১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবিতে জবিতে ছাত্রদলের দেয়াল লিখন

আগের দিন চট্টগ্রাম নগরীর সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Apr 2026, 09:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াল লিখনে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবিতে দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদল।

বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে ‘গুপ্ত যাদের অবস্থান, বাড়ি তাদের পাকিস্তান’ শীর্ষক স্লোগান লেখেন।

এ সময় তারা চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আগের দিন বিকালে চট্টগ্রাম শহরের সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির গ্রাফিতি এঁকেছিল। তার নিচে লেখা ছিল, ‘ছাত্র-রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’। তবে কে বা কারা ‘ছাত্র-রাজনীতি’ থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি কালো কালি দিয়ে মুছে ওপরে ‘গুপ্ত’ লিখে তীর চিহ্ন এঁকে দেয়।

এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের বাগযুদ্ধের পর মঙ্গলবার বিকালে দুই পক্ষ কলেজে সংঘর্ষে জড়ায়।

জবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “ছাত্রদল সব মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী গোপন পরিচয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছে। অনেক সময় বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত থাকছে। 

“আমরা মনে করি একই সময়ে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা নৈতিকতার পরিপন্থি। যারা সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চান তাদেরকে অবশ্যই নিজস্ব দলের ব্যানারে কাজ করা উচিত।”

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “চট্টগ্রামে হামলার নিন্দা এবং অন্তরালে পরিচালিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এই কর্মসূচি পালন করেছি। নব্বইয়ের দশকের গণআন্দোলনে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে যেভাবে জনমত গঠিত হয়েছিল, বর্তমান সময়ের ছাত্রসমাজও ঠিক সেভাবেই এই গোপন রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে।”

তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের অন্ধকার বা আড়ালে থাকা রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। সুস্থ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার স্বার্থে প্রতিটি ছাত্রসংগঠনকে তাদের নিজস্ব আদর্শ জনসম্মুখে তুলে ধরার এবং প্রকাশ্য রাজনীতি করার আহ্বান জানাচ্ছি।”