Published : 24 May 2026, 12:21 PM
শেষে এসে অবশেষে! মৌসুমের শেষ ম্যাচটিতে লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসে পথচলার শুরু করতে পারলেন আর্জুন টেন্ডুলকার। দল হেরে গেলেও নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে অভিষেকে নিজের ছাপ কিছুটা রাখতে পারলেন এই বাঁহাতি পেসার। ম্যাচের পর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পেলেন তিনি কিংবদন্তি বাবা সাচিন টেন্ডুলকারের কাছ থেকে।
সাচিন যে দলের মেন্টর, সেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়েই এবার দল বদলান আর্জুন। সেখানে চার মৌসুমে পাঁচ ম্যাচ খেলার পর এবার পাড়ি জমান লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসে। কিন্তু এখানেও গোটা মৌসুম সুযোগের জন্য হাপিত্যেশ করতে হয়। এর মধ্যেই প্লেঅফের লড়াই থেকে ছিটকে পড়ে তার দল। শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচটিতে শনিবার একাদশে রাখা হয় তাকে।
ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে ক্রিজে গিয়ে ৫ বলে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। মূল কাজ বোলিংয়ে তাকে আনা হয় পাওয়ার প্লে শেষে। প্রথম ওভারেই সুযোগ তৈরি করেন। তার তীক্ষ্ন বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দেন প্রাভসিমরান সিং। তবে অধিনায়ক ও কিপার রিশাভ পান্ত গ্লাভসে জমাতে পারেননি বল।
প্রথম ওভারে চার রান দেন তিনি। পরের ওভারে তার ওপর চড়াও হন শ্রেয়াস আইয়ার ও প্রাভসিমরান। ওই ওভার থেকে আসে ১৫ রান।
আবার বোলিংয়ে আসেন তিনি পঞ্চদশ ওভারে। ম্যাচ তখনন পাঞ্জাবের মুঠোয় বলা যায়। প্রাভসিমরান ও শ্রেয়াসের ঝড়ে এলেমেলো লাক্ষ্নৌর বোলিং। আর্জুন এসেও দুটি চার হজম করেন। তবে ওই ওভারেই দারুণ এক ইয়র্কারে বিদায় করে দেন তিনি ৩৯ বলে ৬৯ রান করা প্রাভসিমরানকে। পরে আরও একটি ওভার করে রান দেন পাঁচ।
সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ১ উইকেট। ১৯৭ রান তাড়ায় পাঞ্জাব কিংস ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় ১২ বল বাকি রেখেই। সেখানে আর্জুনের পারফরম্যান্স খারাপ নয়।
তবে মাঠের এই পারফরম্যান্স নয়, ম্যাচের পর সামাজিক মাধ্যমে সাচিন তুলে ধরলেন তার ছেলের মাঠের বাইরের অধ্যবসায় ও মানসিকতা।
“ওয়েল ডান আর্জুন…। এই মৌসুমে তুমি যেভাবে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছো, সেজন্য আমি গর্বিত। সবসময় নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রেখেছো, ধৈর্য ধরেছো, নীরবে কঠোর পরিশ্রম করেছো এবং একেবারে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও ইতিবাচক থেকেছো।”
“দক্ষতার পাশাপাশি ধৈর্যেরও পরীক্ষা নেয় ক্রিকেট এবং আজ তুমি দুটোই চমৎকারভাবে সামলেছো। মাটিতে পা রেখে চলো এবং খেলার প্রতি তোমার ভালোবাসা আগের মতোই বজায় রেখো। তোমার জন্য ভালোবাসা সবসময়।”
সামাজিক মাধ্যমে ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা জানান সাচিনের মেয়ে সারা টেন্ডুলকার।
“গোটা পৃথিবীটা তোমার প্রাপ্য, আমার ছোট্ট ভাই! তোমার কঠোর পরিশ্রম, চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং এই সবকিছুর মধ্যে তোমার ধৈর্যের জন্য আমি ভীষণ গর্বিত। তোমাকে চিরকাল এবং সবসময় (এবং আরও অনেক বেশি) ভালোবাসি।”

আইপিএলে আর্জুনের পথচলার শুরু ২০২১ আসরে। সেবার তাকে ২০ লাখ রুপিতে দলে নেয় মুম্বাই। সেবার চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি দলের সঙ্গে। পরের আসরের নিলামে তাকে ৩০ লাখ রুপিতে নেয় মুম্বাই। অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও এক মৌসুম।
২০২৩ আসরে মুম্বাইয়ের হয়ে চার ম্যাচ খেলে তিনটি উইকেট নেন তিনি। পরের বছর সুযোগ পান এক ম্যাচে। ২০২৫ আসরে খেলতেই পারেননি। এরপর দল পরিবর্তন করেও এবার সুযোগ পেলেন স্রেফ এক ম্যাচে।
আর্জুন প্রশংসা আদায় করে নিয়েছেন রাভিচান্দ্রান অশ্বিনেরও। বিখ্যাত বাবার সন্তান হওয়া কতটা কঠিন, তুলে ধরলেন ভারতের স্পিন গ্রেট।
“আমি তার স্কিল নিয়ে কথা বলব না। কিন্তু তার পথচলা সহজ নয়, কারণ তাকে সবসময় তার বাবার সঙ্গে তুলনা করা হবে। তবে, আমি তার সম্পর্কে দুটো কথা বলব — সে অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কোনো লড়াই থেকে পিছু হটে না। বোলিং করার পর অগ্নিদৃষ্টিতে তাকায়। চার বা ছক্কা হজম করার পর প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। এই দুটি গুণের জন্য ছেলেটিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”
পরে আর্জুনের স্কিল ও ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার প্রশংসাও করেন অশ্বিন।
“ওই ইয়র্কারটা আসলে রিভার্স করেছিল। ওকে প্রচুর ইয়র্কার অনুশীলন করতেও দেখেছি সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু যে জিনিসটা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে, তা হলো প্রাভসিমরানের শরীর তাক করা বাউন্সারটি। এটা কোনো ব্যাটসম্যানের জন্য কখনোই সহজ নয়। ব্যাটের ওপরের অংশে লেগেছিল এবং পান্ত ক্যাচটা ধরতে পারেনি।”
“তবে দেখার মতো ব্যাপার ছিল, প্রাভসিমরানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরিকল্পনাটি কার্যকর করেছে আর্জুন এবং এরপর ইয়র্কারটিও নিখুঁতভাবে করেছে। মৌসুমে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা একজনের জন্য এটা খুবই প্রশংসনীয় ছিল।”
আইপিএলে নিয়মিত সুযোগ না পেলেও আর্জুনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার একেবারে খারাপ নয়। ৩০ ম্যাচে ৩৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি ওভারপ্রতি ৮.৬০ রান দিয়ে।
মুম্বাই ও মহারাষ্ট্রে সুযোগ পাওয়া কঠিন বলে ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি খেলে থাকেন গোয়ার হয়ে। ২৬ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার ২৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে উইকেট নিয়েছেন ৫২টি। একটি সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে রান করেছেন ৬৮৫। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচ খেলে তার উইকেট ২৬টি।