Published : 29 Nov 2025, 11:43 PM
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী আয়োজন তখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যেই শেখ মেহেদি হাসানকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে চলে এসেছেন বিসিবির সিনিয়র মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম। ততক্ষণে টিভি সঞ্চালকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন লিটন কুমার দাস। বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে প্রশ্ন আছে মেহেদিরও। তার প্রশ্ন আছে কোচ-নির্বাচকদের সঙ্গেও। তিনি নিজে সরাসরি তাদেরকে বলতে পারছেন না, তবে প্রশ্নটি তিনি তুলে ধরলেন কণ্ঠে জোর নিয়েই।
সংবাদ সম্মেলনে আসার একটু আগেই বাংলাদেশের জয়সূচক বাউন্ডারি এসেছে মেহেদির ব্যাট থেকে। এর আগে নিজের আসল কাজেও তিনি ছিলেন এ দিন দলের সেরা। দারুণ গতিতে ছুটতে থাকা আয়ারল্যান্ড ইনিংসের লাগাম টেনে ধরেন তিনি। এক ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়।
প্রথম ওভারে ১৩ রান দিলেও শেষ পর্যন্ত চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন তিন উইকেট। চার উইকেটের জয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ-সেরা হয়েছেন লিটন কুমার দাস। তবে অনেকের চোখেই ম্যান অব দা ম্যাচ আসলে শেখ মেহেদিই।
অথচ প্রথম ম্যাচে তিনি একাদশেই ছিলেন না। ফেরার ম্যাচটি রাঙালেন দারুণ পারফরম্যান্সে। এটিই তার এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে উঠেছে।
গত এশিয়া কাপে দারুণ বোলিং করেও সব ম্যাচ খেলতে পারেননি। ওই আসরে চার ম্যাচে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন মাত্র ৬.৮৭।
তার পরও দেশের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি। শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে নেন এক উইকেট। এরপর যথারীতি এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে আবার তিনি দর্শক।
দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি ফিরে শনিবার আবার উপহার দিলেন ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স।
দলে বারবার আসা-যাওয়ার প্রশ্নে ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বেশ ক্ষোভের সুর ফুটে উঠল মেহেদির কণ্ঠে। তার চেহারায় মিশে থাকল কাঠিন্য।
“আসলে এই প্রশ্নটার উত্তর হয়তো প্রধান কোচ দিতে পারবে, আমাদের অধিনায়ক দিতে পারবে, আমাদের দল নির্বাচনে যারা আছে, তারা দিতে পারবে। দেখুন আমার কাজ হচ্ছে খেলা। আপনি যেটা প্রশ্নটা করেছেন যে, আমার জন্য কঠিন… আসলে সিম্পল একটা প্রশ্ন আমি করি। আপনি যে চ্যানেলে চাকরি করেন, এক মাস এই চ্যানেলে এক মাস ওই চ্যানেলে চাকরি করলে অবশ্যই আপনার জন্য এটা কমফরটেবল না। একই ব্যাপার আমারও। কঠিন আমার জন্য, তবে চেষ্টা করছি।”
মেহেদির নিয়মিত জায়গা না পাওয়ার দৃশ্যমান একটি কারণ, দলীয় ভারসাম্য। কন্ডিশন-প্রতিপক্ষ বুঝে অন্য দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও অন্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলানো হয় তাকে। তবে তার চাপা ক্ষোভের আরেকটি কারণও বোঝা গেল আরেকটু পরে।
দল থেকে বা একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ দলে সাধারণত কোচ, অধিনায়ক বা টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ সেই সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলেন সবকিছু।
কিন্তু বাংলাদেশ দলে এমন কিছু পাচ্ছেন না বলেও অকপটে জানালেন মেহেদি।
“নাহ, আমার সঙ্গে আলোচনা করে না। তবে আমার কাজ হচ্ছে খেলা। দেখেন ক্রিকেটার হিসেবে প্রথমত বাংলাদেশ দলে খেলা একটা গর্বের বিষয়, সেটা আমি ১০ ম্যাচ পরে খেলি বা নিয়মিত খেলি, খেলতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ।”