০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রাসঙ্গিক বিষয়ে ‘অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন’ নয়: জবি শিক্ষার্থীদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

“সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ করা হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 04:13 PM

Updated : 02 Nov 2026, 04:13 PM

আবাসন সুবিধার মতো প্রাসঙ্গিক দাবি-দাওয়ার নামে কোনো ‘অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন’ না করতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, “আবাসিক সুবিধাবঞ্চিত হওয়ায় অতীতে অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা শুনেছি। দাবি-দাওয়াগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক, কিন্তু সেই দাবি-দাওয়ার নামে কখনো অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন যেন না হয়।”

সোমবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষালয়টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে নেই। এখানে এসে জানতে পারলাম, অনাবাসিক ছাত্রদের বিশেষ স্টাইপেন্ড দেওয়া হচ্ছে।

“এই ধারণাটা নতুন। সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সব দাবি-দাওয়া পূরণ করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কিছু কিছু কল্যাণমূলক কাজ সব সরকারের সময়েই হয়ে থাকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই কল্যাণমূলক কাজের ধারা অবশ্যই বজায় থাকা উচিত।

“কিন্তু বাস্তবে আগের সরকারের অনেক জনকল্যাণমূলক কাজ আর ধারাবাহিকতা পায় না। আমরা সেই ধারাকে কখনো অনুসরণ করিনি, আর কখনো করবও না।”

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র জিপিএ-৫ পেলেই একটি জাতি উন্নত হয় না। কোয়ান্টিটি বাড়লেই উন্নতি হয় না, কোয়ালিটেটিভ চেঞ্জ দরকার।

“বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মানেই কিন্তু চাকরিভিত্তিক শিক্ষা নয়। এর মানে হলো গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, যেখানে উন্মুক্ত চিন্তা-চেতনার পরিচর্যা হবে।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এদিন সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদদীন।

সকাল পৌনে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শুরু হয়। নগরীর রায়সাহেব বাজার মোড় ঘুরে ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে শোভাযাত্রাটি আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।

সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে হয় শিল্পকর্ম ও চিত্রকর্ম প্রদর্শনী। পরে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে হয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে সংগীত বিভাগের আয়োজনে সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিকাল সাড়ে ৩টায় নাট্যকলা বিভাগের পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হবে ‘পুতুলনাচ’।

এরপর বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনা থাকবে। এতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, মাইম সোসাইটি, রঙ্গভূমি ও ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যান্ডগুলো অংশ নেবে। সবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্চে উঠবেন নগরবাউল জেমস।