Published : 28 Feb 2026, 07:43 PM
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় আমৃত্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
শনিবার মধুর ক্যান্টিনের সামনে এই আয়োজন করে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৩ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। সে সময় তিনি জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন।
রায়ের পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল নিয়ে নামে জামায়াত এবং সেই মিছিল থেকে সহিংসতা ছড়ায়। নিহত হয় কয়েক ডজন।
বছর দেড়েক পর ২০১৪ সালের শেষে আপিল বিভাগ সাঈদীর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়। সেই দণ্ড ভোগ করার মধ্যে ৮৩ বছর বয়সে ২০২৩ সালের ১৩ অগাস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দেড় বছর পর গেল ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার, এই নির্বাচনে ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত।
‘আল্লামা সাঈদীর রায়: ন্যায়ভ্রষ্ট বিচার, গণহত্যা ও আওয়ামী সন্ত্রাস’ শীর্ষক আলোচনা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর এই আয়োজনে শিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, “২৮শে ফেব্রুয়ারির যে আজাদির লড়াই, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম আমাদেরকে শিখিয়েছেন আমাদের নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেই লড়াইয়ের উপর ভিত্তি করে কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লব হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে এই দিনে যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের সকলকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান সাদিক কায়েম। একই সাথে তাদের পরিবার এবং আহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের দিনের স্মৃতিচারণ করেন ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিনকাশেম আরমান।
তিনি বলেন, “সাঈদী সাহেবের নিয়োজিত আইনজীবী টিম গঠন করা হয়েছিল; আমি তার একজন সদস্য ছিলাম। আমরা জানতাম রায় কি হতে চলেছে। সাক্ষীকে ‘গুম’ করা হয়েছে।

“আমরা মামলা করা অবস্থায় আইন পরিবর্তন করা হয়েছে, আমরা যারা নিয়োজিত আইনজীবী ছিলাম তারা বুঝতে পারছিলাম, যে রায়টি কোন দিকে যাচ্ছে।”
সেদিনের হতাহতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার দায়িত্ব ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ করা। আমি দ্রুত আমার মোবাইলে একটি রিপোর্ট তৈরি করে সব জায়গায় প্রেরণ করছিলাম। আমরা সবচাইতে বেশি অবাক লাগলো মানবাধিকার নিয়ে যারা মুখে ফেনা তুলে তাদের নিশ্চুপতা দেখে। সেদিন একটা আওয়াজও তাদের মুখ থেকে বের হয় নাই।”
শিবিরের এই আয়োজনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রংপুর- ৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমীন, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসি হওয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে সংসদ সদস্য নাজিম মোমেন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামিম।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মোহা. মহিউদ্দিন খান।