বড় ব্র্যান্ডগুলোর তেল-চিনি গেল কই, প্রশ্ন ভোক্তা অধিদপ্তরের

ঢাকার কারওয়ান বাজারে গিয়ে তীর, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, রূপচাঁদার মতো বড় ব্র্যান্ডগুলোর সয়াবিন তেল কিংবা চিনি পায়নি ভোক্তা অধিদপ্তর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2022, 01:09 PM
Updated : 16 Nov 2022, 01:09 PM

ঢাকার কারওয়ান বাজারে গিয়ে বড় ব্যান্ডগুলোর অধিকাংশের তেল কিংবা চিনি পায়নি ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর; যা দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।  

বুধবার রাজধানীর অন্যতম প্রধান এই পাইকারি ও খুচরা বাজার পরিদর্শনে যান ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা সেনা ও পুষ্টি ছাড়া অন্য কোনো কোম্পানির তেল পাইনি। তীর, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, রূপচাঁদা, এই ব্র্যান্ডগুলো কোথায় গেল?”

পরিদর্শনের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের তেল বাজারে নেই কেন, জানতে চাইতেও দেখা গেছে সফিকুজ্জামানকে।

এই বাজারে সেনা ও পুষ্টি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলই কেবল ছিল দোকানগুলোতে। সেগুলো এক লিটারের বোতল ১৭৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

“সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৫৮ টাকা এবং ১২৫ টাকা পাম অয়েল। এখানেও অস্থির অবস্থা,” বলেন সফিকুজ্জামান।

ভোক্তা অধিদপ্তরের পরিদর্শনের সময় কারওয়ান বাজারের অধিকাংশ দোকানে চিনি ছিল না। যে কয়েকটি দোকানে পাওয়া গিয়েছিল, তাও খোলা। খোলা চিনি ১০৩ টাকা কেজিতে এবং প্যাকেটজাত চিনি প্রতি কেজি ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের নিচ তলার কুমিল্লা স্টোরে আব্দুল মোনেম লিমিটেডের ‘ঈগলু চিনি’ প্রতি কেজি ১০৮ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

গত ৬ অক্টোবর সরকার চিনির দাম খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৯০ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল।

“কিন্তু খুচরা বাজারে প্যাকেট চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকায়। আমরা সেই কোম্পানিকে ডেকে আইনগত ব্যবস্থা নেব,” বলেন সফিকুজ্জামান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, সম্প্রতি চিনি ও ভোজ্য তেলের বাজার অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী ভোজ্যতেল ও চিনি পরিশোধনকারী কারখানা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

“বৈঠকে তেল পরিশোধন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গ্যাস সরবরাহ কম হওয়াকে তাদের বড় সমস্যা বলেছিলেন। ওই বৈঠকের পর তাদের দাবি অনুযায়ী গ্যাস সাপ্লাই বাড়ানো হয় এবং তাদের কারখানাগুলোতে লোড শেডিং করা হচ্ছে না।”

“আমাদের কাছে খবর আছে যে এরপর থেকে তাদের উৎপাদন স্বাভাবিক হয়েছে। তাহলে এত চিনি ও এত তেল সেটি মার্কেটে কেন আসছে না, এটি হল বড় প্রশ্ন,” বলেন তিনি।

ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তারা কুমিল্লা ষ্টোর, রতন ষ্টোর এবং সোনালী ট্রেডার্সসহ কয়েকটি দোকানে যান। কুমিল্লা ষ্টোরের বিক্রেতা মো. গোফরান জানান, পাইকারি দোকান থেকে বেশ কয়েক দিন ধরে তাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। অন্যান্য খুচরা ব্যবসায়ীরাও একই কথা জানান।

এরপর পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে গিয়েও অধিদপ্তর জানতে পারে, তীর, ফ্রেশ, রূপচাঁদা ও বসুন্ধরা সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেই।

ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তেল ও চিনির সরবরাহ কম বলে খুচরা বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে তারা (ব্যবসায়ী) নতুন করে মুল্য সমন্বয় করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে। এটা নিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন কাজ করছে। এটা নিয়েও একটা সিদ্ধান্ত আসবে।

“কিন্তু এটার অজুহাতে মূল্য বৃদ্ধির জন্য সাপ্লাইটাকে কোনো একটা জায়গায় কন্ট্রোল করা হচ্ছে, এটা আমরা ফাইন্ডআউট করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক