Published : 30 Dec 2025, 07:21 PM
শেষ ওভার শুরু ৮৬ রান নিয়ে। প্রথম দুই বলে দুই ছক্কার পর সিঙ্গল নিয়ে ৯৯ রানে পৌঁছে গেলেন অ্যাশটন টার্নার। কিন্তু বাকি তিন বলে আর স্ট্রাইক পেলেন না অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। সেঞ্চুরি পূরণের সুযোগও তাই পাওয়া হলো না তার।
বিগ ব্যাশে মঙ্গলবার সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ৪১ বলে অপরাজিত ৯৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসটি খেলেন পার্থ স্কর্চার্স অধিনায়ক টার্নার। ৮টি করে চার ও ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি। অর্থাৎ ৮০ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে।
অস্ট্রেলিয়ার এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় ৯৯ রানে আউট হওয়া কিংবা অপরাজিত থাকা পঞ্চম ক্রিকেটার টার্নার।
প্রথম এই অভিজ্ঞতা হয় শন মার্শের। ২০১১ সালে মেলবোর্ন রেনিগেডসের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৫২ বলে অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংস খেলে পার্থ স্কর্চার্সের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি। ২০১৭ সালে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে ব্রিজবেন হিটের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৫১ বলে ৯৯ রান করে রান আউট হন মার্কাস স্টয়নিস।
২০২১ সালে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৬১ বলে অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন জশ ফিলিপ। ২০২৩ সালে কলিন মানরো ৬১ বলে অপরাজিত ৯৯ রানের ইনিংস খেলেন ব্রিজবেন হিটের হয়ে মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে।
এবার তাদের পাশে বসলেন টার্নার। টি-টোয়েন্টিতে ৩২ বছর বয়সী এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই। বিগ ব্যাশে ২০২৩ সালে পার্থ স্কর্চার্সের হয়ে সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৪৭ বলে অপরাজিত ৮৪ ছিল তার আগের সর্বোচ্চ।
এবার সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে স্কর্চার্স ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন টার্নার। প্রথম বলে রান নিতে পারেননি। পরের দুই বলে দুটি চার মেরে ডানা মেলে দেন তিনি। নবম ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন গ্রিস গ্রিনকে। লেগ স্পিনার তানভির স্যাঙ্ঘাকে ছক্কায় উড়িয়ে ফিফটি পূর্ণ করেন ২২ বলে।
আগ্রাসী ব্যাটিং অব্যাহত রেখে এগিয়ে যান তিনি। ১৯তম ওভারে রিস টপলিকে পরপর চার ও ছক্কা মেরে ছাড়িয়ে যান নিজের আগের সেরা ইনিংসকে।
শেষ ওভারে বাঁহাতি পেসার ড্যানিয়েল স্যামসের প্রথম দুই বলে ছক্কা মারেন টার্নার। তৃতীয় বলে সিঙ্গল নিয়ে পৌঁছে যান ৯৯ রানে। চতুর্থ বলে চার মারা অ্যাশটন অ্যাগার আউট হয়ে যান পরের বলে। শেষ পর্যন্ত তাই আর স্ট্রাইক পাওয়া হয়নি টার্নারের।
তার খুনে ইনিংসে ২০ ওভারে ২০২ রানের বড় পুঁজি গড়ে স্কর্চার্স। জবাবে ৬০ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও ঘরের মাঠে ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় থান্ডার। ৭১ রানের বড় জয় পায় টার্নারের দল। ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনিই।