Published : 20 Mar 2026, 04:15 PM
ভিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মার পাশাপাশি থাকা তো বহুদূর, তাদের সঙ্গে তুলনায় আসতে হলেও এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে সাঞ্জু স্যামসনকে। তবে রাজস্থান রয়্যালসের জন্য তিনিই কোহলি কিংবা রোহিত। এমন একজন ক্রিকেটারকে হারানোর অভাব অপূরণীয় বলেই মনে করেন রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পারাগ। অন্য কোনোভাবে সেই ঘাটতি পুষিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করছেন তারা।
আইপিএল ক্যারিয়ারের ১৩ মৌসুমে ১১টিতেই রাজস্থানের হয়ে খেলেছেন স্যামসন। এই দলের হয়ে রান করেছেন ৪ হাজার ২১৯। দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬৭ ম্যাচে। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির একরকম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু মৌসুম শুরু হয় টানাপোড়েন। যেটির জের ধরে তিনি দল বদলের সিদ্ধান্ত নেন। রাভিন্দ্রা জাদেজা ও স্যাম কারানকে রাজস্থানে দিয়ে ১৮ কোটি রুপিতে স্যামসনকে নেয় চেন্নাই সুপার কিংস।
গত মৌসুমে স্যামসনের চোটে ৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রিয়ান পারাগ। এবার তিনিই পেয়েছেন অধিনায়কের দায়িত্ব। জয়পুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজস্থানের বর্তমান অধিনায়ক বললেন পুরোনো অধিনায়কের শূন্যতার কথা।
“আমরা কেবল চেষ্টা করতে পারি, তার (স্যামসনের) মতো স্কিলের কাউকে খুঁজে বের করতে এবং সে যেন ব্যাটিং অর্ডারে সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে। কোনো একাদশে ভিরাট কোহলি ও রোহিত শার্মার যেমন বিকল্প নেই, তেমনি তারও নেই। স্যামসনের অভাব অপূরণীয়।”
“তাহলে আমরা কি নতুন কিছুর পরিকল্পনা করব? সেটিই আমরা আলোচনা করছি টুর্নামেন্টের পথে এগিয়ে যেতে। গত মৌসুমে পাঁচ-ছয় ম্যাচে আমরা খুব কাছে গিয়ে হেরেছি, গোটা দুয়েক ম্যাচে শেষ বলে। এবার সেই ম্যাচগুলি আমাদের পক্ষে এলে সমস্যাগুলি নিয়ে আমাদেরকে আর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না। ৪০ ওভারের লড়াই, এখানে কিছু মুহূর্ত আসবে, যখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সেদিকেই মনোযোগ দেব আমি, কে কোথায় ব্যাট করবে, টস জিতলে কী করতে হবে, এসব। এগুলো ঠিকঠাক করতে পারলে এই মৌসুমে আমরা ভালো করব।”
স্যামসনের বদলে যে দুজনকে রাজস্থান পেয়েছে, তাদের একজন জাদেজার জন্য এটি ঘরে ফেরার মতো। এই দলের হয়েই তো তিনি শুরু করেছিলেন আইপিএল যাত্রা! প্রথম দুই আসরে এই দলেই খেলেছেন তিনি। পরে ১২ মৌসুম চেন্নাইয়ে খেলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সেই দলের মুখ। এখন আবার ফিরলেন শুরুর ঠিকানায়।
মাঝের সময়টায় যে অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছেন জাদেজা, সেখানেই এবার ভরসা রাখছেন পারাগ। দলে দুই ঘরের মাঠ জয়পুর ও গুয়াহাটির উইকেটে জাদেজা ও রাভি বিষ্ণইয়ের স্পিন জুটি দারুণ সফল হবে বলেও মনে করেন রাজস্থান অধিনায়ক।
“২০০৮ সালের থেকে এখন খেলাটা অনেক বদলে গেছে। কাজেই সেই জায়গা থেকে জাদেজাকে এখানে ফিরে পাওয়া বাড়তি কোনো সুবিধা নয়। তবে তার মতো একজনকে পাওয়ার মূল সুবিধা হলো, এতগুলি বছর তিনি যেভাবে খেলেছেন, যে অভিজ্ঞতা তিনি বয়ে আনবেন, দলের জন্য যা দারুণ কার্যককর হবে ওই ছোট ছোট মুহূর্তগুলি জয় করতে। আমাদের দলে তিনি এখন সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।”
“এত বছর ধরে চেন্নাইয়ে জাদেজা দারুণ মিত্যবয়ী বোলিং করেছেন। জয়পুর ও গুয়াহাটির উইকেটে অনেকটা একই, কিছুটা মন্থর ও চিটচিটে। আমাদের বিষ্ণইও আছে। বিষ্ণই ও জাদেজার সমন্বয় হয় শীর্ষ মানের, বিশ্বমানের। এর চেয়ে ভালো জুটি আর সম্ভব নয় বলেই মনে হয়। তারা দুজন একত্রে বোলিং করে যে কোনো জায়গা থেকে ম্যাচ জিততে আমাদের সহায়তা করতে পারে।”