১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দারুণ খেলেও একই আক্ষেপে সঙ্গী অমিত ও শাহ পরান

স্ট্রোকসমৃদ্ধ ইনিংস খেলে শতরানের কাছঅকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত একটুর জন্য হতাশায় পুড়েছেন দুই ব্যাটসম্যান।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Nov 2025, 07:54 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:05 PM

দুই ম্যাচে দুই মাঠে দুজনে ব্যাট করছিলেন প্রায় একইরকম দাপটে। দুজনেই সুবাস পাচ্ছিলেন শতরানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে থামতে হলো দুজনকেই। সিলেটের অমিত হাসান ও চট্টগ্রামের শাহ পরান, দুজনই আউট ঠিক ৯১ রানে! 

হতাশাটা বেশি হওয়ার কথা পরানেরই। তার যে এটি অভিষেক ম্যাচ!

পরানের অম্লমধুর অভিষেক

সেই ২০২২ সালে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন পরান। স্বীকৃত ক্রিকেট অভিজ্ঞতা বলতে ছিল এটুকুই। সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলার হয়ে খেলেছেন তিনি, পরে চট্টড়্রামে আঞ্চলিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে খেলেছেন। এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকে চট্টগ্রামের হয়ে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ৯১ রান করে তিনি ১০০ বলে।

জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডে চট্টগ্রামে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের রান ৮ উইকেটে ৩৪০। 

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা চট্টগ্রাম ৯৯ রানের মধ্যে হারায় ৪ উইকেট। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সাদিকুর রহমান এবার ফেরেন ৩৫ রানে। আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ফেরেন ১৪ বলে ১৮ রান করে। অধিনায়ক শাহাদাত হোসেন দেখেননি রানের মুখ।

এরপর চট্টগ্রামের প্রতিরোধের শুরু। সাজ্জাদুল হক রিপনের (৫৬) সঙ্গে ৯৪ রানের জুটি গড়েন পরান। 

৬৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে পরান আরও গতিতে ছুটতে থাকেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৯১ রানে বোল্ড হয়ে যান লেগ স্পিনার ইয়াসিন মুনতাসিরের দারুণ এক ডেলিভারিতে। 

এরপর ইরফান শুক্কুরের (৬২) সঙ্গে সাজ্জাদুলের জুটি ৬৯ রানের। ইরফান ও নাঈম হাসানো পরে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি।

নাঈম আউট হন ৪৫ রানে। 

খুলনার পেসার সফর আলির শিকার ৪ উইকেট। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

চট্টগ্রাম বিভাগ ১ম ইনিংস: ৮৪.৪ ওভারে ৩৪০/৮ (সাদিকুর ৩৫, পারভেজ ১৮, জসিম ১৪, পরান ৯১, শাহাদাত ০, সাজ্জাদুল ৫৬, ইরফান ৬২, নাঈম ৪৫, আশরাফুল ৮*, মেহেদি ১*; সফর ১৬.৪-২-৫১-৪, মেহেদি রানা ১৮-১-৭৯-২, শেখ মেহেদি ২৪-৩-৮৬-১, জিয়াউর ৩-১-১০-০, নাহিদুল ১২-২-৫৫-০, মুনতাসির ৮-০-৩৩-১, সৌম্য ৩-০-২০-০)

ছন্দে ফিরলেন অমিত

কক্সবাজার আন্তজার্তিক ক্রিকেট সেটডিয়ামে সারাদিনে খেলা হয়েছে ৪৮.১ ওভারে। রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৭২ রান তুলেছে সিলেট বিভাগ। অমিত হাসান একই করেছেন অর্ধেকের বেশি রান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সিলেটের তো বটেই, ঘরোয়া বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যানদের একমত অমিত। তবে এবারের লিগের শুরুটা তার ভালো হয়নি। অবশেষে তৃতীয় রাউন্ডে তিনি ফিরলেন আপন রূপে। ১১টি চারে তার ব্যাট থেকে আসে ১১০ বলে ৯১ রান।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট বিপাকে পড়ে যায় দ্রুতই। বাংলাদেশ টেস্ট দল থেকে বাদ পড়া জাকির হাসান (৫) ব্যর্থ আবার। ৩৭ রানে হারায় তারা ৪ উইকেট।

পঞ্চম উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েন অমিত ও আশরাফুল হাসান রিহাদ। 

আশরাফুল আউট হন ২৭ রানে। শাহানুর রহমান ফেরেন শূন্যতে।

দলকে আরও টেনে নিয়ে অমিত পৌঁছে যান শতরানের দুয়ারে। কিন্তু ৯ রান দূরে থাকতে ফিরতি ক্যাচ দেন মুকিদুল ইসলামকে।

এরপর লড়াই করে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন রেজাউর রহমান রাজা (২৮*)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

সিলেট বিভাগ ১ম ইনিংস: ৪৮.১ ওভারে ১৭২/৭ (জাকির ৩, মুবিন ১, সৈকত ১০, অমিত ৯১, গালিব ০, আশরাফুল ২৭, শাহানুর ০, রেজাউর ২৮*, সাকিব ২*; মুকিদুল ১১.১-১-৪৫-১, রবিউল ১২.৫-৫-২১-২, আল মামুন ১২-১-৫৫-৩, হাশিম ১০.১-৩-২৯-১, শিহাব ২-০-১৪-০)।

বরিশালের দুর্দশা

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বরিশাল বিভাগ উদ্বোধনী জুটিতে লড়াই করল বেশ। ভালো একটা ভিত তাতে গড়ে উঠল। কিন্তু ভেঙে পড়ল মিডল অর্ডার। রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে তাদের ইনিংস শেষ ২১২ রানেই। 

খুলনায় শুরুতে জুটিতে বরিশালকে ৬২ রান এনে দেন জাহিদউজ্জামান ও ইফতেখার হোসেন ইফতি। দুজনের কেউ অবশ্য ফিফটি করতে পারেননি। ২৯ রানে ফেরেন জাহিদ, ৪০ রানে ইফতি। তিনে নেমে অভিজ্ঞ ফজলে মাহমুদ ফেরেন ১২ রানে।

ইনিংসের একমাত্র ফিফটি আসে সালমান হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবার করেন ৫৮ রান।

মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ শামসুর রহমান ও তাসামুল হক ব্যর্থ এই ম্যাচেও। পরের ব্যাটসম্যানরাও ভালো তেমন করতে পারেননি কেউ।

রাজশাহীর পাঁচ বোলার নেন দুটি করে উইকেট। 

শেষ বিকেলে বাটিংয়ে নেমে উইকেট হারায়নি রাজশাহী।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বরিশাল বিভাগ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২১২ (ইফতি ৪০, জাহিদ ২৯, ফজলে মাহমুদ ১২, সালমান ৫৮, শামসুর ০, তাসামুল ৩, মইন ২৩, শামসুল ১৫, তানভির ৯, রুয়েল ৩*, ইয়াসিন ১২; শফিকুল ১৫-৩-৩৪-২, ওয়ালিদ ১৬-২-৪৭-২, রাহিম ১৩-২-২৭-২, সাব্বির হোসেন ৯-০-৩০-০, নিহাদ ১১-০-৩২-২, সানজামুল ১৩-২-৩৯-২)।

রাজশাহী বিভাগ ১ম ইনিংস: ৬/০

বৃষ্টির দিনে নাঈম শেখের ফিফটি

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বৃষ্টি ও ভেজা মাঠ মিলিয়ে খেলা শুরু হতেই দেড়টা বেজে যায়। খেলা হয় ৩২.২ ওভার। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে ৩২.২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান তোলে ময়মনসিংহ বিভাগ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা ময়মনসিংহ দুই উইকেট হারায় দ্রুতই। তবে মোহাম্মদ নাঈম শেখ আব্দুল মজিদ সামাল দেন পরিস্থিতি। মজিদ পরে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও নাঈম অপরাজিত রয়ে যান ৫৫ রান নিয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ময়মনসিংহ বিভাগ ১ম ইনিংস: ৩২.২ ওভারে ১০০/২ (মাহফিজুল ৩, নাঈম শেখ ৫৫*, আইচ ০, মজিদ আহত অবসর ২৩, আমিনুল ৮*; সুমন ৮-৩-১৫-০, সাকিল ৭-২-১৯-১, এনামুল ৮-২-৩৭-১, নাজমুল অপু ৭-০-১৬-০, রায়ান ২-০-১৬-০)।