Published : 16 Aug 2025, 08:08 PM
আগের ম্যাচে ঝড়ো শুরুর পর আউট হয়ে গিয়েছিলেন জিসান আলম। এবার দুই দফায় জীবন পেয়ে ইনিংসটাকে বড় করতে পারলেন তরুণ ওপেনার। অনেক দিন পর সামর্থ্যের কিছু ঝলক দেখালেন আফিফ হোসেন। এরপর রকিবুল হাসান ও অন্য বোলারদের কার্যকর বোলিংয়ে ধরা দিল প্রত্যাশার জয়।
অস্ট্রেলিয়ায় টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া বাংলাদশ ‘এ’ দল জয়ের দেখা পেল দ্বিতীয় ম্যাচে। নুরুল হাসান সোহানের দল নেপালকে হারাল ৩০ রানে।
ডারউইনে শনিবার বাংলাদেশ ‘এ’ দল ২০ ওভারে তোলে ১৮৬ রান। ২৫ ও ৩৬ রানে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়ে জিসান করেন ৫ ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৩। আফিফ হোসেন অপরাজিত থাকেন ২৩ বলে ৪৮ রান করে।
রান তাড়ায় ম্যাচ জমাতেই পারেনি নেপাল। তাদের ইনিংস থামে ১৫৪ রানে। ১৮ রানে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান।
মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও জিসান। প্রথম ওভারেই ছক্কা ও চার দিয়ে শুরু করেন জিসান। পরে আক্রমণে যোগ দেন নাঈম।
৬.৩ ওভারে ৬২ রান তুলে থামে উদ্বোধনী জুটি। বড় শটের চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নাঈম (১৮ বলে ২৫)।
জিসানের ঝড় চলতেই থাকে। ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করার পর ওই ওভারে মারেন বাউন্ডারি। এরপর দিপেন্দ্রা সিং ঐরিকে ছক্কায় ওড়ান টানা দুই বলে।

২০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের ইনিংস থামে নান্দান ইয়াদাভের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে।
আফিফ গিয়েই দারুণ সব শট খেলতে শুরু করেন। প্রথম তিন বলেই তার ব্যাট থেকে আসে বাউন্ডারি, এর দুটি কিপারের ওপর দিয়ে র্যাম্প শটে, মাঝেরটি নান্দনিক ইনসাইড আউট শটে।
তবে আরেকপ্রান্তে রানের গতি অনেকটাই থমকে যায়। আগের ম্যাচে ফিফটি করা সাইফ হাসান এবার করেন ১১ বলে ১১। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান এলোমেলো ব্যাটিংয়ে ১১ বল খেলে করতে পারেন কেবল ৫ রান। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৭ বলে ৭) ও তোফায়েল আহমেদও (৪ বলে ৫) পারেননি কেমন কিছু করতে।
১৫ থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত ৫ ওভারে রান আসে কেবল ৩১।
শেষ ওভারে আফিফের দুটি বাউন্ডারিসহ আসে ১৮ রান। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৯ চারে ৪৮ রান করে।
জিসান ২৬ রানে আইরির বলে ক্যাচ, ৩৬ রানে কুশল ভুর্তেলের বল ক্যাচের মতো, ৩৯ রানে হতে পারতেন রান আউট।
নেপালের রান তাড়া শুরু হয় রিপন মন্ডলের প্রথম ওভারে কুশাল ভুর্তেলের তিন বাউন্ডারিতে। তবে পরের ওভারেই হাসান মাহমুদের বল কাভারে জিসানের হাতে তুলে দেন নেপালের এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে আসিফ শেখ ও লোকেশ বাম। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দুজন। বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসানের প্রথম ওভারে কাভারে ক্যাচ দেন লোকেশ (১০ বলে ১৫)।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় নেপাল। দলকে উদ্ধার করতে পারেননি অধিনায়ক রোহিত পাউড়েল (১৩ বলে ১০)। আসিফ শেখের (২৪ বলে ২৮) লড়াই থামে তোফায়েলের বলে।

বিপজ্জনক দুই ব্যাটসম্যান দিপেন্দ্রা সিং ঐরি (১) ও গুলশান ঝা (০) ফেরেন রকিবুলের পরপর দুই বলে। নেপাল ততক্ষণে লড়াই থেকে ছিটতে পড়েছে।
স্রোতের বিপরীতে লড়াই চালিয়ে যান কুশাল মাল্লা। মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরিকে টানা দুই বলে ছক্কা ও চার মেরে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি ৪০ বলে। ম্যাচের শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে অপরাজিত থাকেন তিনি ৪৭ বলে ৫৯ রান করে। তাতে পরাজয়ের ব্যবধান ভদ্রস্থ হয় একটু।
বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরের ম্যাচ রোববারই পার্থ স্কর্চার্স একাডেমির বিপক্ষে।
বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১৮৬/৬ (নাঈম ২৫, জিসান ৭৩, সাইফ ১১, আফিফ ৪৮*, সোহান ৫, অঙ্কন ৭, তোফায়েল ৫, মৃত্যুঞ্জয় ০*; রিজান ৩-০-৩৪-২, কারান ৪-০-৪৬-১, নান্দান ৪-০-৩৮-১, লামিছানে ৪-০-১৯-১, দিপেন্দ্রা ৩-০-২২-০, ভুর্তেল ২-০-১৯-০)
পাকিস্তান শাহিনস: ২০ ওভারে ১৫৪/৭ (ভুর্তেল ১২, আসিফ ২৮, লোকেশ ১৫, রোহিত ১০, মাল্লা ৫৯*, দিপেন্দ্রা ১, গুলশান ০, কারান ৬, নান্দান ১৪*; রিপন ৩-০-১৯-১, হাসান ৪-০-৩৬-২, মৃত্যুঞ্জয় ৪-০-৫১-০, রকিবুল ৪-০-১৮-৩, তোফায়েল ৩-০-২২-১, সাইফ ২-০-৮-০)
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৩২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: জিসান আলম