Published : 26 Feb 2025, 10:10 AM
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দিনটি হতে পারত একদম ফাঁকা। সূচিতে ম্যাচ থাকত, কিন্তু মাঠে থাকত না ক্রিকেট। যদি ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের অনুরোধ রাখত ইংল্যান্ডের বোর্ড। সেই ম্যাচটিই এখন ইংল্যান্ডের জন্য তো বটেই, আফগানিস্তানের জন্যও মহাগুরুত্বপূর্ণ। জিতলে বেঁচে থাকবে সেমি-ফাইনালের আশা, হারলেই বাদ!
দুই দলেরই এটি কেবল দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে হেরেছে দুই দলই। তবে এই ম্যাচটি নকআউট হয়ে গেছে অন্য ম্যাচের পরিণতির কারণে। রাওয়ালপিন্ডিতে মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে জয়-পরাজয় এলে চিত্র থাকত ভিন্নরকম। কিন্তু বৃষ্টিতে সেই ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় এক পয়েন্ট করে পেয়েছে দুই দলই। তাদের পয়েন্ট এখন তিন করে। আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ পরিণত হয়েছে নক আউটে।
লাহোরে আফগানদের সঙ্গে ইংলিশদের লড়াই শুরু বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ৩টায়।
এই ম্যাচটি নিয়ে চর্চা চলছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরুর অনেক আগে থেকেই। আফগানিস্তানে নারীদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়া, নারীদের ক্রিকেটসহ যাবতীয় খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বর্জন করতে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) অনুরোধ করেছিলেন এক দল ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ। ইসিবির কাছে লেবার পার্টির সাংসদ টোনিয়া অ্যান্টোনিয়াজির পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর ছিল ১৬০ জন সাংসদের।
ইসিবি অবশ্য নানা বাস্তবতা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বর্জনের পথে হাঁটেনি। তবে আফগানিস্তানের ‘ভয়ঙ্কর নারী নিপীড়ন’ চলছে উল্লেখ করে আইসিসি ও ক্রিকেট বিশ্বের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান ইসিবির চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন।
ম্যাচের আগের দিন লাহোরে দুই দলের অধিনায়কের সংবাদ সম্মেলনেও এই প্রসঙ্গটি উঠেছে। আফগান অধিনায়ক হাশমাতউল্লাহ শাহিদি বলেছেন, তাদেরও চাওয়া আফগানিস্তানে নারীসহ সবাই ক্রিকেট খেলুক। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যাপারে অসহায়ত্বের কথা উল্লেখ করে তারা মাঠের ক্রিকেটেই মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। আফগানিস্তানে নারীদের দুর্দশায় চরম ব্যথিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। তার আশা, ক্রিকেট দিয়েই নিপীড়িতদের কিছুটা আনন্দ দেওয়া যাবে।
দুই দলের সবশেষ ম্যাচটি আফগানিস্তানের জন্য সুখময় এক স্মৃতি। ২০২৩ বিশ্বকাপে দিল্লিতে ইংলিশদের ৬৯ রানে হারিয়েছিল শাহিদির দল। সেই ম্যাচকে এবার প্রেরণা মানছেন আফগান অধিনায়ক। তবে নতুন দিনে সবকিছুই যে নতুন করে করার বাস্তবতাও তিনি জানেন।
‘২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ ছিল আমাদের এবং আমরা তাদেরকে হারিয়েছিলাম। সেই আত্মবিশ্বাস এবারও আমাদের সঙ্গী। তবে সেই ম্যাচটি এখন অতীত। নতুন ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে আমাদের।”
“আমরা জানি, ইংল্যান্ড বিশ্বের সেরা দলগুলির একটি। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটি তাই কঠিন। তবে যে কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য আমরা প্রস্তত। এই পর্যায়ে আসতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাদের। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে আমরা প্রস্তুত। ২০২৩ বিশ্বকাপের ম্যাচ থেকে আত্মবিশ্বাস অবশ্যই নেব আমরা। তবে এবার নতুন দিনে নতুন ম্যাচ। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তাদেরকে হারাতে।”
আফগানিস্তানের প্রতি সমীহের কমতি নেই জস বাটলারের। তবে নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে জিততে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
“তারা খুবই লড়িয়ে একটি দল এবং খুব ভালো পারফর্ম করে চলেছে, সময়ের সঙ্গে ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠছে এবং তাদের প্রতি সম্মানের অভাব নেই আমাদের। তাদের ধরন কিছুটা অনন্য এবং রাশিদ ও নুরের মতো দারুণ স্পিনার আছে, যে দুজন দুর্দান্ত এবং তাদের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে আমাদের।”
“তবে প্রতিপক্ষের দিকে তাকানোর পাশাপাশি নিজেদের দিকেও মনোযোগ দিতে হবে আমাদের, নিজেদের সেরাটা যেন মেলে ধরতে পারি এবং সেটুকু পারলেই জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে, এই আত্মবিশ্বাস যেন রাখতে পারি।”