Published : 11 May 2026, 04:42 PM
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘রাজবন্দিদের’ মুক্তির দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনে পোস্টার লাগানোর পর এর প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রদল।
রোববার রাতে চট্টগ্রামের বটতলী স্টেশনে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে প্রায় ৩০টি পোস্টার লাগানো হয়। তাতে লেখা ছিল, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’।
পোস্টারগুলোর একপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি দেখা যায়। অপর পাশে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং পাশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের ছবি রয়েছে।
পোস্টারের নিচে লেখা ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটির সহ-সভাপতি আবরার শাহরিয়ার এর নাম।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মো. কামরুল হোসেন বলেন, ট্রেন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালে পোস্টার লাগানো সম্ভব নয়।
“সম্ভবত শাটল যখন বটতলা স্টেশনে ছিল, তখন লাগাতে পারে। সময় সম্পর্কেও আমি কিছু বলতে পারছি না। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি এখন পর্যন্ত। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ করিনি, যেহেতু বিষয়টা আমি মাত্র জানতে পারলাম।”

এদিকে ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে এ প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে শুরু হয়ে চাকসু ভবন হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শেষ হয়। ‘জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো’, ‘ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘গুপ্ত লীগের আস্তানা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’–ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয় মিছিল থেকে।
মিছিল শেষে মো. ইয়াসিন বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর আশপাশের এলাকায় সংঘটিত হচ্ছে। এটা খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। আজকের এই প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে আমরা প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যদি দ্রুত ও কার্যকর কঠোর অবস্থান গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আমরা আমাদের আন্দোলন আরও কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচির দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য হব।"
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ পোস্টারিংসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করতে তারা নানান পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
“আমরা আজকের এই প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে ছাত্রলীগকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—তারা যেন সতর্ক হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা যে নোংরা আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা আর এ ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শান্তিপূর্ণ ক্যাম্পাস পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্রদল সবসময় সজাগ থাকবে। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের যে কোনো অপতৎপরতা ও কার্যক্রম প্রতিহত করতে ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে।”