Published : 30 Aug 2024, 01:19 AM
নিজেদের তৈরি নিয়ম ভেঙে বিশেষ বিবেচনায় আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক এক ব্যাংকারকে দেওয়া নিয়োগ এবার বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বাধীন বেসরকারি ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারওয়ারকে অবসর নেওয়ার সময়সীমা পাঁচ বছর না হতেই উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছিল।
ক্ষমতার পালাবদলের পর আলোচিত ওই ব্যাংকারের ‘কৌশলগত উপদেষ্টা’ পদের নিয়োগ বাতিল করার আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার আইএফআইসি ব্যাংককে আদেশের চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও হেড অব ব্র্যাঞ্চ রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে বিশেষ বিবেচনায় ব্যাংকটির উপদেষ্টা করেছিল। ২৬ মে থেকে তিনি ব্যাংকটির ‘কৌশলগত উপদেষ্টা’ হিসেবে যোগ দেন। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটা চিঠি দিয়ে উপদেষ্টা থাকার পদটি বাতিল করে দিয়েছে।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে অবসর নেওয়ার পাঁচ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যাংকের পরামর্শক ও উপদেষ্টা হতে পারবেন না কোনো ব্যাংকার। ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ২০২১ সালে এ বিধান করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
তবে আইএফআইসি ব্যাংকে এই ব্যাংকেরই সাবেক এমডি শাহ আলম সারওয়ারকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সময় তা মানা হয়নি। সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার তাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগের অনুমোদন দেন।
আইএফআইসি ব্যাংকের দীর্ঘদিনের এমডি শাহ আলমের মেয়াদ শেষ হয় এ বছরের ১৩ মে। এর দুই সপ্তাহ না যেতেই ২৬ মে তিনি ব্যাংকটির উপদ্ষ্টো হিসেবে যোগ দেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাবেক গভর্নরের বিশেষ বিবচেনায় ব্যাংকের নিয়ম ভেঙে শাহ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ব্যাংক খাতে উপদেষ্টাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পেতেন তিনি। যেখানে উপদেষ্টাদের বেতনের কাঠামো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মত, সেখানে তাকে দেওয়া হত এর কয়েকগুণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, গত জানুয়ারিতে ন্যাশনাল ব্যাংক তাদের অবসরে যাওয়া এমডি মেহমুদ হোসেনকে তাদের ব্যাংকেরই উপদেষ্টা পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক সেই আবেদন অনুমোদন করেনি। তবে প্রভাবশালীদের চাপে ঠিকই শাহ আলমের নিয়োগ অনুমোদন করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান রহমান এখনও আইএফআইসির চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তার ছেলে আহমেদ শায়ান এফ রহমান ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান।
তবে সরকার পতনের পর বেসরকারি ব্যাংকটির পরিচালক পদ হারান শায়ান রহমান। পর্ষদ থেকে বাদ যাওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যানের পদও হারান তিনি।
ঋণ খেলাপি না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি পুনরায় তাকে পরিচালক করতে ব্যাংকের প্রস্তাব অনুমোদন না করলে ২০১৯ সাল থেকে ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসা শায়ান ব্যাংকের পর্ষদ থেকে বাদ পড়ে যান।
অপরদিকে ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে সরকার পতনের পর গত ১৩ অগাস্ট আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন সালমান রহমান।
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেগুলোতে তাকে তিন দফায় রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছে।
২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন। ২০১০ সালে তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। তখন তার হাতে ছিল ব্যাংকের ৩০ শতাংশ শেয়ার।