আনাগোনা নেই শিক্ষার্থীদের, থমথমে বুয়েট

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের দুই মেরুতে অবস্থানের মধ্যে থমথমে অবস্থা চলছে ক্যাম্পাসে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 April 2024, 09:49 AM
Updated : 2 April 2024, 09:49 AM

পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে সুনশান নীরবতা, শিক্ষার্থীরা নেই, কেবল দাপ্তরিক কাজকর্ম চলছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দেখা গেল এমন চিত্র; ছাত্র রাজনীতি নিয়ে বুয়েটের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের দুই মেরুতে অবস্থানের মধ্যে এমন থমথমে অবস্থা চলছে ক্যাম্পাসে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, কোনো শিক্ষার্থী নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসগুলো যথারীতি খোলা আছে। সেখানে দাপ্তরিক কাজ চলছে স্বাভাবিক সময়ের মতই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নিরাপত্তা প্রহরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকাল থেকে ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থী আসে নাই। গত চার দিন ধরে এই অবস্থা৷”

পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার তাদের রুটিন অনুযায়ী কোনো ক্লাস বা পরীক্ষা নাই। তাই তারা ক্যাম্পাসে আসেননি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, আগামীকাল একটি পরীক্ষা আছে। সেই পরীক্ষা তারা অংশগ্রহণ করবেন কিনা, সেটি তারা নিশ্চিত নন। ৪ এপ্রিল থেকে শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাবে। যে পরীক্ষাগুলো বাকি রয়েছে, সেগুলো হবে ঈদের পরে।

জানতে চাইলে বুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিডিউল অনুযায়ী আগামীকাল (বুধবার) একটা পরীক্ষা আছে। এরপর ঈদের পর পরীক্ষা।”

আন্দোলনের কারণে গত ৩০ ও ৩১ মার্চ দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি শিক্ষার্থীরা। এই পরীক্ষা দুটি কবে হবে- এমন প্রশ্নে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, “এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল যেভাবে নির্দেশনা দেয়, সেভাবে আমরা রুটিন রেডি করব।”

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বুয়েট। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে নিষিদ্ধ হয় ছাত্র রাজনীতি।

এরপর থেকে গত সাড়ে চার বছর প্রকৌশল শিক্ষার এই বিদ্যাপীঠে ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধই ছিল। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ একদল নেতাকর্মী বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে নতুন করে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

তাদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম এ সমাগম ঘটান।

এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখান। পরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

এরপর রাতে বুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ফোরকান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ইমতিয়াজ হোসেন রাহিমের হলের সিট বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে ৮ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

এর মধ্যে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি ফেরানোর দাবিতে পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রলীগ। রোববার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে তারা অবিলম্বে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালুর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানায়। পরে বুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী।

এদিকে ছাত্র রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার হাই কোর্টে রিট মামলা করেন হল থেকে বহিষ্কৃত ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বী। তার আবেদনের শুনানি করেই বুয়েটের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের বেঞ্চ।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, “কোর্ট যেটা বলবে আমাদের সেটা মানতে হবে। কোর্টের আদেশ শিরোধার্য। আদালত অবমাননা আমরা করতে পারব না।”

তবে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রত্যাশার জায়গায় অনড় থাকার কথা জানিয়ে হাই কোর্টের ওই আদেশের বিপক্ষে আইনি লড়াই চালাতে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।