ইডেন শিক্ষার্থীর পায়ে চা ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ

 অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 04:22 PM
Updated : 20 Sept 2022, 04:22 PM

ছাত্রীনিবাসের পাঠকক্ষে প্রবেশের জায়গা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর পায়ে চা ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে কলেজ ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আয়েশা ইসলাম মীম সোমবার সন্ধ্যায় শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাসের ৩১৩ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটান বলে ওই দিনই হল সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ওই ছাত্রী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তরে (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) অধ্যয়নরত।

অভিযোগের মুখে থাকা মীম সম্প্রতি শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার ঘনিষ্ঠ; তারা দুজনই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী।

মীম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এটা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে শহীদ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীনিবাসের সুপার নাজমুন নাহার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। হল প্রশাসনের সভাও ডাকা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।”

একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল ৯টার দিকে হলের পাঠকক্ষে প্রবেশের জায়গায় মীমের অনুসারী এক শিক্ষার্থী টেবিল বসিয়ে পড়ছিলেন। এতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ভুক্তভোগী ছাত্রী তাকে সরে বসতে বলেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপর সন্ধ্যার দিকে সদলবলে তার কক্ষে আসেন মিম, তখন তিনি মগে চা পান করছিলেন। গালাগালির পর মীম মগে থাকা গরম চা তার পায়ে ঢেলে দেন এবং হাত মচকে দেন। এরপর ‘মানসিক নির্যাতন’ও করেন।

পরে রাত ১১টার পর মীমকে নিয়ে রিভা ওই কক্ষে যান এবং বিষয়টি মীমাংসা করতে চাপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা রাজনীতি করি তো, তাই আমাদের শত্রুর অভাব নেই। এ রকম কিছুই ঘটেনি। কেউ আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলামই না।”

আর রিভা বলেন, “রিডিং রুমে টেবিল বসানো নিয়ে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এর সমাধান করা হয়েছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।”

এ বিষয়ে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিগত কয়েকটি ঘটনায় আমরা যারা ইডেন কলেজের দায়িত্বে আছি, তারা কলেজ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেছি, কয়েক ঘণ্টা তাদের কাউন্সেলিংও করিয়েছি।

“এরপরও তারা কেন এমন আচরণ করেন, সেইটা আমি বুঝতে পারছি না। এই বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক