খরচ ‘বাড়িয়েছে’ নতুন শিক্ষাক্রম: গবেষণা

গবেষক দলের এক সদস্য বলেছেন, ব্যয় বেড়েছে কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের বেতন ও নোট-গাইড বইয়ের কারণে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 March 2024, 04:56 PM
Updated : 30 March 2024, 04:56 PM

নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও বেড়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

এতে জানা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে নতুন শিক্ষাক্রম শুরুর পর প্রথম ছয় মাসেই পরিবারে শিক্ষা ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রাথমিকে ২৫ শতাংশ এবং মাধ্যমিকে ৫১ শতাংশ বেড়েছে।

পঞ্চম শ্রেণি এবং নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের হিসাবটি বের করা হয়।

গণসাক্ষরতা অভিযান পরিচালিত ‘বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা: মহামারি উত্তর টেকসই পুনরুত্থান’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এই ব্যয়ের বড় কারণ হিসেবে কোচিং ও প্রাইভেট পড়া এবং নোট গাইডকে উল্লেখ করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘এডুকেশন ওয়াচ-২০২৩’ নামের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

কত খরচ

গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন গণসাক্ষরতা অভিযানের উপপরিচালক ও গবেষক দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, ২০২২ সালে দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পেছনে গড় ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৮৮২ টাকা। 

শহরাঞ্চলে এই খরচ ছিল বেশি। মফস্বল এলাকায় প্রাথমিকে শিক্ষার্থী পিছু বার্ষিক পারিবারিক ব্যয় ছিল ১০ হাজার ৬৩৭ টাকা, শহরাঞ্চলে ছিল ১৮ হাজার ১৩২ টাকা।“ 

২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাথমিকে এই খরচ ২৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৪৭ টাকা।

২০২২ সালে মাধ্যমিক স্তরের একজন শিক্ষার্থীর জন্য পরিবারের ব্যয় ছিল ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা। মফস্বলে এই খরচ ২২ হাজার ৯০৯ টাকা এবং শহরে ৩৫ হাজার ৬৬২ টাকা। 

কিন্তু গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এই খরচ ৫১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৭১২ টাকা। অর্থাৎ বছর শেষে তা ছাড়িয়ে যাবে ৪১ হাজার টাকা।

 

খরচ বাড়ার কী কারণ

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “কোচিং-প্রাইভেট টিউটরের বেতন ও নোট-গাইড বইয়ের কারণে ব্যয় বেড়েছে।”

দেশের ৮ বিভাগের ১৬টি জেলার মধ্য থেকে ২৬টি উপজেলা ও ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকা থেকে এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের তিন-চতুর্থাংশের বেশি শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউটর বা কোচিং সেন্টারে গিয়ে পড়াশুনা করেছে। শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাইড বইয়ের ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল।

প্রাথমিকে এই নির্ভরতার হার ৯২ শতাংশ ও মাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ ।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৮ শতাংশ ও মাধ্যমিকের ১৭ শতাংশ স্কুলের কাজে বা লেখাপড়া সংক্রান্ত কাজে ইন্টারনেটের ব্যবহার করে বলে গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে।

মহামারীতে ঝরে পড়েছে বহু শিশু

২০২০ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালে কী করছে- এই বিষয়টি দেখতে গিয়ে গবেষকরা দেখতে পান, দ্বিতীয় শ্রেণির ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ৬ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে।

মহামারীর প্রভাবে এই শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।

মহামারীর কারণে নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর আয় কমে যাওয়া, স্কুলে পড়ালেখার জন্য অভিভাবকদের খরচ বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকা এবং স্কুল থেকে যথাযথ নির্দেশনার অভাবকে ঝরে পড়ার কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরতে আগ্রহী কি না- এমন প্রশ্ন ছিল গবেষণার প্রশ্নপত্রে।

জবাবে প্রাথমিক স্তরের ৫৭ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরে ৭৯ শতাংশ জানিয়েছে, তারা স্কুলে ফিরতে আগ্রহী না।

প্রাথমিক স্কুল থেকে ঝরে পড়া ৪১ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরে ঝরে পড়া ৪৯ শতাংশ শিশুশ্রমে নিয়োজিত আছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরে পড়া মেয়ে শিশুদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। একটি ছোট অংশ বলেছে, তারা গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত এবং অন্যরা বলেছে তারা কিছুই করছে না।”