Published : 08 Apr 2026, 09:07 PM
বিশ্বের সেরা বোলারদের একজন জাসপ্রিত বুমরাহর মুখোমুখি প্রথম তিন বলে দুই ছক্কা মেরে আরও একবার ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। ভারতের এই বিস্ময় বালক যেভাবে দেশের তারকা পেসারকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিলেন, তা মুগ্ধ করেছে ইরফান পাঠানকে। সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডারের মতে, আর অপেক্ষা না করে ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যানকে দ্রুতই জাতীয় দলে নেওয়া উচিত।
আইপিএলে মঙ্গলবার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ১৪ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন সুরিয়াভানশি। রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনারের ইনিংসটি গড়া পাঁচ ছক্কা ও এক চারে।
ক্যারিয়ারে এদিনই প্রথম বুমরাহর মুখোমুখি হয়ে পাত্তাই দেননি সুরিয়াভানশি। ৩২ বছর বয়সী পেসারের প্রথম বল স্লটে পেয়ে ৮৮ মিটার লম্বা ছক্কায় উড়িয়ে দেন তিনি। পরের বলে নেন এক রান। এক বল পর আবার স্ট্রাইক পেয়ে বুমরাহর শর্ট ডেলিভারি ফের গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে পাঠান বলেন, সুরিয়াভানশি যেন ঠিক এই মুহূর্তটির জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।
“সুরিয়াভানশি ভাগ্যবান। ১৫ বছর বয়সে সাদা বলের ক্রিকেটে সে যা করছে, আমার মনে হয় না এর আগে কাউকে এমনটা করতে দেখেছি আমরা।”
“বুমরাহর বোলিংয়ে পরিকল্পনার যে দৃশ্যমান অভাব দেখা গেল, বিশেষ করে সে যেভাবে স্লোয়ারের দিকে ঝুঁকছিল, বৈভাব সুরিয়াভানশি এমনকি বুমরাহকেও ভাবাতে বাধ্য করেছে। সাদা বলের ক্রিকেটে ভারত বুমরাহর মতো বোলার খুঁজে পায়নি। সে সর্বকালের সেরা। আর তার বিপক্ষেই এমন ব্যাটিং।”
পাঠান মনে করেন, কোনো বোলারকে নিয়েই ভাবেন না সুরিয়াভানশি আর এটিই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
“সামনে যে বোলারই আসুক না কেন, তার অ্যাকশন দেখে না সে, বেশি কিছু ভাবে না। সে শুধু বলের দিকে তাকায়। বল পেলেই মেরে দেয়। এই ভাবনাই তাকে খুব বিশেষ কিছু করে তুলেছে।”
তাই ভারতের নির্বাচকদের অপেক্ষা না করে সুরিয়াভানশিকে জাতীয় দলের ক্যাপ পরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালেন পাঠান।
“এই ছেলেটিকে বেশি দিন অপেক্ষা করাবেন না। তাকে ভারতীয় দলের ক্যাপ দিন। ভেবে দেখুন, এই ছেলেটি ২০ বছর পেশাদার ক্রিকেট খেলতে পারবে। এটা বোলারদের জন্য ভয়ের।”
গত আইপিএলের নিলামে এক কোটি ১০ লাখ রুপিতে দল পেয়েই যথেষ্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন সুরিয়াভানশি। পরে অভিষেকে প্রথম বলে ছক্কা, তৃতীয় ম্যাচে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলে দেন তিনি। প্রথম আইপিএল অভিযানে সাত ইনিংসে ২৫২ রান করেন তিনি ২০৬.৩৩ স্ট্রাইক রেটে।
পরে ভারতীয় ‘এ’ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়েও বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দেন তিনি। বিহারের হয়ে রাঞ্জি ট্রফি, ভিজায় হাজারে ট্রফিতেও ছড়ান আলো। এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচে ফিফটি করেন ১৫ বলে। তৃতীয় ম্যাচে খেললেন আরেকটি ঝড়ো ইনিংস।