Published : 14 Jun 2026, 04:29 PM
পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে যখন বেরিয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস, খরা ঘোচানোর আশাও বুঝি মিলিয়ে গেল হাওয়ায়। মনে হচ্ছিল, ১১ বছরের খরা দীর্ঘায়িত হবে আরও। কিন্তু এই দিনটিতেই শেষ পর্যন্ত তার সুদীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ইনিংসের শেষ দিকে আবার খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নামলেন তিনি। পূর্ণ করলেন নিজের ফিফটিও।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়ানডেতে তার প্রথম ফিফটি এটি।
২০১৫ সালের ১৮ জুন তার ওয়ানডে অভিষেক হয়েছিল এই মাঠেই। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে করেছিলেন ৩৬, তৃতীয়টিতে ৩৪। এরপর এটিই ছিল তার নিয়মিত চিত্র। অনেকবার আউট হয়েছেন থিতু হয়ে। অবশেষে ২৮তম ইনিংসে এসে প্রথমবার পেলেন এই মাঠে পঞ্চাশের ছোঁয়া।
আগের ২৭ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ ছিল ৪৬। গত সিরিজেই নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ইনিংসটি খেলেছিলেন তিনি। চল্লিস পেরিয়ে তিনি কাটা পড়েছেন পাঁচবার। এর মধ্যে চারবার ৪১ রানেই!
এছাড়াও দুঅঙ্ক ছুঁয়েছেন আরও আট দফায়। এতটা পথ পেরিয়ে সেই ধারা থামল।
তার মতো ব্যাটসম্যানের জন্য যদিও ফিফটি করা মানে তেমন কোনো মাইলফলক নয়। তবে দেশের হোম অব ক্রিকেটে একটি সংস্করণে পঞ্চাশ ছিল না, সেই অস্বস্তির কাঁটা অন্তত দূর হলো এবার।
ইনিংসটি অবশ্য খুব গতিময় বা চোখধাঁধানো নয়। যখন ক্রিজে যান, ১০ ওভার শেষে দলের রান তখন ২ উইকেটে ৫৩। একটু পর বিদায় নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও।
বিপাকে পড়া দলকে উদ্ধার করেন লিটন ও তাওহিদ হৃদয়। এক প্রান্ত আগলে রাখার দায়িত্ব নেন লিটন। প্রথম বাউন্ডারির আগে ২৭ বলে তার রান ছিল ১০।
পরে অবশ্য লিটনসুলভ কিছু শট খেলেন। টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন রাইলি মেরেডিথকে। তবে ক্র্যাম্পের কারণে তার অস্বস্তি বোঝা যাচ্ছিল। কিছুটা চিকিৎসা নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৩২ ওভার শেষে আর পারেননি। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তার রান ছিল ৪৮।
পরে ৪৯তম ওভারে শেখ মেহেদি হাসান আউট হওয়ার পর লিটন আবার ফেরেন ক্রিজে। ওই ওভারেই পূরণ করেন ফিফটি। শেষ ওভারে চোখধাঁধানো এক ফ্লিকে ছক্কা মারেন বেন ডোয়ার্শাসকে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৭৮ বলে ৫৮ রান করে।
তার ফিফটির সঙ্গে তাওহিদ হৃদয়ের ৮৭ বলে ৮৩ ও মোসাদ্দেক হোসেনের ৫১ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ ৫০ ওভারে তোলে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান।