১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশ একে অপরের পরিপূরক: ঢাবি উপাচার্য

“এসব আন্দোলনই আমাদের অহংকার, আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ,” বলেন তিনি।

ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশ একে অপরের পরিপূরক: ঢাবি উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার টিএsসসিতে আলোচনা সভায় কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2025, 07:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:18 PM

ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মত ঐতিহাসিক অধ্যায়গুলো ‘একে অপরের পরিপূরক’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

তিনি বলেছেন, “এগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো অপচেষ্টা আমরা প্রতিহত করব। এসব আন্দোলনই আমাদের অহংকার, আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার টিএসসিতে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, “যারা গণঅভ্যুত্থানে রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে, তারা আমাদের কাঁধে কিছু দায় ও দায়িত্ব রেখে গেছে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতার বন্ধন অটুট রাখা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালটির যাত্রার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ৬০ জন শিক্ষক ও ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। আজ সেই প্রতিষ্ঠান পরিণত হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে।

“বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং শিক্ষক আছেন প্রায় ২ হাজার। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে ২০০টি প্রতিষ্ঠান, যেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়।”

ইতিহাসের বাঁকবদলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, “পথচলা কখনও শুধু অ্যাকাডেমিক পরিসরে সীমাবদ্ধ ছিল না। এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণগুলোতে সমাজের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। এই চলার পথ বহু শ্রম, ঘাম ও রক্তে রঞ্জিত- এ কথা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ১৯৯০ এর প্রতিটি আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ইতিহাসে গর্বের সঙ্গে উচ্চারিত হয়।

“সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান আমাদের সংগ্রামের নতুন অধ্যায়। দেশের মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ভরসা রেখেছে বলেই প্রতিটি ক্রান্তিকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকে সাড়া দিয়েছে, রাস্তায় নেমেছে, আন্দোলন করেছে এবং অধিকার আদায় করে নিয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি জনগণের অগাধ বিশ্বাসের কারণে।”

আলোচনাসভার শুরুতে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম ও রেজিস্ট্রার মুনসী শামসুদ্দীন আহমেদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও প্রশাসনিক ভবন থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শোভাযাত্রা সহকারে ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বরে সমবেত হন। 

সেখান থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সকাল ১০টায় টিএসসির সামনে পায়রা চত্বরে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহের পতাকা উত্তোলন ও কেক কেটে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়।

এসময় সংগীত বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশিত হয়। এ ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অন্য একটি সংগীত পরিবেশন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে উপাচার্য ভবন, কার্জন হল, কলা ভবন ও টিএসসিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।