বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান ঢাবি শিক্ষক সমিতির
“নির্বাচন ছাড়া দেশে সরকার পরিবর্তন হওয়ার দ্বিতীয় কোনো প্রক্রিয়া নেই,” বলছেন মাকসুদ কামাল।
বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসের পথ’ ছেড়ে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা এ আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, যারা জাতীয় নির্বাচনকে ঠেকাতে চায়- তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনকে ব্যাহত করে অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় আসতে চায়।
“কিন্তু তাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে অগণতান্ত্রিকভাবে বিদেশি প্রভুর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে তারা লাভবান হতে পারবে না। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, তারা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতেছে।”
মাকসুদ কামাল বলেন, জামায়াতের কথা শুনলেই তাদের একাত্তরের ভূমিকার বিষয় সামনে আসে। ১৫ অগাস্টে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না।
“সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পূর্বেও আন্দোলন করেছে, আজও আন্দোলন করবে। নির্বাচন ছাড়া দেশে সরকার পরিবর্তন হওয়ার দ্বিতীয় কোনো প্রক্রিয়া নেই।”
আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের আহ্বায়ক সীতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের গৌরবের কথা শোনাবে। কিন্তু বিএনপি যে সহিংসতা শুরু করেছে, যেভাবে পুলিশকে মেরেছে, বিচারপতির বাড়িতে হামলা করেছে, সাংবাদিকদের পিটিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে সামনের নির্বাচনকে বানচাল করার পাঁয়তারা করছে তারা।”
বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসের পথ’ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, ২০১৩-১৪ সালে সন্ত্রাসী কার্যক্রম না করলে এ দেশটা আরও অনেক এগিয়ে যেত। আজকে আবারও এমন পাঁয়তারা হচ্ছে।
“শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল, এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে এসব নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।"
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান, সিনেট সদস্য অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আব্দুস ছামাদ, শিক্ষক সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য আমজাদ হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান।
