Published : 18 Nov 2025, 06:18 PM
কেক কেটে শোভাযাত্রা আর আলোচনাসভার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যা নিয়ে ‘ক্ষোভ প্রকাশ করছেন’ শিক্ষার্থীরা।
তারা বলছেন, বড় কোনো আয়োজন ছাড়া সীমিত পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে মঙ্গলবার। ‘সাদামাটা’ আয়োজনের বদলে উদযাপন আরও ‘জাকজমকপূর্ণ’ ও ‘বড় পরিসরে’ করার কথা বলেন তারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় জিরো পয়েন্ট এলাকায় বেলুন উড়িয়ে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার হীরক জয়ন্তীর আয়োজন।
জিরো পয়েন্ট থেকে কাটা পাহাড় হয়ে লাইব্রেরি-জারুল তলা-পুরাতন কলা অনুষদ হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রা। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে কেক কাটা হয়।
পরে আলোচনাসভায় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমীনের সভাপতিত্বে অংশ নেন উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এস এম ফজলুল হক।
২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হয় দুদিন ধরে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সেখানে মিলিত হয়েছিলেন।
এবার হীরক জয়ন্তী উদযাপন নিয়ে চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম রনি বলেন, “আরও বড় করে আয়োজন করা যেত।”
চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “হীরক জয়ন্তীর মত দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আয়োজন থাকা উচিত ছিল। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু থাকায় অনেকে ইচ্ছা থাকার পরও অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি।”
অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান রাহাত বলেন, “আমরা আশাহত। এ ধরনের আয়োজন সবসময় চাইলেও করা যায় না। হীরক জয়ন্তী একবারই হয়।
“আমি মনে করি দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চাকসুর সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় পরিসরের হীরকজয়ন্তী উদযাপন করতে পারত।”
এ নিয়ে প্রক্টর ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আয়োজন সুন্দরভাবে করার জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের হীরক জয়ন্তীর জন্য বড় একটা আয়োজনের প্রয়োজন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর। শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারীর ফতেপুর ইউনিয়নে সবুজ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে চারটি বিভাগ, ২০৪ জন শিক্ষার্থী ও সাত শিক্ষক নিয়ে যাত্রা শুরু হয়।
১৯৬৬ সালে ১৮ নভেম্বর উদ্বোধনের পর ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নয়টি অনুষদের অধীনে ছয়টি ইনস্টিটিউট ও ৪৮টি বিভাগ রয়েছে। শিক্ষার্থীর ২৮ হাজারের বেশি। শিক্ষক ৯৯৬ জন, কর্মকর্তা ৪৪৫ জন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ৫৪৫ জন এবং কর্মচারী ৯৮৩ জন।
আরও পড়ুন-