Published : 08 Aug 2026, 01:18 AM
বাজারে গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাঁচা মরিচের দামে ঊর্ধ্বগতি শেষে আমদানির পর কিছুটা স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই আবার বাড়তে শুরু করেছে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম।
তবে বিভিন্ন সবজির কেজিপ্রতি দর গত সপ্তাহের মতই একশ টাকার আশপাশে স্থির আছে।
মাছ, ডিম, মুরগি ও সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে বৃষ্টিকে দায়ি করছেন বিক্রেতারা। তাদের দাবি, বৃষ্টির কারণে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি। তবে ক্রেতারা এই কারণকে অজুহাত হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার রাজধানীর নর্দ্দার কালাচাঁদপুর এলাকার শ্যাওড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিম কিনতে ক্রেতাদের ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। বাজারে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। কিছু কিছু জায়গায় ১৬০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহে একই বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা।
একই বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। গলির দোকান থেকে কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০৫ থেকে ২১০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা এবং লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
একইদিন মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে গিয়েও দেখা গেল গত সপ্তাহের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি।
বাজারের মুরগি বিক্রেতা মনসুর আহমেদ বলেন, “বৃষ্টির কারণে মুরগি কম আসে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই। তাই দাম গত সপ্তাহের তুলনায় ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিতে বেড়েছে।”
ডিম বিক্রেতারাও বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম থাকার কথা বলছেন।
এদিকে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, সবজির দাম গত সপ্তাহের মতই আছে। শ্যাওড়া বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহে কাঁচা মরিচের দাম উঠেছিল ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানির ফলে দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
বাজারে অন্যান্য সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১২০ ও গোল বেগুন ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বরছেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে খুব একটা ওঠানামা নেই। একটু কম দামে পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের মত ৩০ থেকে ৪০ টাকা।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরেও প্রায় একই দাম দেখা গেল বিভিন্ন সবজির।
টাউনহল বাজারে গত সপ্তাহের মতই পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে আলুর দাম ৫ দাম বেড়ে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা।
কথা হয় শ্যাওড়া বাজারে আসা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ৫০০ টাকায় চারটা সবজিও কিনতে পারিনি। মাছ না কিনেই বাসায় ফেরত যাচ্ছি।”
লুৎফরের পাশে দাঁড়িয়ে চালকুমড়া কিনছিলেন মোহাম্মদ আজাদ। তিনি বলেন, “ছোট একটা চালকুমড়া কিনতেই ৭০ টাকা শেষ। এমন হলে মানুষ খাবে কি? কিছু একটা হলেই দাম বেড়ে যায়। বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীরা। এখন দিচ্ছে বৃষ্টির অজুহাত। কিছুদিন আগে ছিল তেলের অজুহাত।”
ডিম মুরগির মত সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা করে বেড়েছে। টাউনহল বাজারে চাষের পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ২০০ টাকা।
তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই মাছের কেজি ২৪০ টাকা ছিল বলেছেন বিক্রেতারা। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই প্রতিকেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ভেটকির কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেলের ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কইয়ের ৩০০ টাকা কেজি কিনছেন ক্রেতারা।
ইলিশের মৌসুম চললেও শ্যাওড়া বাজারে ইলিশের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে মোহাম্মদপুর টাউন হলে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকায়। ২০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা।
নাতনিকে নিয়ে টাউনহল বাজারে বাজার করতে আসা এক বৃদ্ধা। একটি ছোট রুই মাছ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
মাছের দাম সম্পর্কে তিনি বলেন, “৪০০ টাকা দিয়ে কিনছি। মাছের দাম অনেক। এই ছোট মাছই যদি এত দাম হয়, বড় মাছ তো কেনার সাধ্যই নাই।”