Published : 17 Sep 2026, 01:31 PM
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাদের দুটি প্রিভেন্টিভ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ওই অভিযান চালায়।
গোয়েন্দা দল ওই দুটি আবাসিক ভবনে পৌঁছালে গুদামগুলো তালাবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর সহযোগিতায় গোপন গুদামগুলো চিহ্নিত করা হয়।
কিন্তু মালিককে খুঁজে না পাওয়ায় ভবন মালিকের সহায়তা চাওয়া হয়। চাবি সংগ্রহ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন গোয়েন্দারা। সেখানে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট মজুদ অবস্থায় পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি গুদাম থেকে ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা প্যাট্রন ন্যানো, ১০ হাজার মন্ড স্ট্রবেরি, ১৬ হাজার ৬০০ শলাকা মন্ড সিলভার এবং ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা ওরিস ন্যানো উদ্ধার করা হয়।
অন্য গুদাম থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের আরও ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।
অধিদপ্তরের হিসাবে, জব্দ সিগারেটের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা। এসব সিগারেটের বিপরীতে মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব জড়িত।
গোয়েন্দা দলের ভাষ্য, স্থানীয় লোকজন ও ভবনের দারোয়ানের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, গুদাম দুটি আলাদা ঠিকানায় হলেও এর প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। ডিলারশিপ ব্যবসা করার কথা বলে তিনি গুদাম দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
সেখানে কী ধরনের পণ্যের ব্যবসা হত, ভবন মালিকরা তা জানতেন না বলে গোয়েন্দা দলের কাছে দাবি করেছেন। গুদাম দুটি দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত বলে সেখানকার কার্যক্রমও তাদের চোখে পড়ত না।
দারোয়ানের বরাত দিয়ে অধিদপ্তর বলছে, বেশিরভাগ সময় গুদামে মালামাল আনা হত রাতের বেরা । পরে সেগুলো বিভিন্ন পার্সেলে করে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হত। গুদামের ভেতরে কী ধরনের পণ্য রাখা হত, তা তিনি জানতেন না।
গোয়েন্দা দলের ভাষ্য, গুদামের মালিক সবাইকে বৈধ পণ্যের ব্যবসা করার কথা বলতেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়নি।
অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট চক্রকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
জব্দ সিগারেট অবৈধ হওয়ায় সেগুলো কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কথা জানিয়ে অধিদপ্তর বলেছে, পরে বিধি অনুযায়ী সেগুলো ধ্বংস করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।