Published : 11 Jun 2026, 11:15 PM
তিন উইকেটে রান শূন্য। চার উইকেটে ২৫। ৬ উইকেটে ৮১। তার পরও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করা গেল না! তাসকিন আহমেদ হাসতে হাসতে বললেন, “সবাই এত কষ্ট করে ক্রিকেট খেলা দেখতে এসেছে, তাড়াতাড়ি চলে গেলে কেমন লাগবে না? তাই পুরোটা সুন্দর করে দেখে উপভোগ করালাম সবাইকে আমরা…।” তার কথায় হেসে উঠলেন সংবাদ সম্মেলন কক্ষের সবাই। এমন জয়ের পর আসলে এরকম রসিকতা তো করাই যায়। সবকিছুই তখন ভালো লাগে!
পুরো ৫০ ওভার খেলা হলে অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করা যেত কি না, সেটি জানার উপায় নেই। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলার পরই বৃষ্টিতে বন্ধ হয় ম্যাচ। সেখানেই পরে শেষ হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। অমন বিভীষিকাময় শুরুর পর ওই স্কোর খুব খারাপ নয়। রান তাড়ায় এক পর্যায়ে কিছুটা বিপদেও ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত জয় এসেছে ভালোভাবেই। অলআউট করতে না পারলেও জয়ের বীজ বোনা হয়ে যায় আসলে ম্যাচের প্রথম দুই ওভারেই।
প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে দেন তাসকিন। পরের ওভারের প্রথম আর শেষ বলে জোড়া উইকেট শিকার করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার শূন্য রানে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর আগে একটি ওয়ানডেতে শূন্য রানে তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশ প্রথমবার কোনো প্রকিপক্ষকে দিতে পারে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা।
৫ উইকেটে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন বললেন, জয়ের ভিত গড়া হয়েছে ওখানেই।
“শুরুটা সুন্দর হলে প্রতিপক্ষ সবসময় চাপে থাকে। আমরা আসলে শুরুর দিকে প্রথম এক ঘণ্টার সুবিধাটা ভালোমতো কাজে লাগাতে পেরেছি। একটু সিম হচ্ছিল সকালে। আমি আর ফিজ ভালো একটা শুরু করাতে আসলে কাজটা সহজ হয়েছে। পরের দিকে উইকেট একটু ভালো হচ্ছিল। পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই দারুণ শুরুটা করাটা আসলে দলকে অনেক বাড়তি শক্তি দেয়।”
সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বোলিংয়ের শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ। সেদিন ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করেছিলেন তিনি। এবার সেটির পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি চতুর্থ বলে।
প্রথম ওভারে বারবার সাফল্যের জন্য দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্টকে কৃতিত্ব দিলেন তাসকিন। বললেন নিজের চেষ্টার কথাও।
“আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যেকটা দলে কম্পিউটার অ্যানালিস্ট থাকে থাকে। প্রত্যেক ব্যাটসম্যান এবং বোলারদের নিয়ে সবাই একটা পরিকল্পনা করে আসে, কার কোথায় দুর্বলতা, কার কোথায় শক্তি। এরপর বাকিটা হচ্ছে নিজে চেষ্টা করা এবং বোলার হিসেবে যখনই আমরা ভালো ছন্দে থাকি, তখন বাস্তবায়ন করা সহজ হয়ে যায়।”
“পরিকল্পনা অনুযায়ী চেষ্টা করছি। কোনো কোনো দিন অনেক ভালো বোলিং করেও উইকেটবিহীন থাকতে হয়, কোনো দিনে উইকেটের জন্য ভাগ্য লাগে। কিন্তু চেষ্টা করাটা তো নিজের কাছে। ওই চেষ্টা করি।”
প্রথম ওভারের ওই উইকেটের পর শেষ দিকে ফিরে টানা দুই বলে দুজনকে বোল্ড করেন ৩১ বছর বয়সী পেসার। আগ্রাসী ফিফটি করা জেভিয়ার বার্টলেটকে বোল্ড করে বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন তিনি। পরের বলে বোল্ড করে দেন অ্যাডাম জ্যাম্পাকে। দুটি ডেলিভারিই রিভার্স সুইং করেছিল কিছুটা।
রিভার্স করানোর পেছনের গল্প শোনালেন তাসকিন। বলকে রিভার্স সুইংয়ের উপযোগী করে তুলতে কৃতজ্ঞতা জানালেন সতীর্থদের প্রতিও।
“এখন তো ৩৪ ওভারের পরে একটা বল দিয়ে খেলা হয়। বলটা ‘মেইনটেইন’ করলে কিছুটা রিভার্স সুইং পাওয়া যায় এবং অবশ্য রিভার্স হলেই তো হবে না, নিয়ন্ত্রণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। যেটা হয়তো আমার সত্যি বলতে, গত টেস্ট সিরিজ খেলাতে আমার উপকারে এসেছে। অনেক লম্বা সময় পুরোনো বলে বল করছি। ওই গাট ফিলিং থেকেই পুরোনো বলে একটা নিজের বিশ্বাস থাকে, নিয়ন্ত্রণে রেখে রিভার্স সুইং করাতে পারব।”
“ধন্যবাদ সতীর্থদের, ওরা বলটা মেইনটেইন করছে সুন্দর করে। কারণ বল মেইনটেইন না করলে রিভার্স হওয়াটা কঠিন। আমি স্রেফ চেষ্টা করেছি। আসলে প্রক্রিয়া ধরে রেখে চেষ্টা করছি, সবকিছু নিয়ে কাজ করছি। ফলাফল তো কখনও খারাপ হয়, কখনও ভালো। কিন্তু প্রক্রিয়া ভালো থাকলে আমার মনে হয় ধারাবাহিকতাও ভালো থাকবে।”