১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ডিরেগুলেশন’ বলা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন ততটা সহজ নয়: অর্থমন্ত্রী

“কিছু বাধা এত গভীরে প্রোথিত যে, এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা বর্তমান সরকারের জন্য খুব সহজ কোনো কাজ নয়,” বলেন আমির খসরু।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Aug 2026, 05:44 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো বা ‘ডিরেগুলেশনের’ কথাটা বলা সহজ হলেও তা বাস্তবায়ন করাটা কঠিন বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এমন পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, কিছু প্রতিবন্ধকতার শিকড় এতটাই গভীর যে, তা থেকে মুক্তি পাওয়াটা বর্তমান সরকারের জন্য খুবই কঠিন।

শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ সেমিনার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে বসার আগেও নানা সময়ে ‘ডিরেগুলেশনের’ পক্ষে কথা বলেছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার সময়ও এ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ ও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। তবে নতুন অর্থবছরের আড়াই মাসের মাথায় এসে সেই পরিকল্পনার সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

ডিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠানে এসে ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগের জন্য মূলত যে পরিবেশ দরকার, সেটা আমরা চেষ্টা করছি তৈরি করার জন্য।

“এবং বাধাগুলো তো আপনারা সকলেই বলেছেন। কিছু বাধা এত গভীরে প্রোথিত যে, এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা বর্তমান সরকারের জন্য খুব সহজ কোনো কাজ নয়।”

ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যে ডিরেগুলেশনের কথা আপনারা বলছেন, আমার বোধহয় সাড়ে চার ঘণ্টার বক্তৃতার মধ্যে সাড়ে চার পৃষ্ঠা ছিল ডিরেগুলেশন। আমি ইচ্ছা করে ডিরেগুলেশনকে সামনে আনার চেষ্টা করেছি।

“একটা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি সকল অংশীদারকে। তবে এটা বলাটা যত সহজ, বাস্তবায়ন তত সহজ নয়। এটাও আসলে সত্য।”

এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, “বণিক সংগঠন হিসেবে আপনাদের কিন্তু অবস্থান নিতে হবে এখানে। যেখানে কেউ বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন, সেখানে আপনাকে অবস্থান নিতে হবে।”

কাস্টমস ও বন্দর সম্পর্কিত হয়রানির অভিযোগ পাওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তিনি এগুলো কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

“আসলে অর্থমন্ত্রী একা কিছু করতে পারেন না, সরকারও একা কিছু করতে পারে না। আমরা দিনশেষে অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি। আমরা সত্যিই অংশীদারত্বে বিশ্বাস করি এবং এটা ছাড়া কিন্তু অগ্রগতি করা সম্ভব হবে না।”

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে সরকারের বাড়তি ৫০০ কোটি ডলারের মতো খরচ হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

বিগত সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে আমির খসরু বলেন, “যে ঋণ রেখে গেছে, এই ঋণ পরিশোধ আমাদেরই করতে হচ্ছে। আমাদের বিদ্যুতের বিপুল বকেয়া রেখে গেছে, বিদ্যুতের বিল আমাদেরকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

“তো ফিসক্যাল স্পেস আছে কোথায়? একদম মিনিমামের নিচে চলে গেছে।”

‘জ্বালানি সংকট বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে’

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার পাশাপাশি বর্তমান জ্বালানি সংকট ও নীতিগত অনিশ্চতায় বিদেশি বিনিয়োগকে ‘নিরুৎসাহিত করছে’ বলে মন্তব্য করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

তার ভাষ্য, “২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নেট ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে মাত্র দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে জিডিপির মাত্র ২১ শতাংশ।

“এক্ষেত্রে হাই ইন্টারেস্ট রেট, জ্বালানি সংকট, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা বিদেশি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে।”

এর সমাধানে ব্যাংক ঋণের উপর নির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন তিনি।

তাহসীন বলেন, “বিনিয়োগের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে করপোরেট বন্ড, সুকুক অ্যান্ড ইকুইটি ফাইন্যান্সিং জনপ্রিয় করে তারল্য সংকট দূর করতে হবে। এছাড়া ওয়ান স্টপ ইনভেস্টমেন্ট সার্ভিসকে সত্যিকারার্থে কার্যকর করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।