জাবিতে কোরিয়া ও বাংলা সাহিত্য নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা

মূল প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হামীম কামরুল হক কোরিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও সাহিত্যের নানা দিক তুলে ধরে দুই দেশের সাহিত্যের পার্থক্য ও সাযুজ্যের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Nov 2023, 03:18 AM
Updated : 11 Nov 2023, 03:18 AM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল কোরিয়া এবং বাংলা সাহিত্য নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশনা সংস্থা উজানের এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক হামীম কামরুল হক।

প্রবন্ধে তিনি কোরিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও সাহিত্যের নানা দিক তুলে ধরে দুই দেশের সাহিত্যের পার্থক্য ও সাযুজ্যের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেন।

তিনি বলেন, “যেসব দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের আদি সংস্কৃতির সাযুজ্য আছে সেগুলোর অভিজ্ঞতা আমাদের বেশি সমৃদ্ধ করবে। এক্ষেত্রে কোরিয়ার সাহিত্য ও আদি সংস্কৃতি আমাদের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধি আনতে পারে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কবি ও কথাসাহিত্যিক রায়হান রাইন আলোচনায় জোর দেন সাহিত্যের মিথ্যা দিয়ে, শিল্পের মিথ্যা দিয়ে বাস্তবের সত্যকে রূপান্তরের মাধ্যমে সাহিত্যে উপস্থাপনের ওপর।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কথাসাহিত্যিক হ্যান ক্যাঙের গল্প ও উপন্যাসের প্রসঙ্গ ধরে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন লেখকের লেখা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “বাংলা সাহিত্য বাস্তবতার গভীর এক খাদে আটকে আছে। বাস্তব পরিস্থিতি বাস্তবভাবে উপস্থাপনের এই প্রবণতার বাইরে বাংলা ভাষায় যে সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে সবই যেন প্রান্তিক। এই প্রান্তিকতাকে মূল ধারায় নিয়ে আসা জরুরি।”

সাহিত্য এবং অন্যান্য শিল্প মাধ্যমে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রভাব বলয়ের বাইরে এসে নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, দর্শন, প্রসঙ্গ, অনুষঙ্গ, প্রকরণ, উপদান ও উপকরণের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের রূপান্তর জরুরি বলেও বক্তব্যে ওঠে আসে।

এক্ষেত্রে শুধু পশ্চিমের সাহিত্য নয়, নানা দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর জোর দেন আলোচকরা।

আলোচনায় কোরিয়ার কবিতা এবং বাংলা কবিতা নিয়ে তুলনামূলক আলোকপাত করেন জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির সহযোগী অধ্যাপক কবি সোহেল হাসান গালিব।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কবি ও প্রাবন্ধিক তারেক রেজা আলোচনা করেন সাহিত্যের প্রকরণ ও সৌন্দর্য নিয়ে।

সাহিত্যে বিষয়ের প্রাধান্য, প্রাসঙ্গিক ও অপ্রাসঙ্গিকতার নানা দিক তুলে ধরেন তিনি। 

লেখক ও অনুবাদক অধ্যাপক খোরশেদ আলম কোরিয়ার কবিতা অনুবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তার বক্তব্যে ওঠে আসে উনিশ ও বিশ শতকের কোরিয়া ও বাংলার সমাজ ও সাহিত্যের রূপান্তরে বিভিন্ন দিক।

গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী এবং অন্যান্যের আলোচনায়ে উঠে আসে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বৌদ্ধিক ঐতিহ্য ও দর্শন, মরমিবাদ এবং দুই সংস্কৃতির রূপান্তরে ইউরোপের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রভাবের নানা বিষয়-আশয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বঙ্গবন্ধু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক কবি ও অধ্যাপক শামীম রেজা বাংলাসাহিত্য এবং প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাহিত্যের প্রসঙ্গ টেনে বিশ্বসাহিত্যের রাজনীতির নানা অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন।

প্রতি বছর যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় সেখানে এবং এ পর্যন্ত যত নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে সেসবের মধ্যে স্কানডিনেভিয়ান দেশগুলো এবং ইউরোপের দেশগুলোর প্রাধান্য এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে বৈষম্য ও ভারসাম্যহীনতার নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে তার বক্তব্যে।

তিন ঘণ্টার এই আয়োজন সঞ্চালনায় ছিলেন দিলশাদ চৌধুরী এবং ফয়সাল রাব্বি। অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকাশনা সংস্থা উজানের সমন্বয়ক লেখক ও সাংবাদিক ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ।

আলোচনা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রকাশনা সংস্থা উজানের এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান এলটিআই কোরিয়া। আলোচনার পাশাপাশি ছিল বাংলায় অনূদিত কোরিয়ান সাহিত্যের বিভিন্ন বইয়ের প্রদর্শনী।