৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন উইল জ্যাকস।
তাদের নৈপুণ্যে ৫ উইকেটে ৪১৪ রানের পুঁজি গড়ে ইংল্যান্ড। ওয়ানডেতে এনিয়ে সপ্তমবার ৪০০ স্পর্শ করল ইংলিশদের রান।
