‘সুশাসনে’ জোর দিয়ে ৫০ বছর উদযাপনে আইএফআইসি ব্যাংক
অনুষ্ঠানে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন 'সুশাসন ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার' ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
পথচলার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছেন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক 'আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি'।
এ উপলক্ষে 'অবিচল বিশ্বাসের ৫০ বছর' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হল ব্যাংকের সুবর্ণজয়ন্তী।
রাজধানীর পুরানা পল্টনে আইএফআইসি টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে শনিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা কেক কাটেন ও গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন 'সুশাসন ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার' ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, "দেশের ব্যাংকিং খাতে আইএফআইসির ৫০ বছরের পথচলা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তবে এই অর্জনকে ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।"
পরিবর্তিত ব্যাংকিং পরিবেশের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "সময়ের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বদলেছে গ্রাহকদের চাহিদা ও প্রত্যাশা। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে।"
আইএফআইসি ব্যাংকের চলমান সংস্কার ও আধুনিকায়ন কার্যক্রম সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তুলে ধরেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মোস্তফা বলেন, "গ্রাহকদের অবিচল বিশ্বাস ও ভালোবাসাই আইএফআইসির পাঁচ দশকের পথচলার সবচেয়ে বড় অর্জন। এটি অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা, সম্পর্ক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ যাত্রার গল্প।"
তিনি আগামী ৫০ বছরেও আইএফআইসিকে মানুষের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে টিকিয়ে রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. এবতাদুল ইসলাম; অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী মো. মাহবুব কাশেম, এফসিএ এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক মো. গোলাম মোস্তফা।
তারা ব্যাংকের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও স্থায়িত্ব কামনা করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সারাদেশের শাখা ও উপশাখাগুলোতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হয়। এতে গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র্যালি, মতবিনিময় সভা ও কেক কাটার উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭৬ সালের ৮ অক্টোবর যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের ৩২.৭৫ শতাংশ মালিকানাধীন এই ব্যাংকটি সারাদেশে ১,৪০০টিরও বেশি শাখা ও উপশাখার বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২৫ লাখেরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে।
একই সঙ্গে ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমানত নিয়ে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে আইএফআইসি ব্যাংক।
