Published : 14 Oct 2025, 05:07 PM
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে রমজান এলে ‘ব্যবসা করে নেওয়ার’ প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাবের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
মঙ্গলবার বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে বিএসটিআই আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি বলেন, “রমজান এলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মনে করেন সারা বছরের ব্যবসা করবে। এ সময় তারা মানুষকে জিম্মি করে এই ব্যবসাটা করেন।”
সফিকুজ্জামান বলেন, “এমন কোনো পণ্য নেই যা বাংলাদেশে নকল হচ্ছে না। সেটা এই দেশের মানুষই করছে, বিদেশ থেকে কেউ এসে করছে না। নকল পণ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেকে। তবে নকল পণ্য প্রস্তুতকারকদের এখনও আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না।
“আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, বাংলাদেশে এমন কোনো জিনিস নাই যেটা নকল হয় না। এই দেশে তো বিভিন্ন সংস্থা আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে। তারপরও এগুলো হচ্ছে। কয়েকশ কোটি টাকা খরচ করে গড়ে তোলা একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র নকল কেবলের কারণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। একটা ইন্ডাস্ট্রি শেষ হয়ে যাওয়া মানে শুধু মালিক শেষ হয়ে যাওয়া নয়, সেখানে যারা বিনিয়োগ করেছে, হাজার শ্রমিক কাজ করছে, তারা শেষ হয়ে যাওয়া। আর ক্যাজুয়ালটি তো আছেই।“
এই নকলকারীরা ‘মানুষ হত্যার জন্য দায়ী’ মন্তব্য করে ক্যাব সভাপতি বলেন, “আমরা কি একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করেছি? যে কোম্পানির নকল প্রোডাক্টের কারণে এত বড় ক্ষতি হয়েছে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে পেরেছি? এই সুশাসন প্রচণ্ড অনুপস্থিত।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা মানসম্মত পণ্য তৈরি করলে সারাবছরই ব্যবসা করতে পারবেন, রমজানের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে না।
“সারাবিশ্বে, এমনকি অমুসলিম দেশেও রোজায় পণ্যের মূল্য কমায়, কিন্তু আমরা কমাতে পারি না। আমাদের সেই নৈতিকতা, সৎ সাহস তৈরি হয় নাই। নীতি-নৈতিকতার অভাবে ব্যবসায়ীরা পণ্য নকল করছে। জনবল ও অবকাঠামোর অভাবে বিএসটিআই তাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কার্যক্রম চালাতে পারছে না।”
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলমের সভাপতিত্বে সভায় বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর বক্তব্য দেন।